 |
ঢাকা: বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ম্যধ্যে এখন ভূমিধসের ঘটনা বেড়েছে ভয়ানকভাবে। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যাচ্ছে, ভূমিধসে যতো মানুষের প্রাণহানি ঘটছে তা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।
যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটি একটি জরিপে দেখেছে, ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ভূমিধসে ৩২ হাজার ৩শ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
অথচ ধারণা করা হচ্ছিল, ওই সময়ে এ দুর্যোগে প্রাণহানি তিন হাজার থেকে সাত হাজারের বেশি হবে না।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তন, বন ধ্বংস, পাহাড় কাটা এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় মানুষের বসতি বেড়ে যাওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।
এ কারণে এ ভূমধিসকে একটি মারাত্মক বৈশ্বিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করেছেন গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ডেভিড পেটলি।
তিনি বলেছেন, “অত্যন্ত বন্ধুর, অতি বৃষ্টিপাত এবং মানুষের ঘনবসতিই ভূমিধসে বেশি প্রাণহানির প্রধান কারণ।”
এ জরিপটি টানা এক দশক ধরে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, হিমালয়ের পরিধির মধ্যে অবস্থিত ভারত, পাকিস্তান, ভূটান, নেপাল এবং বাংলাদেশে বেশিরভাগ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। চীন এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোও এ ধরনের বিপর্যয়প্রবণ।
সারা বিশ্বে বেশিরভাগ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে মৌসুমী বৃষ্টির কারণে। দেখা গেছে, ভয়াবহ ভূমিধসগুলো ঘটে মে থেকে অক্টোবরের মাঝের সময়টাতে।
এছাড়া, উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রবল বৃষ্টিপাত বয়ে আনার কারণে এশিয়ায় ভূমিধস ভয়াবহ রূপ নেয়। আর ক্যারিবীয় এবং মধ্য আমেরিকায় এর জন্য দায়ী মূলত সামুদ্রিক ঝড় হারিকেন।
অবশ্য ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে প্রাণহানির কোনো পরিসংখ্যান এ গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।
ভূমিধসের মতো ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বন ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি নির্মাণে নিরুৎসাহিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর