[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ জুন ২০১৮

bangla news

কত রোহিঙ্গা এসেছে, সঠিক হিসেব নেই কারো কাছে

রমেন দাশগুপ্ত, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৯-১১ ৯:২১:২৬ এএম
দলে দলে আসছে রোহিঙ্গারা

দলে দলে আসছে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজার থেকে: জাতিসংঘ বলছে মিয়ানমার থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে ২ লাখ ৯৪ হাজার। আর কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা অনুপ্রবেশের পরিমাণ দুই লাখ।

তবে প্রতিদিন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল যারা স্বচক্ষে দেখছেন, তাদের কাছে এসব তথ্য বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজনের দাবি, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পরিমাণ জাতিসংঘের দাবির প্রায় দ্বিগুণ।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমানপাড়া দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, শনিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) একদিনেই সেই সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৫০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে।

সেই সীমান্তপাড়ের বাসিন্দা কক্সবাজার বারের সিনিয়র আইনজীবী জামালউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, পত্রিকায় ১-২ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকেছে বলে লেখা হচ্ছে। এটা সঠিক নয়। আমাদের ধারণা পাঁচ লাখের কম হবে না। অনেক পয়সাওয়ালা রোহিঙ্গা চট্টগ্রামে, ঢাকায়, কক্সবাজার শহরে আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গেছে। অনেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে। তাদের হিসাব কারও কাছে নেই।

আইএমও রোববার জানিয়েছে, ২৫ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ৯৪ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশের তথ্য তাদের কাছে আছে। তবে এই তথ্যে ঘাটতি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আইএমও’র এক কর্মকর্তা।

‘অনেকে এখন এক জায়গায় আছেন, কিছুক্ষণ পর আরেক জায়গায় চলে যাচ্ছেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যারা আছেন তারা পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। সুতরাং নির্ভুলভাবে জরিপ সম্ভব নয়।’ বলেন ওই কর্মকর্তা

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের কাছে সঠিক হিসাব নেই। রোহিঙ্গাদের চাপ সামলাতে আমাদের এত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে যে জরিপ করার সময় কোথায়। তবে ধারণা করছি অনুপ্রবেশের সংখ্যা দুই লাখের কম হবে না।

কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭০ কিলোমিটার সীমান্তপথের মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের ২২টি পয়েন্ট দিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে ১৪টি পয়েন্ট উখিয়ায় এবং ৮টি পয়েন্ট টেকনাফে। এছাড়া বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছেন। এর মধ্যে উখিয়ার পালংখালীর আনজুমান পাড়া ও সাহেবপাড়া এবং টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে।

জনপ্রতিনিধিদের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার করে রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে।

উদ্বাস্তু শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন কারিতাসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন ফ্রান্সিস রোজারিও। লিবিয়ায় যুদ্ধের সময় তিউনিশিয়ায় শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে আসা রঞ্জন বাংলানিউজকে বলেন, প্রচুর শরণার্থী আসছেন। কিন্তু ম্যানেজমেন্টটা ঠিকমতো হচ্ছে না। যারা আসছে তাদের নিবন্ধনের কোন ব্যবস্থা নেই। এদের ভাষা, চেহারার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। পরে এরা বাঙালি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যাবে। এতে সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি বিনষ্ট হওয়ার আশংকা আছে।

‘সুতরাং এখন প্রথম কাজ হচ্ছে যারা ঢুকছে, ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে যেন তাদের নিবন্ধনটা হয়। আর কতজন ঢুকছে সেই সঠিক হিসাবটা রাখা। ’

বাংলাদেশ সময়: ০৯২১ ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

আরডিজি/আইএসএ/টিসি

সক্রিয় দালালচক্র, পুঁজি রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ

রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ৪ চেকপোস্ট

‘ওপারে বাদশা ছিলাম, এপারে ফকির হলাম’

পাহাড়-বন দখল করে উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের বসতি

‘ওপারে বাদশা ছিলাম, এপারে ফকির হলাম’

মঙ্গলবারের মধ্যেই রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ছাড়ার আলটিমেটাম

স্ত্রীদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে স্বামীরা

গাড়ি দেখলেই রোহিঙ্গাদের আর্তি ‘খাবার দিন’

মাকে কাঁধে নিয়ে ২৯ মাইল হেঁটে এপারে সাইফুল্লাহ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রোহিঙ্গা

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa