‘অভিনয়’ করেও শেষ রক্ষা হলো না উইনসনের
[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ আগস্ট ২০১৮
bangla news

‘অভিনয়’ করেও শেষ রক্ষা হলো না উইনসনের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৭-২২ ৭:৪৮:০১ পিএম
মাইসনাম উইনসন শিংক

মাইসনাম উইনসন শিংক

চট্টগ্রাম: ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসটিসি) এসবিবিএস শিক্ষার্থী ও ভারতীয় নাগরিক আতিফ শেখ হত্যার ঘটনায় তার বন্ধু মাইসনাম উইনসন শিংকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রোববার (২২ জুলাই) আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন বলে বাংলানিউজকে জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী। 

তিনি বলেন, অভিযোগপত্রটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান খানের আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিল আসামি মাইসনাম উইনসন শিং। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনার কিছুই তার মনে নেই দাবি করেছিল। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টে তার ‘অভিনয়ের’ বিষয়টি ধরা পড়ে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আতিফ শেখ হত্যায় মাইসনাম উইনসন শিং এর জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, সার্বিক তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিকটিমের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, সন্দেহভাজন আসামি গানঞ্জমাই নীরাজ ও সাক্ষীদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্তে স্ট্যান্ডিং মেডিকেল বোর্ডের মতামত ও ফরেনসিক ডিএনএ রিপোর্ট, অন্যান্য সাক্ষীদের সমর্থনমূলক সাক্ষ্য, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত জব্দকৃত আলামত পর্যালোচনায় এবং ঘটনার ক্রাইমসিন পর্যালোচনায় আসামি মাইসনাম উইনসন শিং পরিকল্পিতভাবে পূর্বের কোন বিরোধের জের ধরে আতিফ শেখকে ছোরা দিয়ে আঘাত ও গলা কেটে হত্যা করে। 

তিনি বলেন, আতিফ শেখকে হত্যার পর নিজের ব্যবহৃত প্যান্টের বেল্ট দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মাইসনাম উইনসন শিং।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিল আসামি মাইসনাম উইনসন শিং। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনার কিছুই তার মনে নেই দাবি করেছিল। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টে তার ‘অভিনয়ের’ বিষয়টি ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় সন্দেহভাজন আসামি গানঞ্জমাই নীরাজকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অভিযোগপত্রে আবেদন করেছি। 

গত বছরের ১৪ জুলাই গভীর রাতে আকবর শাহ থানার আব্দুল হামিদ সড়কের ছয় তলা একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আতিফ শেখ এবং মাইসনাম উইনসন শিংকে আহত অবস্থায় উইলসন উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে আতিফ শেখকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আতিফ শেখ ও উইনসন ইউএসটিসির এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। পরে ১৮ জুলাই বিকেলে আতিফের বাবা আব্দুল খালেক আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করেন।

২০ জুলাই পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান। এক বছর তদন্ত শেষে তিনি আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করলেন। 

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৭ ঘণ্টা, জুলাই ২২, ২০১৮
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa