[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২১ মে ২০১৮

bangla news

ফাইনালের মহারণে প্রস্তুত ভারত-পাকিস্তান

মহিবুর রহমান, স্পেশাল করেসপনডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৬-১৭ ১১:০৬:৫৪ পিএম
বিরাট কোহলি ও সরফরাজ আহমেদ

বিরাট কোহলি ও সরফরাজ আহমেদ

ওভাল থেকে: ক্রিকেটের মাঠে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উম্মাদনা, বাড়তি ঝাঁঝ ও বাড়তি স্নায়ুক্ষয়।

মাঠেতো বটেই টিভি সেটের সামনেও চির বৈরী দু’দেশের মধ্যকার লড়াই নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে তর্কের ঝড় উঠে। সেটা যেই আসরেই হোক; বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস্ ট্রফি, এশিয়া কাপ কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে।

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস্ ট্রফির ঠিক এমনই এক তীব্র ঝাঁঝাঁলো ফাইনালের মহারণে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ওভালের সবুজ মাঠে নামছে আনপ্রেডিকটেবল পাকিস্তান।

রোববার (১৮ জুন) লন্ডনের ওভালে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়।

একথা অনস্বীকার্য যে, দুই দেশের মধ্যকার শক্তিমত্তা ও মাঠের কৌশল বিবেচনায় তারুণ্য নির্ভর পাকিস্তানের চাইতে ঢেঢ় এগিয়ে ভারত। একদিকে কোহলি, ধোনি, ধাওয়ান, যুবরাজ, রোহিতকে নিয়ে গড়া পিরামিডসম ব্যাটিং অর্ডার।

অন্যদিকে আছে ভুবনেশ্বর কুমার, উমেষ যাদব, মোহাম্মদ শামি, হার্ডিক পান্ডিয়া, রবিচন্দ্রন অশ্বীন ও জাসপ্রিত বুমরারমত ক্ষুরধার বোলিংলাইনআপ।

পাশাপাশি কোহলির বীররোচিত অধিনায়কত্বতো আছেই। আরও আছে গত ৪ জুন গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৪ রানে বড় জয়ের কড়কড়া স্মৃতি।

তাই সব মিলিয়ে ম্যাচটিতে ফেবারিটের তকমা নিয়েই মাঠে নামবে কোহলির ভারত। আর মাঠে নেমে পাকিস্তানকে আরেকবার হারের গ্লানি দিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের তৃতীয় শিরোপাটি ঘরে তুলতে কোহলিরা এতটুকু ছাড় দিবেন না সেকথা অনায়াসেই বলা যায়।

শনিবার (১৭ জুন) ওভালের সম্মেলন কক্ষেও ভারত দলপতি এমনই আভাস দিয়ে রেখেছেন।

তিনি বলেন ‘আমি বিশ্বাস করি পাকিস্তানকে আরেকবার হারানোর জন্য যতটুকু সামর্থ থাকা দরকার তার পুরোটাই আমাদের আছে। আমরা এই ম্যাচটি নিয়ে মোটেও অন্যভাবে ভাবতে চাইছি না। আমাদের কাছে এটা শুধুই অন্য আরেকটি ম্যাচ। তবে জয়ের জন্য আমরা আমাদের সেরা খেলাটিই খেলতে সচেষ্ট থাকবো’।
 
তবে কোহলি ম্যাচটিকে অন্য আট দশটি ম্যাচের মতো নিলেও পাক হেড কোচ মিকি আর্থার মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না। চ্যাম্পিয়নস্ ট্রফির ১৯ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে তার শিষ্যরা।

তাই সন্দেহাতীতভাবেই তাদের সামনে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টির হাতছানিতো থাকছেই, আরও থাকছে প্রায় পাঁচ বছর পর চির বৈরী দলটির বিপক্ষে জয়ের সুযোগ।

কেননা ওয়ানডেতে কোহলিদের বিপক্ষে সরফরাজদের সব শেষ জয় এসেছিল ২০১২ সালের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে। ওই বছর ভারত সফরে গিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডে ২-১ এ জিতে এসেছিল পাকিস্তান।

তাছাড়া ওয়ানডে ফর্মেটে বিগত দিনগুলোতে দু’দেশের মধ্যকার দ্বৈরথ লক্ষ্য করলেও দেখা যাবে এগিয়ে পাকিস্তানই। ১২৮ ম্যাচে দু’দলের মধ্যকার মুখোমুখি লড়াইয়ে এই পর্যন্ত পাকিস্তান জিতেছে ৭২টিতে আর ভারতের জয় ৫২টিতে।

তবে অবাক হতে হয় আইসিসি’র বৈশ্বিক আসরে দু’দলের হার জিতের পরিসংখ্যান দেখলে। বৈশ্বিক আসরে দু’দলের ১৫ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে এই পর্যন্ত ১২টিতেই জিতেছে ভারত, ২ টিতে পাকিস্তান আর একটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত।

তাছাড়া চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে দুই দলের চার বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে পাকিস্তান দুই বার ও বাকি দু’টি জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ভারত। তবে সেমি ফাইনালের ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে দলটি যেভাবে হারিয়েছে তাতে ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচেও জয়ের আশা তারা করতেই পারে।

এদিকে হেভিওয়েট ম্যাচটিকে সামনে রেখে দল সেরা প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন পাক হেড কোচ মিকি আর্থার।

তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমরা এই ম্যাচটিকে সামেন রেখে প্রস্তুতিটা ভালভাবেই সেরেছি। এজবাস্টনে সেদিন ওদের বিপক্ষে হারের পর ওভালের এই ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যে আমাদের একটি কাজই করতে হবে, সেটা হল; ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং এই তিন বিভাগেই ভালো ও দুর্দান্ত কিছু করা।’

স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারানোর তরতাজা স্মৃতি নিয়ে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টির লক্ষ্যে কোহলিদের হারের গ্লানি দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত পাকিস্তান।

অনেকেই হয়তো ভাবছেন হবে না। কিন্তু ক্রিকেটে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। এরপর দলটি যদি পাকিস্তান হয় তাহলে তো কথাই নেই। আনপ্রেডিকটেবল বলে কথা।

বাংলাদেশ সময়: ২৩০৭ ঘণ্টা, জুন ১৭, ২০১৭
এইচএল/জিপি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa