Alexa
ঢাকা, বুধবার, ১৪ আষাঢ় ১৪২৪, ২৮ জুন ২০১৭

bangla news

মেঘকুমারী, অবশেষে তোমার দেখা

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০২-১০ ১২:০৯:২১ পিএম
টাইলস বসানো বেঞ্চে আয়েশের নিঃশ্বাস

টাইলস বসানো বেঞ্চে আয়েশের নিঃশ্বাস

শ্রীমঙ্গর (মৌলভীবাজার): রৌদ্রজ্জ্বোল চারদিক ঘিরে কেমন একটা নির্জনতা। মাঝে মাঝে বনের সুমিষ্ট পাখির ডাক অপূর্ব এক পরিবেশের জন্ম দিয়েছে। পায়ে চলা পথ সরু হয়ে ঢুকে গেছে লাউয়াছড়া বনের ভেতর। একটু এগিয়ে গেলেই বনের ঘণত্ব আরো ফুটে উঠে গভীর হয়ে।

‘একাকীত্ব’ ভাবটি কেমন যেন একটা অসহ্যময়! বিরক্তির অন্ধকার জমতে শুরু করেছে ততক্ষণে। ঠিক সে সময় হঠাৎ সুন্দর এক প্রজাপতি-পথিকের আগমন। তবে চঞ্চলতায় ভরা। স্থিরতা নেই তার সর্বাঙ্গে। ক্যামেরা তাক করতেই সে দৌঁড়-ঝাপে আরো যেন ব্যস্ত।  

পাকা বেঞ্চের এক কোণায় কী যেন খুঁজে পেয়েছে সে। উড়ে চলে গেলেও ঠিক ওখানটাতে আবার ফিরে আসা। তবে কিছুতেই ছবিধারণের পক্ষপাতি নয় সে। এই অবস্থায় সময় গড়ালো পৌঁনে এক ঘণ্টার বেশি। অবশেষে মিললো স্থিরতা। শান্ত শরীর মেলে ধরলো রৌদ্র উত্তাপের মাঝে।

লাউয়াছড়ার বাঘমারা পিকনিক স্পটের বিশ্রামাগারে সেও এসে বিশ্রাম নিল। টাইলস বসানো বেঞ্চে মাঝে আয়েশের নিঃশ্বাস ফেলল সে। প্রথমদিকে বুঝতে পারা যায়নি যে সেও ক্লান্ত পথিক। ভীষণ ব্যস্ত ছিল উড়াউড়িতে।

টাইলস বসানো বেঞ্চে আয়েশের নিঃশ্বাস

হে মেঘকুমারী, কালক্ষেপণ শেষে শান্ত হলে তুমি! ছড়িয়ে দিলে দারুণ সৌন্দর্য শোভা। অরণ্যের বুনো-আহ্বান আর স্নিগ্ধ-সতেজ আভা তোমার মাঝে মিলে-মিশে আজ একাকার। এমনি সুদৃশ্য এক বুনো-পথিকের সঙ্গলাভ শহরের এই যান্ত্রিক-পথিকের জন্য ঢের পাওয়া। কেবল অনুভূতির উপলব্ধি ছাড়া যার যথার্থ বর্ণনা বর্ণমালায় ঠিক গাঁথা যাবে না।
 

প্রজাপতি গবেষক অমিত কুমার নিয়োগী বাংলানিউজকে বলেন, এই প্রজাতির বাংলা নাম ‘মেঘকুমারী’। এর ইংরেজি নাম Clipper। বৈজ্ঞানিক নাম Parthenos Sylvia। নিম্ফালিডি পরিবারের মধ্যে বাংলাদেশে প্রাপ্ত সবচেয়ে বড় আকারের প্রজাপতি। এর ডানার ব্যাস প্রায় ১০০-১২৫ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এর শারীরিক বৈশিষ্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, পুরুষ ও নারী উভয়েরই ডানার ওপরের রঙ কাল জলপাই সবুজ ধরনের হয়ে থাকে। সম্মুখ পাখনা আকারে লম্বাটে ও ত্রিকোণাকার। ডানার মধ্যে কয়েক সারি সাদা দাগ রয়েছে। ক্লিপারের ডানার পশ্চাৎ পাখনার পোস্ট ডিসকাল অংশে উল্টা “V” আকৃতির সারিবদ্ধ দাগ রয়েছে।

এদের প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে নিয়োগী বলেন, ক্লিপার আমাদের দেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এদের সাধারণত উঁচু গাছের বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। এরা মাঝে মাঝে বনের নিচু গাছ গুলোতে এসে ডানা প্রসারিত করে রোদ পোহায়। এরা অন্য প্রজাতির প্রজাপতির সাথে প্রয়াসই স্থানিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ফুলের নির্যাস খেয়ে জীবন ধারন করে। এরা গুলাঞ্ছা বা Heart-leaved Moonseed (Tinospora cordifolia ) গাছে দিম পাড়ে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লাল তালিকা ২০১৫ এদেরকে বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ (VU) বলে ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান গবেষক অমিত কুমার নিয়োগী।


বাংলাদেশ সময়: ১১৫৭ ঘণ্ট, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭
বিবিবি/বিএস

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জলবায়ু ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

You May Like..
Alexa