Alexa
ঢাকা, শনিবার, ৯ বৈশাখ ১৪২৪, ২২ এপ্রিল ২০১৭
bangla news
symphony mobile

জঙ্গি অপবাদ নিতে চায় না দুই পাড়ার মানুষ

তাসনীম হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৩-২০ ১:৪৪:১১ পিএম
ছায়ানীড় ভবনে তখন উদ্ধার হওয়া বোমা নিস্ক্রিয় করা হচ্ছে। স্কুলফেরত তিন শিশুর সেদিকে তীক্ষ্ণ চোখ। ছবি: সংগৃহিত

ছায়ানীড় ভবনে তখন উদ্ধার হওয়া বোমা নিস্ক্রিয় করা হচ্ছে। স্কুলফেরত তিন শিশুর সেদিকে তীক্ষ্ণ চোখ। ছবি: সংগৃহিত

চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকার ছায়ানীড় নামের ভবনে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর বলতে গেলে দুই পাড়ার মানুষজনের মৃদ ‘রোষানলেই’ পড়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউল আলম চৌধুরী মুরাদ।

তিনি গণমাধ্যমে ছায়ানীড় ভবনটি প্রেমতলা পাড়ায় পড়েছে বক্তব্য দেওয়ায় তাকে ওই এলাকার মানুষজন বলেছেন, ‘না, ছায়ানীড় ভবনটি প্রেমতলায় পড়েনি।’ পরবর্তীতে চৌধুরীপাড়া এলাকায় পড়েছে বলে বক্তব্য দেওয়ায় আবার এই পাড়ার মানুষজন ধরেছেন তাকে। তাদের বক্তব্যও যথারীতি একই, ‘না ছায়ানীড় আমাদের এলাকায় পড়েনি।’

মোদ্দকথা-জঙ্গি আস্তানার মতো ‘খারাপ একটি বিষয়ে’র সঙ্গে নিজের পাড়ার নাম যুক্ত হোক-তা চাচ্ছে না ওই দুই পাড়ার মানুষজন। তারা ভাবছেন-এতে তাদের পাড়ার বহুদিনের ঐতিহ্য আর সম্মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের ঘোর আপত্তি-জঙ্গি আস্তানাটি তাদের পাড়ায় পড়েছে তা নিয়ে। তাই তারা নিজেদের পাড়ায় জঙ্গি আস্তানাটি পড়েনি তার পেছনে নানা যুক্তি তুলে ধরেছেন।

আসলে ছায়ানীড় ভবনটির অবস্থানই এই সমস্যাটা বাড়িয়েছে।ছায়ানীড়ের সামনে মানুষদের ভিড়

সীতাকুণ্ড উপজেলা সদর থেকে মিনিট দশেকের পথ পেরোলেই ছায়ানীড়ের সেই জঙ্গি আস্তানা। ছায়ানীড় ভবনটি পড়েছে প্রেমতলা ও চৌধুরীপাড়ার মোহনায়। ছায়ানীড় ভবনটির পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ছোট্ট একটি খাল। সেই খালের দক্ষিণ পাশ চৌধুরীপাড়া আর উত্তরপাশ প্রেমতলা পাড়া বলে এতদিন মানুষ চিনে এসেছে। সেই হিসেবে ছায়ানীড় ভবনটির বেশিরভাগ অংশ প্রেমতলায় পড়েছে। তবে খালের উপর কিছুটা অংশ পড়ায় চৌধুরীপাড়ার সঙ্গেও ছায়ানীড় ভবনের যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

তাই রোববার বিকেলে কথা হলে, পাড়ার ঝামেলায় গেলেন না আর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউল আলম চৌধুরী মুরাদ।

হাসতে হাসতে বললেন, ‘এই জঙ্গি আস্তানাটি কোন পাড়ায় পড়েছে সেটি আমি আর বলবো না। দুই পাড়ার মানুষই আমাকে এ নিয়ে নালিশ দিচ্ছেন। তাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি বলবো-‘এটি সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ দক্ষিণ মহাদেবপুর ওয়ার্ডে পড়েছে।’

‘কিন্তু চৌধুরীপাড়া হোক কিংবা প্রেমতলা তলা হোক দুটো পাড়া-ই আমার ওয়ার্ডে পড়েছে। এই ওয়ার্ডে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া আমাদের সবার জন্যই কলঙ্কের। সারাজীবন এই কলঙ্ক আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে। এটা কখনও মোছা যাবে না। এখন সবাই আমাকে বলবে জঙ্গি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এটিই সত্যি কথা।’-এবার সিরিয়াস শফিউল আলম চৌধুরী।

রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছায়ানীড় নামের ওই ভবনের অদূরে অবস্থান করে দেখা গেছে, এলাকার মানুষজন ভিড় করেছেন সেখানে। একটু পর কেউ আসছেন, দূর থেকে ভবনটি দেখে চলে যাচ্ছেন, আবার নতুন করে কেউ আসছেন। বিভিন্ন মন্তব্যও করছেন তারা এসময়। তাদের সমস্ত বিস্ময়-এই শান্ত ছিমছাম কয়েক সম্প্রদায়ের মানুষের সম্প্রীতির এই এলাকায় কীভাবে জঙ্গিরা এতো বড়ো আস্তানা গড়ল তা নিয়েই।ছায়ানীড়

সেখানে ছোট্ট একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন একদল মানুষ। চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এই মানুষগুলোর সেই আড্ডায় একবার ঢুকে গিয়ে যা শোনা গেল তার সারমর্মটা এমন-‘এই জঙ্গি আস্তানার সঙ্গে আমাদের চৌধুরীপাড়ার নাম যুক্ত হওয়ায় এবং গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর বেরোয় আমাদের সকল মানসম্মান চলে গেছে। মানুষজন এখন বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলে তার উত্তরে চৌধুরীপাড়া বললে তারা বলবে, ‘‘ও চৌধুরীপাড়ায়। যেখানে দেশের অন্যতম বড় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।’’ অথচ জঙ্গি আস্তানাটি পড়েছে প্রেমতলায়।’

একইভাবে প্রেমতলা পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। তারা বলেন, ছায়ানীড়টা চৌধুরীপাড়া ও প্রেমতলার মাঝামাঝিতে পড়েছে। তাই আপনারা বলতে পারেন ওই জঙ্গি আস্তানা চৌধুরীপাড়ায়ও পড়েছে।’

তবে ছায়ানীড় কোথায় পড়েছে সেই তর্কে গেলেন না স্থানীয় মিহির নামের এক ব্যক্তি।

তিনি বলেন, ‘এখন জঙ্গি আস্তানাটি কোন পাড়ায় পড়েছে তা নিয়ে তর্ক করার সময় নয়। আস্তানাটি আমাদের এলাকায় পড়েছে সেটিই আমাদের সব ভয়ের কারণ। আমাদের ঘরের পাশেই তারা এতোবড় মজুদ গড়ে তুলল আমরা একটু টেরও পেলাম না। আমাদের সবার উচিত এখন থেকে সতর্ক হয়ে যাওয়া, সবাই মিলে জঙ্গি প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩০ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০১৭

টিএইচ/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

You May Like..