Alexa
ঢাকা, বুধবার, ৮ চৈত্র ১৪২৩, ২২ মার্চ ২০১৭
bangla news
symphony mobile
উপকূল থেকে উপকূল

শিক্ষকরা থাকতে চান না

মাজেদুল নয়ন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৬-০৬-৩০ ৩:৩৮:৩০ পিএম
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্গম দ্বীপ অঞ্চল হলেও প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো গাবুরা ইউনিয়নে। তবে যোগাযোগের অসুবিধার কারণে সেখানে থাকতে চান না শিক্ষকরা।

গাবুরা (শ্যামনগর), সাতক্ষীরা থেকে: দুর্গম দ্বীপ অঞ্চল হলেও প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো গাবুরা ইউনিয়নে। তবে যোগাযোগের অসুবিধার কারণে সেখানে থাকতে চান না শিক্ষকরা। মাছ ধরার সময় পরিবারের সঙ্গে নদীতেই থাকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

৯ নং সোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ বছর বয়সী ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির ওয়াপদা রোডে খেলা করছিল সহপাঠী ও প্রতিবেশী বন্ধুদের সঙ্গে। একই স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন, ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী মান্নান হোসেন ও ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবের সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। এদের খেলার সঙ্গী ৭ বছরের রহমত আলী প্রথম শ্রেণির পর আর স্কুলে যায়নি।

সাব্বির জানায়, রমজানের বন্ধ চলছে। তাদের স্কুলে বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে দু’জন নিয়মিত। আকলিমা এবং হাকিম স্যারের বাড়ি গাবুরাতেই বলে জানায় সে।

তবে কালাম স্যার ও পারভীন আপা নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন আসতে পারেন না। নদীর অবস্থা অনেক সময় ভালো থাকে না – বলে সাব্বির।

স্কুলে না যাওয়ার কারণ জানাতে রহমত জানায়, বাবা অব্দুর রহমানে সঙ্গে মাছ ধরার কাজে সময় দেয় সে।

৬ নং মধ্যম খোলিশাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম। তার মা আঞ্জুমান আরা বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবেশীর সন্তানেরাও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্কুলে যায়।
ইউনিয়নে এখন আগের তুলনায় শিক্ষার হার বাড়ছে। খোলিশাপুরের সাবিলা পারভীন (২১) কালিগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়ছেন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় সপ্তাহে একদিন মাত্র কলেজে যান।

তিনি বলেন, এই ইউনিয়নে স্কুল থাকলেও শিক্ষকদের জন্যে থাকা এবং যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি হলে ইউনিয়নের ভেতরে হাঁটা ছাড়া আর চলার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। নৌকায় নদী পার হয়ে ওয়াপদায় আসলেও ভেতরে কাদা পথে হাঁটা ছাড়া চলার কোনো অবস্থা থাকে না।

তবে শুধু এসব যাতায়াতের অসুবিধার কারণেই অনেক সময় প্রাথমিকের শিক্ষকদের পছন্দের পদায়নের স্থানও গাবুরা। শ্যামনগর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দ্বীপ ইউনিয়নটিতে কোনো মনিটরিং নেই। ফলে শিক্ষকরা অনেকেই সেখানে যেতে চান ক্লাসে ফাঁকি দেওয়ার জন্য।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গাবুরা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামে ৭টি সরকারি প্রাথমিক, ৫টি রেজি: প্রাথমিক এবং ১টি আনন্দ প্রকল্প স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে মোট ৬৫টি পদের মধ্যে ১৯টি পদ শূন্য রয়েছে। মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩ হাজার ৯০০ জন।

শ্যামনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় গাবুরায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার হার ভালো। অনেকেই নদীতে বা ঘেরে বাবা-মায়ের সঙ্গে কাজ করলেও ক্লাসের সময় স্কুলে থাকে।

এক্ষেত্রে সরকারের উপবৃত্তি কার্যক্রম এবং টিফিনে বিস্কুট কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়ে শিক্ষা অফিসার বলেন, বৃষ্টি হলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। ওই সময় শিক্ষকদের জন্য সমস্যা হয়।

এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে শূন্য পদের কারণেই শিক্ষকরা ইউনিয়ন থেকে চলে আসার সুযোগ পান বলে মনে করেন ইসমাইল হোসেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৯ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০১৬
এমএন/এমজেএফ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

You May Like..