 |
শাহবাগ থেকে: খোঁজ মিলেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইদ্রিস আলীর। বর্তমানে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। এর আগে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের ছোঁড়া জলকামানের গরম পানি নাকে ঢুকে তার মৃত্যু হয় বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিলো।
ইদ্রিস আলীর খোঁজ পাওয়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষকরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। তবে ইদ্রিস আলী ছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলে ভর্তি আরও চার আহত শিক্ষকের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এছাড়া দু’জন পুলিশেরও অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে পুলিশি বাধার মুখে কেন্দ্রীয় গণ-গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেওয়া হাজার হাজার শিক্ষকের অনেকেই রাস্তায় শুয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখানেই অবস্থানের দাবি তুলছেন।
যদিও আন্দোলনরত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিকেল তিনটায় লাগাতার অনশনের ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টে যাওয়ায় বিকেল সাড়ে চারটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তেমন কোন ঘোষণা আসেনি।
এর আগে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মিছিলে ছোঁড়া জলকামানের গরম পানি নাকে ঢুকে ইদ্রিস আলীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা মনসুর আলীসহ ১৫/২০ জন শিক্ষককে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়শিক্ষকদের তরফে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে উভয় অভিযোগই অস্বীকার করা হয়।
চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে স্মারকলিপি নিয়ে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওয়ানা হয়। কিন্তু শাহবাগ মোড়ের কাছে কেন্দ্রীয় গণ-গ্রন্থাগারের সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
এ সময় শিক্ষকরা ব্যারিডেক ভাঙার চেষ্টা চালালে জলকামান ছোঁড়ে পুলিশ। করে লাঠিচার্জও।
পুলিশি বাধার মুখে সেখানেই অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এক পর্যায়ে পুলিশের রমনা জোনের এডিসি আনোয়ার হোসেন তাদের বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধি এখানে আসবেন না। শিক্ষকদের মনোনীত প্রতিনিধিকেই স্মারকলিপিসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌছে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’
কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষকরা পুলিশের ওই আহবান নাকচ করে দেন।
দুপুর ২টা নাগাদ ব্যারিকেড ডিঙিয়ে শিক্ষকদের একাংশ শাহবাগ মোড়ে চলে এসে মূল সড়ক অবরোধেরও চেষ্টা চালায়। তবে লাঠিপেটা করে তাদের শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
এ সময় দিনাজপুর জেলা বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলামসহ কমপক্ষে ৫/৬ জন আহত হন।
উল্লেখ্য, চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের পৃথক চারটি সংগঠন সোমবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। কিন্তু বিকেল ৫টা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় রাতে শহীদ মিনারে অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় বেসরকারি শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩২ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর