 |
আরজে হিসেবে মিডিয়ায় পা রাখা জনপ্রিয় অভিনেত্রী নওশীন এ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন টিভি নাটকের শুটিং নিয়ে। এবারের ঈদের এক ডজনেরও বেশি নাটকে তিনি অভিনয় করছেন।
সারা বছর টিভিচ্যানেলগুলো জোর দেয় ধারাবাহিক নাটক প্রচারের প্রতি। ঈদ এলেই তোড়জোর শুরু হয় একক নাটকের। এতো চ্যানেলের এতোসব নাটক, সেই তুলনায় শিল্পী কই! ঈদে তাই প্রতিষ্ঠিত তারকাদের নিয়ে পড়ে পায় টানাটানি। ঈদের প্রায় দুই মাস আগে থেকেই এবার নওশীনের কাছে আসতে শুরু করে নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব। এবারের ঈদে প্রায় অর্ধশত নাটকে অভিনয় প্রস্তাব আসে নওশীনের কাছে। সেখানে থেকে বাছাই করে এক ডজনের মতো নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করছেন তিনি।
ঈদের নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় প্রসঙ্গে নওশীন বাংলানিউজকে বলেন, “অভিনয়টা আমি আরম্ভ করেছিলাম শখের বশে। এখন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। কোনো নাটকের প্রস্তাব এলে শুরুতে দেখি স্ক্রিপ্ট আর চরিত্র।
এরপর জোর দেই টাকার প্রতি। উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও কাজ শেষে তা পাওয়ার নিশ্চয়তা পেলে অভিনয় করতে রাজি হয়ে যাই। এমনিতে বছরজুড়ে খুব অভিনয় না করলেও ঈদের সময় বেড়ে যায় ব্যস্ততা।”
নওশীন আরো বললেন, “কাজের মাঝেই সবসময় আমি খুঁজে পাই আনন্দ। একটা ভালো নাটকে ভালো চরিত্রে কাজ করলে তৃপ্তি লাগে। আমার আবার একটা প্যাশন আছে। নিজের অভিনীত নাটক দেখতে মিস করি না। ঈদের আনন্দ অনেক বেড়ে যায়, যখন সবার সঙ্গে বসে নিজের অভিনীত নাটক দেখি। তাই ঈদ এলে পরিশ্রম একটু বেশি হলেও চেষ্টা করি নাটকের সংখ্যা বাড়াতে।”
এবার ঈদের ডজন খানেক নাটকের শুটিং এরই মধ্যে শেষ করেছেন নওশীন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘শেষ রাতের বৃষ্টি’, ‘নোনতা চা’, ‘একাকী গাঙচিল’, ‘অনুক্ষণে অনুভবে’, ‘পলাতক’ প্রভৃতি। আরো কয়েকটি নাটকের কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহও ঈদের নাটকের শুটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। এরপর কয়েকটি চ্যানেলের ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য স্টুডিওতে সময় দেবেন বলে জানালেন নওশীন।
একসঙ্গে বেশি নাটকে অভিনয় করলে কাজের গুণগতমান কী ঠিক থাকে? এ প্রশ্নের উত্তরে নওশীন বললেন, “আসলে এটা নির্ভর করে স্ক্রিপ্ট আর নির্মাতার ওপর। একই রকম চরিত্র হলে পারফর্মারের উপর প্রভাব পড়ে যাবার সম্ভাবনা অবশ্যই থাকে। আর এ কারণে আমি সবসময় বৈচিত্রময় চরিত্রে অভিনয়কে প্রাধান্য দেই। নানারকম ব্যস্ততার মধ্যেও আমি যখন যেটা করি তা পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে করার চেষ্টা করি। ঈদের অনেকগুলো নাটকে কাজ করলেও প্রতিটি চরিত্র আলাদাভাবে বুঝে-শুনে অভিনয়ের চেষ্টা করেছি।”
এই তো গেল নওশীনের ঈদের নাটক, এ মুহূর্তে সম্প্রচার হতে থাকা তিনটি ধারাবাহিক নাটক ‘চৌধুরী ভিলা’, ‘ছায়াবৃতা’ ও ‘ক্ষণিকালয়’-এ অভিনয় করছেন তিনি। এ তিনটি ধারাবাহিকই আগের করা। ঈদের আগে নতুন কোনো ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। আগামীতে ধারবাহিক নাটকে অভিনয় কমিয়ে দেবেন বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে নওশীন বলেন, “এখনকার ধারবাহিক নাটকগুলোর বেশিরভাগের পর্ব সংখ্যা ৫০-এর উপরে। এরকম লম্বা ধারবাহিকে কাজ করলে একধরনের বাইন্ডিংসের মধ্যে পড়ে যেতে হয়। সিরিয়ালের শিডিউল ঠিক রেখে উপস্থাপনা ও একক নাটকের জন্য সময় বের করা অনেকসময় কঠিন হয়ে ওঠে। অথচ আমি উপস্থাপনা করেই বেশি আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কিন্তু একসঙ্গে কয়েকটি ধারাবাহিক অভিনয় করতে গেলে সবদিকেই প্যাঁচ লেগে যায়, শেষে কোনোটাই ভালোভাবে করা যায় না। তাই আগামীতে ধারাবাহিক নাটকে খুব বেশি অভিনয় করবো না বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী নওশীনের এরই মধ্যে অভিষেক হয়েছে চলচ্চিত্রে। দুটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘সোয়াচান পাখি’ ও ‘হ্যালো অমিত’ নামের ছবি দুটি বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে। প্রথম ছবিতে তার বিপরীতে রয়েছে আনিসুর রহমান মিলন, দ্বিতীয়টিতে তার সহশিল্পী হলো হিল্লোল। চলতি বছরেই ছবি দুটো মুক্তি পাওয়ার কথা।
বাংলাদেশ সময় : ১৮৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৮, ২০১২
সম্পাদনা: বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক/আরআর