[x]
[x]
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

bangla news

রেলের ইঞ্জিন সংকটে পরিবহন ব্যবস্থায় বিপর্যয়

মো.মহিউদ্দিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১০-১৩ ৯:৫১:৪০ এএম
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ইঞ্জিন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। নিয়মিত সংকটের কারণে চলাচলরত অবস্থায় ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা বেড়ে গেছে। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে ট্রেন চলাচল।  

রেল কর্মকর্তারা বলছেন, সংকটের কারণে পুরোনো ইঞ্জিনগুলো জোড়াতালি দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ৭০টি ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। এসব ইঞ্জিন কেনার অনুমতি পেলেও অন্তত আরও দুই বছর এভাবে জোড়াতালি দিয়েই ট্রেন চালাতে হবে।

তবে রেলমন্ত্রী মো.মুজিবুল হক বলেছেন, এরই মধ্যে ১০টি ইঞ্জিন কেনার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আরও ৭০টি কেনার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইঞ্জিন সংকট দূর হচ্ছে না। ফলে ৩০০ কোচ কিনেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলছেন, বগির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন কেনার সিদ্ধান্ত নিলে এ ধরনের সংকট তৈরি হতো না।  

সংকটের কারণে বিদ্যমান ইঞ্জিনগুলো রেস্ট না পাওয়া এবং অধিকাংশ ইঞ্জিনের লাইফ টাইম পার হয়ে যাওয়ায় ঘন ঘন বিকলের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করছে যান্ত্রিক বিভাগ। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা যান্ত্রিক বিভাগের গাফিলতিকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হলে এত বেশি ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটতো না।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকে বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) পর্যন্ত ১২ দিনে আন্তঃনগর, মেইল, লোকাল ও গুডস ট্রেন চলাচলের পথে মোট ১৭টি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও ২৭টি ট্রেন বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে ট্রেনের বিলম্ব বেড়ে যাওয়ায় সময়ানুবর্তিতা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি রেলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে না পৌঁছায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে উল্লেখ করে প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছে পরিবহন বিভাগ।

জানা গেছে, ১ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলার পথে পাঁচটি আন্তঃনগর, চারটি মেইল, তিনটি লোকাল ও পাঁচটি গুডস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটেছে। এতে এসব ট্রেনের সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্ব হয়েছে। ইঞ্জিন বিকল ট্রেনের কারণে চলার পথে বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে আরও ২৭ ট্রেনের বিলম্ব হয়।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দৈনিক আন্তঃনগর, মেইল, লোকাল এবং গুডস মিলে ২২১টি ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ১৫১টি ইঞ্জিন। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১১০টি। ফলে ইঞ্জিনগুলো রেস্ট পাচ্ছে না। অন্যদিকে কোনটি বিকল হলে বিকল্প না থাকায় মেরামত অথবা অন্য কোন ট্রেনের ইঞ্জিন দিয়ে গন্তব্যে নিয়ে আসতে হয়।

জানতে চাইলে রেলের মহাপরিচালক মো.আমজাদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এমনিতেই ইঞ্জিন সংকট। অন্যদিকে যেসব ইঞ্জিন আছে সেগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশের লাইফ টাইম অতিক্রম করেছে। ফলে ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা বাড়ছে।

ইঞ্জিনগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে যান্ত্রিক বিভাগের গাফিলতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে কোনভাবে জোড়াতালি করে চালাচ্ছি। তবে রক্ষণাবেক্ষণে যথাযথ তদারকি হচ্ছে না। নিয়মিত মেরামত হলে বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়তো না।

যান্ত্রিক বিভাগের তদারকির অভাবের বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো.আবদুল হাই। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, যান্ত্রিক বিভাগে লোকবল সংকট রয়েছে। ইঞ্জিনও পুরনো। তবে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে যান্ত্রিক বিভাগের ব্যাখ্যা তলব করা হবে।

রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলের উন্নয়নে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এসব টাকা ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে রেলের যে উন্নয়ন হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। তারা বলছেন, ৩০০ বগি কেনা হয়েছে কিন্তু কোন ইঞ্জিন কেনা হয়নি। তাই এর সুফল পাচ্ছে না জনগণ।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৫১ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০১৭

এমইউ/আইএসএ/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa