 |
গণজাগরণ চত্বর থেকে: শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরের গণআন্দোলনে টানা অংশ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ব্লগার, কার্টুনিস্ট ও ছড়াকার তারিকুল ইসলাম শান্ত।
প্রয়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তার মরদেহ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আনা হবে। সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে তার প্রথম নামাজে জানাজা। এরপর পরিবারের সম্মতিক্রমে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।
অভিনেতা ও তারিকুল ইসলাম শান্তের সহকর্মী রিপন রাফী জানান, সোমবার বিকেল ৩টায় শিল্পী, পরিচালক এবং প্রযোজকদের নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের গণজারণ চত্বরে আসেন শান্ত। সেখানে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এ সময় তার মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে গণজাগরণের অস্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে তার সহকর্মী ও অভিনেতা নিকুল বাংলানিউজকে জানান, তারিকুল ইসলাম শান্তর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি রাজধানীর নাখালপাড়ায় বসবাস করেন।
প্রয়াত শান্তর লাশ সাময়িকভাবে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “শান্ত একজন ভালো নাট্যকারও ছিলেন। তার লেখা ৩০টির বেশি নাটকে আমি অভিনয় করেছি। আমরা তার মৃত্যুতে শোকাহত।”
ব্লগার ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, “গণআন্দোলনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আমরা তিনজন সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমরা তাদের ত্যাগ কখনো ভুলবো না। এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে আমরা তা গণআন্দোলনের কাজে লাগাবো।”
শান্তর মৃত্যুর ঘটনায় ৫টা ৫৯ মিনিট থেকে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় গণজাগরণ চত্বরে।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
এসএনএইচ/এমএস/ সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com