ঢাকা, সোমবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

bangla news

৪২৩ স্কুলের ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তির বাইরে

সুবল বড়ুয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৭-১৭ ৯:১৬:৪৪ পিএম
প্রাথমিকে ৪২৩ স্কুলের ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তির বাইরে

প্রাথমিকে ৪২৩ স্কুলের ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তির বাইরে

চট্টগ্রাম : মহানগরীসহ চট্টগ্রামের ১২ পৌরসভার ৪২৩ প্রাথমিক স্কুলের ২ লাখ ১৯ হাজার ৫ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির বাইরে রয়েছে। এসব স্কুলগুলোর অস্বচ্ছল পরিবারের শিশুরা উপবৃত্তি না পেয়ে পড়ালেখা থেকেই ছিটকে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার যে সকল শিক্ষার্থী শিউর ক্যাশের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে, তাদের মধ্যেও অনেকে উপবৃত্তির টাকা তুলতে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার ৭ লাখ ৩৯ হাজার ২৯১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩২ কোটি ৫ লাখ ২৩ হাজার ১০৪ টাকার চাহিদার মধ্যে ২২ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৩ টাকা বিতরণ করা হয়।

২০১৭ সালে ১৮৩৩টি স্কুলের ৩ লাখ ৮০ হাজার ৩৭৬ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

জানা যায়, মহানগরীর ৬ শিক্ষা থানায় ২১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি ও ১ম থেকে ৫ম শ্রেণিতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। তারা কেউ উপবৃত্তি পাচ্ছে না। এরমধ্যে পাঁচলাইশ থানার ৩৬টি স্কুলের ২৫ হাজার ৩২৮, কোতায়ালী থানার ৩০টি স্কুলের ১৪ হাজার ৪৫১, পাহাড়তলী থানার ২৯টি স্কুলের ২৮ হাজার ৩৪, বন্দর থানার ৩২টি স্কুলের ২৬ হাজার ২২৯, ডবলমুরিং থানার ৪৩টি স্কুলের ৩১ হাজার ২০৩, চান্দগাঁও থানার ৪৫টি স্কুলের ৩০ হাজার ১৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

এছাড়াও চট্টগ্রামের ১২টি পৌরসভার মধ্যে সন্দ্বীপের ১৭টি স্কুলের ৫ হাজার ১৮২, মিরসরাইয়ের ৫টি স্কুলের ১ হাজার ৫৫৪, সীতাকুণ্ডের ১২টি স্কুলের ৩ হাজার ৯৮১, ফটিকছড়ির ৩১টি স্কুলের ১০ হাজার ২৭২, বোয়ালখালীর ২২টি স্কুলের ৭ হাজার ৭২৫, পটিয়ার ১২টি স্কুলের ৬ হাজার ৩৪৮, হাটহাজারীর ১৪টি স্কুলের ৪ হাজার ১০৩, রাউজানের ৩০টি স্কুলের ৫ হাজার ৩৫৬, রাঙ্গুনিয়ার ১৬টি স্কুলের ৪ হাজার ৭৫, চন্দনাইশের ১৭টি স্কুলের ৩ হাজার ৮৫৯, সাতকানিয়ার ২০টি স্কুলের ৬ হাজার ৮৩, বাঁশখালীর ১২টি স্কুলের ৫ হাজার ৮২ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছে না।

সাইফুল ইসলাম নামে এক রিকশাচালক বাংলানিউজকে জানান, আমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনীতে হলেও এবছরের প্রথম দিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে নগরীর লালখানবাজারে চলে আসি। শহরে এসে ৫ বছরের মেয়েকে ১ম শ্রেণি ও ৭ বছরের ছেলেকে ২য় শ্রেণিতে এই এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি। স্কুল থেকে পাঠ্যবই দিয়েছে কিন্তু মাসিক উপবৃত্তিগুলো দিচ্ছে না। ফেনিতে যখন পড়তো তখন তো ভর্তির সময় ২০০ টাকা দিয়েছিল। কিন্তু শহরে এসে তা পাচ্ছি না। স্কুলে যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা বাংলানিউজকে জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনায় জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণি, ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি এবং ৮ম শ্রেণি শ্রেণিতে উন্নিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। কেউ উপবৃত্তির বাইরে নেই। তবে সরকারের নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞার কারণে মহানগরী ও পৌর এলাকার স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা্ উপবৃত্তির বাইরে রয়েছে। তবে শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কাজ করছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মনিটরিং কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘১৯৯৯ সালে সরকার ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকে প্রথম উপবৃত্তি চালু করে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে কার্ডের পরিবর্তে রুপালি ব্যাংকের শিউর ক্যাশের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এ উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির সময় একই পরিবারের ১ জন হলে ১০০ টাকা, ২ জন হলে ২০০ টাকা, ৩ জন হলে ২৫০ টাকা এবং ৪ জন হলে ৩০০ টাকা পাচ্ছে। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির প্রতি শিক্ষার্থী পাচ্ছে ১২৫ টাকা। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্ত মানা না হলে উপবৃত্তি বাতিলেরও বিধান রয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, রুপালি ব্যাংক থেকে শিউর ক্যাশে টাকা দিলেও অ্যাজেন্টরা বলে টাকা আসেনি, পরে আসেন। আমার দুই ছেলে-মেয়েকে সরকারের দেওয়া উপবৃত্তির টাকা তুলতে হয়রানির শিকার হয়েছি। উপবৃত্তির টাকা তুলতে প্রত্যেক গ্রামে একজন করে অ্যাজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানমূখী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। উপবৃত্তি তারই একটি অংশ। উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে হয়রানির বিষয়ে ইতোমধ্যে অধিদফতরের মহাপরিচালক শিউর ক্যাশের বেশ কিছু অ্যাজেন্ট বাতিল করেছেন।’

বাংলাদেশ সময়: ২১১৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৭, ২০১৭

এসবি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa