চট্টগ্রাম : বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালে কোনো প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কর্মচঞ্চল ছিল কাস্টমস হাউস।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি রফতানি শাখাসহ সব বিভাগে কাজকর্ম ছিল স্বাভাবিক। সব বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বলেও জানান তারা।
বৃহস্পতিবার হরতাল চলাকালে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, আমদানি ও রফতানিকারকদের পক্ষে বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করতে সকাল থেকেই নোটিং করতে আসেন সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টরা।
আমদানি-রফতানি ও রাজস্ব বিভাগেও অন্যান্য দিনের মতোই ভিড় দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, অন্যান্য দিনের মতোই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কাজ চলেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমদানি রফতানিসহ সব শাখায় স্বাভাবিক কার্যক্রম হয়েছে। হরতালের কোন প্রভার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে পড়েনি।
মাহমুদুল হাসান জানান, স্বাভাবিক কর্মদিবসে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে আমদানি, রফতানি ও সিইপিজেড শাখায় বিল অফ এন্ট্রি নোটিং হয় আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৮শ’।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত আমদানি শাখায় ৪০২টি, রফতানি শাখায় ১ হাজার ৯১৬টি ও সিইপিজেড শাখায় ৪২৩টিসহ মোট ২ হাজার ৭৪১ বিল অফ এন্ট্রি নোটিং হয়েছে।
এআইআর শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, কাজের চাপ অন্যান্য দিনের মতোই। হরতাল হলেও স্বাভাবিক কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরেজমিন দেখা গেছে, পণ্য খালাস নিতে এআইআর শাখা থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে সিএন্ডএফ এজেন্টদের দীর্ঘ লাইন।
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা অরিন্দম চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, হরতাল হলেও চট্টগ্রাম কাস্টমসে কোনো প্রভাব পড়ে না। কারণ যে করেই হোক আমদানিকারকরা চান তাদের পণ্য খালাস নিতে।
এছাড়া হরতালের অজুহাতে কোনো কাস্টমস কর্মকর্তা কর্মচারী অফিসে অনুপস্থিত থাকতে পারেন না। ফলে হরতাল হলেও কাজ সমানভাবেই চলে।
তিনি বলেন, ‘হরতালের দিন প্রয়োজনে আমরা রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করবো।’
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বাংলানিউজকে বলেন, হরতালের কোনো প্রভাব চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার সারাদিনই কর্মচঞ্চল ছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চলেছে। সিএন্ডএফ এজেন্টরা কোন ঝামেলা ছাড়াই কাজ করতে পেরেছে। ব্যাংক খোলা থাকায় টাকা জমা করতেও কোনো সমস্যা হয়নি।
এদিকে হরতাল হলেও চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানামার কাজ ছিল স্বাভাবিক। পণ্য লোড-আনলোডও হয়েছে। তবে দূর থেকে আসা গাড়ি সন্ধ্যার পর বন্দর ত্যাগ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদউদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ১৮টি ও জেটিতে ১৫টি জাহাজে কাজ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হরতাল হলেও অন্যান্য দিনের মতোই বন্দরে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে। খালাসও অন্যান্য দিনেরও মতো হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময় : ১৭৪০ ঘণ্টা, মে ১৭ ২০১২
এমইউ/
সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর