[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ এপ্রিল ২০১৮

bangla news

গণহত্যার স্মৃতিস্তম্ভ তৈরিতে ‍বাধা ‘অর্থ’

সুবল বড়ুয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০১-১৩ ৯:৪৯:৫১ পিএম
চট্টগ্রাম গণহত্যার প্রস্তাবিত স্মৃতিস্তম্ভের নকশা

চট্টগ্রাম গণহত্যার প্রস্তাবিত স্মৃতিস্তম্ভের নকশা

চট্টগ্রাম: স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির একটি উদ্যোগ অর্থের অভাবে আলোর মুখ দেখছে না। ৩০ বছর আগের এই ঘটনা ইতিহাসের পাতায় নির্মম গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গত নয় বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য মন্ত্রী-এমপিদের কারও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

সূত্রমতে, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এই সংগঠনের তহবিল থেকে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন।  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর ও নগর আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জহরলাল হাজারীকে প্রকৌশলীর মাধ্যমে স্মৃতিস্তম্ভের নকশা প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

গণহত্যার বছরপূর্তি অর্থাৎ এই বছরের ২৪ জানুয়ারি স্মৃতিসম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মহিউদ্দিন।  কিন্তু এর আগেই মহিউদ্দিনের জীবনাবসান হয়েছে।  এই অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদের তহবিল থেকে টাকা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সূত্রমতে, স্মৃতিস্তম্ভ তৈরিতে অর্থায়নের একটি প্রস্তাব জহরলাল হাজারী সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামকে দিয়েছেন। সিডিএ চেয়ারম্যান চিন্তাভাবনা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন। 

এছাড়া জহরলাল হাজারী মহিউদ্দিনের ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গেও এই বিষয়ে কথা বলেছেন।  নওফেলও অর্থ সংস্থানের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। 

বাবার অবর্তমানে নওফেল এখন মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

জানতে চাইলে জহরলাল হাজারী বাংলানিউজকে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে একটি নকশা তৈরি করেছি।  প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।  মহিউদ্দিন ‍ভাই বেঁচে থাকলে কাজটা হয়ে যেত।  এখন একটু সমস্যা হয়েছে।  নওফেল ভাইকে বলেছি।  সিডিএ চেয়ারম্যান মহোদয়কেও বলেছি।  উনারা দেখবেন বলেছেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বাংলানিউজকে বলেন, জহরলাল আমার কাছে একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।  এই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরীর লালদীঘি ময়দানে জনসভায় যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলি চালায় পুলিশ।  এতে ২৪ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।  

এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটির বিচার চট্টগ্রামের একটি আদালতে এখনও চলছে।

‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ নিয়ে একটি গ্রন্থের লেখক জেষ্ঠ্য সাংবাদিক নিরুপম দাশগুপ্ত বাংলানিউজকে বলেন, শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলির ঘটনা সেদিনের আন্দোলনে বারুদ ঢেলেছিল। ২৪ জনের প্রাণের বিনিময়ে আন্দোলনে যে গতি এসেছিল, সেই দুর্বার আন্দোলনের স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল।  এই গণহত্যার ৩০ বছর পর একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির উদ্যোগ মাত্র ২০ লাখ টাকার অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়া খুবই দু:খজনক।  জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য লজ্জার।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

এসবি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa