চট্টগ্রাম: ‘নির্বাচিত অনর পরে কি পাইয়ুম আর কি ন পাইয়ুম হিয়্যান ন বুঝি। জাবেদ সাব এমপি অইলেই আঁরা খুশি। তারে আঁরা এমপি হিসেবে দেখতাম চাইর।`
নির্বাচনে কাকে চান, প্রার্থীর কাছে প্রত্যাশা কী এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারা উপজেলা সদরে রিকশাচালক নির্মল বিশ্বাস মন্তব্য করেন।
এমন মন্তব্য কেবল রিকশাচালক নির্মলের নয়। আনোয়ারাবাসীর এখন একটাই চাওয়া, তারা যেন বাবুর যোগ্য ছেলে হিসেবে জাবেদকে এমপি হিসেবে দেখতে পান। আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কারো কাছেই কোন চাওয়া-পাওয়া নেই তাদের। তারা কেবল জাবেদকে বাবার নেতৃত্বের আসনে দেখতে চান।
তাইতো ষাটোর্ধ্ব মো. ওসমান বললেন, ‘ইবা বাবুর (আখতারুজ্জামান চৌধুরী) পোয়া ন, আঁরার পোয়া। ইবার কাছে দাবি নাই। তবে এলাকার আরো বেশি উন্নয়ন অইবো ইয়্যান আঁর বিশ্বাস।’
গত ৪ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুতে চট্টগ্রাম-১২(আনোয়ারা) আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
এরপর ৯ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ জানুয়ারি আনোয়ারা আসনের উপ-নির্বাচন হবে। ওই আসনে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার আনোয়ারা উপজেলা সদরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেন জাবেদ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, আনোয়ারা উপ-নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বাকি প্রার্থীরা হলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন আহমদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও আব্দুল আলিম জিলানি (স্বতন্ত্র)। এ ছাড়া জাপা (এরশাদ) তপন চক্রবর্তী ও গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক। ৩১ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন বলে জানান তিনি।
উপজেলা সদরের একটি চায়ের দোকানে কথা হয় মুক্তিযোদ্ধা বজল আহমেদের সঙ্গে। ৮ নম্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা এ মুক্তিযোদ্ধা বাংলানিউজকে বলেন, ‘যত জনই নির্বাচন করুক সবার চেয়ে জাবেদ যোগ্য। তাই আমরা তাকেই ভোট দেব। উনি (জাবেদ) শতভাগ সৎ ব্যক্তি। সততা ও যোগ্যতার দিকে থেকে তিনি সবার ঊর্ধ্বে।’
আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহাউদ্দিন খালেক শাহজী বাংলানিউজকে বলেন, ‘এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাবেদকে সমর্থন দিচ্ছেন। তারা তাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য মনোনীত করবেন।’
জাবেদ নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ও এলাকার উন্নয়নের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে একজন যোগ্য নেতা হিসেবে উঠে আসবে।’
দলের সবাই তাকে নির্বাচনে জয়ী করার জন্য একযোগে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
বিজয় প্রত্যাশী জাবেদ
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর উপস্থিত নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন জাবেদ। এ সময় দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দেওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।’
জাবেদ বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী হলে বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ শেষ করব। এর পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবারে তিনি বলেন, ‘জয়-পরাজয় মেনেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী।’
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পটিয়ার ৫টিসহ ১৬ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আনোয়ারা ১২ আসনের নির্বাচন আগামী ১৭ জানুয়ারী ৯০টি ভোটকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৭১ জন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০১২
এমইউ/এআরএম/টিসি