‘চলচ্চিত্রে কাজ করছি প্রায় বিশ বছর ধরে। অনেক রকম ছবিতেই অভিনয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এতোদিন ধরে কাজ করলেও মুক্তিযুদ্ধের কোনো ছবিতে অভিনয়ের সৌভাগ্য হয়নি আমার। দীর্ঘ অপেক্ষার এবার অবসান হলো।’ এভাবেই ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী বাংলানিউজকে বললেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘সোহাগপুর’-এ অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা।
মুক্তিযুদ্ধের একটি সত্য ঘটনা নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘সোহাগপুর’ ছবিটির গল্প। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া হৃদয়স্পশী কিছু ঘটনা ছবিতে তুলে ধরা হচ্ছে। গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষা এ গ্রামে ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই ঘটেছিল ভয়াবহ গণহত্যা। রাজাকার-আলবদর বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদ ও অংশগ্রহণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ছয় ঘণ্টা নির্বিচারে গুলি করে ১৮৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে সবাই পুরুষ। পাকিস্তানি সেনারা একসময় চলে যায়। পেছনে ফেলে যায় লাশ আর লাশ।
‘সোহাগপুর’ গ্রামে সেসময় যতো পুরুষ ছিল সবাইকে হত্যা করা হয়েছিল। অন্যরা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন দূর-দূরান্তে। সোহাগপুরের নারীরা ১৮৭টি লাশ নিয়ে বিপদে পড়ে যায়। কীভাবে লাশগুলোর সৎকার করবে, তারা ভেবে পায় না। এমনই এক নারী চরিত্রে ছবিতে অভিনয় করছেন মৌসুমী।
মৌসুমী জানান, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ‘সোহাগপুর’ ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে। ঢাকা ও শেরপুরের নলিতাবাড়িতে ছবিটির শুটিং হবে। প্রথমদিন থেকেই তিনি শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। ছবিতে অভিনয়ের জন্য মৌসুমী এরই মধ্যে নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছেন। এতে মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করছেন ফেরদৌস। ছবিটি পরিচালনা করছেন মামুন-উর-রশিদ।
প্রায় দুই দশক ধরে ঢালিউডে নিবেদিত আছেন মৌসুমী। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালনাতেও তা হাতেখড়ি হয়েছে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে পৌছে তিনি বেছে বেছে কাজ করছেন। মৌসুমী অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘প্রজাপতি’ মুক্তি পেয়েছিল গতবছর। বর্তমানে তার তিনটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় আছে তিনটি ছবি। ছবিগুলো হলোÑ ‘দেবদাস’, ‘এক কাপ চা’ ও ‘সৌভাগ্য’।
বাংলাদেশ সময় ১৭১০, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১২ সম্পাদনা : বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।