[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জুলাই ২০১৮

bangla news

অন্যের জীবন ‘বাঁচাতে’ ছোটেন তারা

জমির উদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৭-১১ ৭:০১:২৩ পিএম
রোগীর অবস্থা অনুযায়ী দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান জরুরি বিভাগের কর্মচারীরা।

রোগীর অবস্থা অনুযায়ী দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান জরুরি বিভাগের কর্মচারীরা।

চট্টগ্রাম: উন্মুখ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ৮ জন মানুষ। হঠাৎ ভেসে এলো অ্যাম্বুলেন্সের ডাক। স্ট্রেচার নিয়ে দ্রুত বের হলেন দু’জন। গুরুতর আহত একজনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে গেলেন ইমারজেন্সি বিভাগে। চিকিৎসককে দেখিয়ে ভর্তি করালেন সার্জারি বিভাগে। তারা এ কাজটি করেছেন সবমিলিয়ে ৩ মিনিটের মধ্যেই।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগের প্রতিদিনের চিত্র এটি। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৪ জন কর্মচারী। যারা বাইর থেকে জরুরি বিভাগে রোগী আসলে দ্রুত স্ট্রেচার নিয়ে বের হন। পরে ওই রোগীকে স্ট্রেচারে শুইয়ে ডাক্তার দেখিয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেন।

বুধবার (১১ জুলাই) দুপুরে চমেক হাসপাতালে দেখা যায়, ইমারজেন্সি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন ১৮ জন কর্মচারী। এর মধ্যে ৮জন একেবারে ফটকঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন। কখন রোগী আসবেন সেই অপেক্ষায়। বাকিরা বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ডে রোগীর সেবা নিয়ে ব্যস্ত।

রোগীর অবস্থা অনুযায়ী দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান জরুরি বিভাগের কর্মচারীরা।সূত্র জানায়, দায়িত্ব পালন করা ৫৪ জন কর্মচারী পালা অনুযায়ী কাজ করেন। সকাল, বিকেল ও রাত তিন পালায় ১৮ জন করে দায়িত্ব পালন করেন।

৪৫ বছর বয়সী পিন্টু চৌধুরী। ২০০৬ সাল থেকে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাজ করছেন। 

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এ কাজে অনেক সুখ আবার দুঃখও। তখনই খুশি লাগে, যখন গুরুতর আহত কেউ আসার পর দ্রুত ডাক্তারের কাছে নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠে। দুঃখ তখনই, যখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে যেতে স্ট্রেচারেই কারও মৃত্যু হয়।

পিন্টু চৌধুরী এ পেশায় আসার পেছনে একটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৫ সালের এক রাতের কথা। আমার এক নিকটাত্মীয় হার্ট অ্যাটাক করলে দ্রুত এক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু হাসপাতালে আধঘণ্টা ধরে কোনো কর্মচারীকে পাইনি। পরে পেলেও ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানান-একটু আগে আসলে রোগীকে বাঁচানো যেত।

সেই থেকে রোগীর পাশে থাকতে চমেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কাজ করছেন বলে জানান পিন্টু চৌধুরী।

জগদীশ সিং নামে আরেক কর্মচারী বলেন, হাসপাতালের অন্য সব ওয়ার্ডের মধ্যে জরুরি বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমাদের একটু অবহেলায় কোনো আশঙ্কাজনক রোগীর মৃত্যু হতে পারে। তাই পালা অনুযায়ী দায়িত্ব থাকলে কাজে কোনো অবহেলা করিনি। গুরুতর আহত বা ইমারজেন্সি রোগী আসলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।

জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, অন্য কর্মচারীর চেয়ে তারা একটু ভিন্ন। আমরা-তো তাদের রোগী বাঁচানো কর্মচারী বলি। কারণ অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ শুনলেই তারা টিকিট নিয়ে নেয়। তারপর রোগীর অবস্থা অনুযায়ী তারা দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. দীপংকর বাংলানিউজকে বলেন, ইমারজেন্সি রোগীরা তাড়াতাড়ি চিকিৎসাসেবা পেলে প্রায় সময় আশঙ্কামুক্ত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে রোগীদের দ্রুত আনা-নেওয়ার কাজে তাদের অবদান অনেক।

চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, জরুরি বিভাগকে আরও গতিশীল করা হবে। আরও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ এ বিভাগে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে কাজ করতে হয়। একটু হেরফের হলে রোগীর মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা বেশি। 

বাংলাদেশ সময়: ১৭২০ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০১৮
জেইউ/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa