 |
ঢাকা: অবশেষে টান টান অপেক্ষা, সীমাহীন উদ্বেগ আর উত্তেজনার পারদ গললো। পশ্চিমা দুনিয়ার ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করলো ইকুয়েডর সরকার। জুলিয়ানের বন্দীজীবনে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। আবারও গোটা দুনিয়ার চোখ ঘুরে গেল জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের দিকে।
সম্প্রতি সুইডেনের কাছে নিজের প্রত্যর্পণ-ঝুকিঁ এড়াতে ব্রিটেনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। এরপর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে সেখানেই অবস্থান করছিলেন এই দুনিয়াকাঁপানো তরুণ।
গত বুধবার ব্রিটেন প্রশাসন অ্যাসাঞ্জকে আটক করতে ইকুয়েডর দূতাবাসে অভিযান চালানোর হুমকি দেওয়ার এক দিন পর লাতিন আমেরিকার দেশটি এই সাহসী ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তটি নিল। প্রমাণ হলো, একা নন জুলিয়ান।
ইকুয়েডর সরকার মনে করছে, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটতে পারে।
এ ব্যাপারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিকার্দো পাতিনো বলেছেন, যুক্তরাজ্য অ্যাসাঞ্জকে ধরতে দূতাবাসে প্রবেশের সরাসরি হুমকি দিয়েছে।
অ্যাসেঞ্জের আবেদন মঞ্জুরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে তিনি বলেন, তার দেশ মনে করে অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি ‘আইন সঙ্গত’।
তিনি আরো বলেন, কেউ অরক্ষিত হয়ে পড়লে তাকে রক্ষা করার যে ঐতিহ্য তার দেশের রয়েছে তারা তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তবে এ সিদ্ধান্তে ব্রিটেনের সঙ্গে তার দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কোনো হানি হবে না বলেই তার দেশ বিশ্বাস করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, যৌন হয়রানির মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে ব্রিটেনের সুপ্রিমকোর্টের সুইডেনে প্রত্যর্পণ আদেশ এড়াতে গত জুনে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।
অ্যাসাঞ্জের ভয় তাকে সুইডেন পাঠালে সেদেশের সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবে। আর সেখানে পাঠালে তাকে মেরে ফেলা হবে।
বিপুল পরিমাণ গোয়েন্দা নথি ও গোপন কূটনৈতিক বার্তা ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে অ্যাসাঞ্জকে তারা বিচারের মুখোমুখি করবে বলে জানিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com