 |
ঢাকা: দীর্ঘদিন ধরে সূচকের পতন ও লেনদেনে ধীরগতি থাকার পর চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই উভয় এক্সচেঞ্জে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে।
তবে বাজারের হঠাৎ এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে মূলত ২টি কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজের বিনিয়োগকারীদেরে সঙ্গে কথা হলে তারা এই দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।
বিনিয়োগকারীদের মতে, গত বুধবার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ৪৫৮তম (জরুরি) সভায় বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ প্রদান সংক্রান্ত আইনের দুটি ধারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ২হাজার ৫’শ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনই বাজার উর্ধ্বমুখীর কারণ।
মডার্ন সিকিউরিটি হাউজের বিনিয়োগকারী বেলাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ‘বাজার উর্ধ্বমুখী হওয়ার পেছনে বুধবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ প্রদান সংক্রান্ত আইনের যে দুটি ধারা বাতিল করেছে সেটি প্রধান ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসইসি’র এমন সিদ্ধান্তের ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন তালিকাভুক্ত হওয়ার ও ক্যাটাগরি পরিবর্তনের প্রথম দিন থেকেই মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ ওইসব শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণ প্রদান করতে পারবে।’ এটিই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
শাকিল রিজভী সিকিউরিটিজ হাউজের বিনিয়োগকারী রেজওয়ান মোল্লা বাংলানিউজকে জানান, ‘গত বুধবার মার্জিন ঋণ দেওয়া নিয়ে আইনের যে দুটি ধারা বাতিল করেছে তার জন্য আজ বৃহস্পতিবার বাজার উর্ধ্বমুখী।’
পাশাপাশি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) যে সহায়তার দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে তার ইতিবাচক প্রভাবও আজ বাজারে পড়েছে বলে ওই বিনিয়োগকারী জানান।
ৠাপিড সিকিউরিটিজের মিরপুর শাখার বিনিয়োগ করেন নূর এ আলম সিদ্দিক। তিনি বলছিলেন, আজকে বাজার উর্ধ্বমুখী। এটা স্থিতিশীল রাখতে হবে। যদি আবার কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে কোনো চক্র কারসাজি করছে।
এসইসি ও ডিএসই’র কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়েরও দাবি জানান তিনি।
এছাড়া মতিঝিলে রয়েল সিকিউরিটিজ, এআরসি সিকিউরিটিজ, স্কয়ার সিকিউরিটিজ, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, ব্রাক ইপিএল, আজম সিকিউরিটিজসহ বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ ঘুরে বাজার উর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাজ থেকে একই রকম তথ্য পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন: মার্জিন লোন দিতে এসইসি’র উদ্যোগ, এডিবি’র সহায়তা, পদ্মা সেতু নিয়ে বাজারে ইতিবাচক খবরসহ আরো অনেক কিছু।
এছাড়া গত কয়েকদিন যাবত বাজারে সূচকের একটানা পতন হওয়ায় কিছু ইতিবাচক খবরে বিনিয়োগকারীরা সম্মিলিত অংশগ্রহণ করছেন বলে বিশ্লেষকরা জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সিকিউরিটিজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলানিউজকে জানান, গত কয়েকদিন যাবত কম দামে শেয়ার কিনে সামান্য লাভ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর এর পেছনে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাস্থাই প্রধাণ কারণ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ডিএসইতে সূচক বেড়েছে ১৯৫ পয়েন্ট এবং লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২’শ কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে সিএইতে সূচক বেড়েছে ৩৩৬ পয়েন্ট এবং লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি টাকার কিছু বেশি।
বাংলাদেশ সময়: ১২৫৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১২
এসএনএইচ/সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর eic@banglanews24.com