[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ২ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ জুন ২০১৮

bangla news

অবৈধভাবে সহস্রাধিক গাছ কাটলো জঙ্গলবাড়ি চা বাগান

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৬-০২ ৫:০৪:০৭ পিএম
জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের অবৈধ বৃক্ষনিধন। ছবি- বাংলানিউজ

জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের অবৈধ বৃক্ষনিধন। ছবি- বাংলানিউজ

মৌলভীবাজার: কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া প্রায় সহস্রাধিক গাছ কেটেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তবর্তী জঙ্গলবাড়ি চা বাগান। চা আবাদের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছে এই বৃক্ষনিধনের মহোৎসব। 

প্রায় তিন মাস যাবৎ এই অবৈধ প্রক্রিয়া চললেও এ ব্যাপারে জানে না স্থানীয় বন বিভাগ। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ওই বাগান থেকে স্থানীয় বন বিভাগ এক লাখ টাকা নিয়েছে।

জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের বৃক্ষনিধনের ছবি ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে বাগানের ব্যবস্থাপক এ প্রতিবেদকের উপর ক্ষেপে যান এবং তার অনুমতি ছাড়া বাগানে প্রবেশ করার কারণ জানতে চান।  

জঙ্গলবাড়ি চা বাগান সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গলবাড়ির মোট আয়তন ১১শ’ একান্ন একর। এর মধ্যে ৭শ’ পনের একর জমিতে চা চাষ চলছে। জঙ্গলবাড়িতে নতুন করে চা আবাদ এবং গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে গত তিন মাস আগে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়। কিন্তু আবেদনটি অনুমোদন না পাওয়ার আগেই অবৈধ বৃক্ষনিধনের ধ্বংসযজ্ঞে নামে জঙ্গলবাড়ি কর্তৃপক্ষ।  

গত ৩০ মে বিকেলে জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের আটটি বড় বড় টিলা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সহস্রাধিক ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তিন টনের একটি ট্রাক এবং একটি জিপ গাড়ি দিয়ে কেটে ফেলা গাছগুলো টানা হচ্ছে। 

বিশাল টিলার একটি অংশে মাথায় করে গাছ নামাতে দেখা যায় দুই নারী শ্রমিককে। তারা বাংলানিউজকে বলেন, গত তিন-চার মাস ধরে চলছে এই গাছকাটা।

তাদের মতো আরও অনেক শ্রমিক কাজ করেন এখানে। 

সূত্র জানায়, কেটে ফেলা মূল্যবান গাছগুলো অফিসের একটি গোপন স্থানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলের প্রভাবশালী মহালদার বেলায়েত হোসেন সিপার ওরফে সিপার মিয়া এগুলো কিনবেন। চা বোর্ড থেকে অনুমোদন আসেনি বলে তিনি নিচ্ছেন না। সিপার মিয়া জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের বহু পুরাতন ঠিকাদার। এছাড়া ছোট গাছ কিনছেন মো. নাসির নামে অন্য এক ঠিকাদার। 

জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের ব্যবস্থাপক তারেক আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, এখানে চা আবাদের জন্য টিলা পরিষ্কার করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে নতুন করে চা আবাদ না করলে চা বোর্ড জরিমানা করে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা যে জমিতে আবাদ করা হয়নি সেখানে চা আবাদ করছি। 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কিভাবে গাছ কাটা হয়- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা তো আবেদন করেছি। 

২শ’ গাছ কাটার কথা স্বীকার করেন ব্যবস্থাপক। 

এক লাখ টাকার নেওয়ার বিষয়ে সিলেট বন বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আবু তাহের বাংলনিউজকে বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাদের কার্যক্রম বিতর্কিত করতেই এমন অপপ্রচার করা হচ্ছে। 

সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আরএসএম মুনিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। 

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৩ ঘণ্টা, জুন ২, ২০১৮
বিবিবি/আরআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa