 |
অ-কামসূত্র
সূত্রহীনতায় তীব্র কাম নাচে দেহে।
বীর্য লোভাতুর— বিষ ছায়া দেহ বেয়ে।
আনত মস্তক আবহ জঙ্ঘার খাঁজে—
দৃষ্টি কাড়াকাড়ি রমনে ডমরু বাজে।
জিহ্বা স্বাদ নিক ভর্তি মধু চাক ভেঙে
মাথায় ধুতরা— তীক্ষ্ণ স্বাদ অনুভবে।
খননে অর্জুন— শিরাতে বিদ্যুৎ ছটা
কুর্চি ভাদু রাত— দগ্ধ কাম ঘনঘটা!
দিব্যি
গনগনে আগুনের চূল্লী আমার হাত, পা শরীরের সবটুকু না খেয়ে শুধু মাথাটা খেয়ে আমাকে আধপোড়া করে ফেলে রেখে গেছে। আমি পোড়া মন নিয়ে নদীর ঘাটে পা ডুবিয়ে বসে আছি। পাশে একটা মাটির ছোট্ট কলস। ওতে আমার নাভিটা রাখতে হবে। নাভি, আমার মা এর স্মৃতিচিহ্ন। সেই মা, যে কিনা ছোট থেকে মনের মধ্যে ঠুসে দিয়েছিলো নানা নীতিকথা। সেই মা, যে কিনা বলেনি আমার শরীরেরও কিছু চাওয়া থাকতে পারে। আগুনের তাপে আমার চোখের নিচে কালি। আমার পায়ের পাতায় নদীর জল এসে লাগছে। খুব ছোট ছোট ঢেউ। ঢেউগুলো কি জানে, আজ আমার মারা যাওয়ার দিন? আজ যদি নাভি না দিয়ে ওদের এই পোড়া মাথাটা দিয়ে দিই? নদী কি নরকে সেটা পৌঁছে দিতে রাজি হবে? মাথাটা খেয়ে আগুন যে আমায় মেরে ফেলে চলে গেল, ওকে কিছু বলার কেউ নেই। আমার পায়ে আলতা পরাবে বলে আমাকে বসিয়ে রেখে ছ’টা ঋতু পার করে দিলো দিব্যি। আমার কালি পরা চোখ দু’টো অনেকবার নিজেকে বেয়াব্রু করলো। বহুবার আমার দু’হাত মাথার ওপর তুলে চেপে ধরে আমাকে গিলে ফেললো আগুন। বন্ধ চোখে আমি তাকে অনুভব করলাম। কালো স্তনবৃন্তে দাঁতের দাগ, ঠোঁটে কালশিটে এঁকে দিলো সে। অবসন্ন সকালগুলোয় বন্ধ চোখ খুলে আমি হাতের মুঠোয় বাসি জুঁইফুলের গন্ধ পেলাম। আমার চোখের জলে তার রথের চাকা মাটিতে বসে গেল না— সে চলে গেল।
পোড়া মাথার দিব্যি— পরজন্মে আগুনখেকো হবো।
বাংলাদেশ সময় : ১৭১৭ ঘণ্টা, ২০ ডিসেম্বর ২০১২