 |
বনমুরগী
তোমার বুকে মুখ রেখে সমর্পিত হয় বন
উদাসী হয়ে উঠে ক্ষণিক চেতনায় বহু মনলতা
পালকের আলপনা গুলো হয়ে উঠে আরো মসৃণ বাসনাময়
বনের খাঁজে আঁকা তোমার শ্যামাঙ্গি মুখ দেখে বন কি মনেতে পাগল
সেগুন পাতার কষ দিয়ে তোমাকে আঁকতে গিয়ে বুঝেছি
সখী ভালোবাসার রঙ কত প্রকার ও কি কি
তুমি এক বনমুরগী ডানার আলপনায় আঁকো স্বপ্ন
তবুও আঁকোতো স্বপ্ন, স্বপ্নছাড়া বাঁচা যায় না
তোমার ভেতর যে ভাষা কথা বলে, তুমি যে ভাষায় কথা বলো
সে কি তোমার মনের কথা, দেখো, অরণ্যের নিরবতা আমার কত কাছে
বাতাসে উড়ে তোমার পালক, কুয়াশায় ভরে যায় ভোর
তোমার বুকে পাহাড়ের আর্দ্রতা, এই হলো সময়ের দস্তানা
বনের বাস্তবতা হলো পাথর বৃক্ষ শীত পাখি ও প্রাণী
কেউ কেউ বনমোরগ, কেউ কেউ বনমুরগী
বৃক্ষের ডালে ডালে জড়িয়ে আছে তাদের নিয়তি
ঋতু গুলো কেন তুমি ধার দিয়ে দাও
যখন আমি সূর্য তখন সম্মোহিত আলোর ভেতর সময় বয়ে যায়
সে সময় আমার অপেক্ষা করতে হয় না কোথাও
কিন্তু বাস্তব এত কঠিন চন্দ্র সূর্য গ্রহতারা কারো ধার ধারে না
তুমি স্বপ্নের রেখায় রেখায় ভাসাও যখন মন
তখন কেউ না কেউ রক্তাক্ত হয় দূরের গহনে
স্বজন পরিজনহীন কে সে স্বজন, যে পান করছে স্বনির্মিতি
কে সে কে, তোমার বুকে ক্ষণিকের অতিথি
তুমি কি তৃপ্ত, সব ক্ষত দেখা যায় না, সব জখমও
একটি দুপুর গড়িয়ে গেল তোমার ত্বকের ভেতর
কৃষিবীজ নষ্ট করে কে হাইব্রিড বীজ বুনে
তাকে চিহ্নিত করতে না পারলে
বাস্তব তোমার কাছে আরও কঠিন হয়ে উঠবে
তুমি আরও বেশি রক্তাক্ত হবে, সে কি তুমি চাও, চাইতে পারো
সময় বদলে গেছে বলে কে চিল্লায়, দেখতো, কাণ্ডটা কি
ঋতু গুলো কেন তুমি ধার দিয়ে দাও।
মোক্তার পাগলা
সময়কে শাসন করার অধিকার কে দিয়েছিল তোমাকে
মোক্তার পাগলা, কেন সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে হাঁটতে হাঁটে বাজারে
তুমি কাদের পথ দেখাতে কিংবা কাদের দেখাতে শিশ্ন
যারা কাপড়ে ঢাকা থাকে তাদের?
তাদের কোন বোধোদয় হবে না জেনেও কেন হাঁটতে একা একা
সব দস্তানায় অহংকারে ভরা সামন্তীয় অবগাহনে ছেয়ে আছে
কার কাছে তুমি দর্শনের কথা বলতে
মোক্তার তোমার মতো তোমার বন্ধু মালিক সোবহানও নিরুদ্দেশ
এই আকাশ ছেয়ে গেছে মূর্খদের আড্ডায়
তুমি কাকে জ্ঞান শেখাতে চেয়েছিলে
বুদ্ধের পর তুমি কী করতে পারতে এই জনপদে
ডুলা ফকিরের পর কী করতে পারতে তুমি
মোক্তার, তুমি কী করতে পারতে এই প্রথম আসমানে
আকাশ ঢেকে আছে হিংসা ও অহংকারের বারুদে
ঘর
বাতাস বয়ে যাচ্ছে সময়কে অতিক্রম করে
দিন ও রাত সেলাই করছে অদৃশ্য সূতো
কেউ দেখছে, কেউ দেখছে না
বৃক্ষের গিটারে বাজছে পাতার মর্মর
তুমি পান করছো ফুলের গন্ধ বর্ণময় সুবাস
এই পথে আমি বয়ে নিয়ে গেছি কত কাঠ
কথা বলতে বলতে দেখেছি সমাজের বিকাশ
কাঠ দিয়ে তৈরি করেছি অসুখের ঘর।
পৃথিবীর প্রথম প্রার্থনা
কিছুতেই বুঝানো গেল না হাওয়াকে, মানে নারীকে, ফল খাওয়া জরুরি না
তবু সে ফল খেয়েছে, পৃথিবী বহু দূরত্বের পথ পাড়ি দিতে হলো তাদের
বাতাস যেখানে তাদের আশ্রয় দিলো সে মাটি বুকে নিয়ে পড়ে থাকল রাত
অন্ধকার ভেদ করে ঢুকলো আলো, নত হলো তারা আলোর গহীনে
আদম আমি পৃথিবীর পথে পথে ঘুরি নগ্ন উদোম, হাওয়াও কি নগ্ন উদোম,
খুঁজি আবেহায়াত। দিন ও রাত কত ছোট নির্ণয় করতে শিখিনি
আদম রক্তাক্ত করেছি হাওয়াকে পৃথিবীর প্রথম কুমারীত্ব বিসর্জিত হলো,
এই প্রথম শিখলো নারী ও পুরুষ রক্ত ছাড়া কোন পূণ্যই সমাপ্ত হয় না।
পৃথিবীর প্রথম প্রার্থনা ছিল নারী ও পুরুষের মিলন এবং রক্ত দিয়ে জড়ানো
অন্ধকার অনুকে কোষের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে জ্বলতে থাকলো আলো
এবং জ্বলতে থাকলো আলো।
যে বৃক্ষ বাজায় গিটার
যে বৃক্ষ বাজায় গিটার সে বৃক্ষ কি নারী
যে বৃক্ষ বাজায় গিটার সে বৃক্ষ কি পরী
শেকড়ের ভেতর রক্ত চলাচল ও প্রাণ লুকিয়ে রেখে
স্বপ্নকে বাঙ্ময় করে তুলতে পারে আদম ও হাওয়া
তুমি হাওয়া, জ্ঞানের কাছে তোমার অনেক ঋণ আছে
তুমি আদম নারীর কাছে তোমার অনেক প্রলুব্ধ হওয়ার সুযোগ আছে
কিভাবে তুমি হেঁটে যাবে সে নারীর কাছে
কিভাবে ছুঁবে তুমি সে সুরের মূর্ছনা এবং কিভাবে কোলে নেবে তাকে
সুর বিস্তৃত হচ্ছে বাতাসের ডানা বেয়ে
সময় মুগ্ধ বৃক্ষের আঙুল থেকে ঝরছে কষ্ট ব্যথা ক্ষরণ অজস্র দ্বীর্ঘশ্বাস
সময় ক্ষুব্ধ বৃক্ষের বুক থেকে ঝরছে ক্ষীর কষ দ্বীর্ঘশ্বাস
তবুও বৃক্ষ বাজায় গীটার বৃক্ষের বুকে দেখো ঝরে অনন্ত হাহাকার
বুদ্ধ ও অশোক
বুদ্ধও অশোক দুই বোধিবৃক্ষ জ্ঞানের রাজ্যে সঁপে দিয়েছিল দুই হৃদয়
বোধিবৃক্ষতলে আকাশ যে দূরত্ব রচনা করে রেখেছে
তাকে ঢেকে দিতে চেয়েছিল দুই অনার্য রাক্ষস, হতে চেয়েছে প্রবুদ্ধ মানুষ
যারা তাদের রাক্ষস হিসেবে চিহ্নিত করে মানুষ হতে চেয়েছিল
তাদের ইতিহাস কেউ জানে না
প্রকৃতি হতে চেয়েছিল বলে প্রকৃতি মানুষ হয়েছে
মানুষ খুলেছে প্রকৃতির দরোজা, উন্মোচন করেছে পর্দা
বুদ্ধ হয়েছে মানুষের হৃদয়, হৃদয় হয়েছে বুদ্ধ
পৃথিবীকে জাগিয়ে দিয়ে বোধিবৃক্ষতলে শুয়ে আছে অশোক ও বুদ্ধ।
বাংলাদেশ সময় : ১৭২৭ ঘণ্টা, ২৮ নভেম্বর ২০১২