[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৩ মে ২০১৮

bangla news

বিলম্বিত সন্ধ্যায় কত্থকের উত্তাপ

ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০১-২৯ ৮:১৯:২১ পিএম
ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে কত্থক নৃত্য/ ছবি: কাশেম হারুন

ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে কত্থক নৃত্য/ ছবি: কাশেম হারুন

ঢাকা: তিন তালে টুকরা, পারান্থ, তিহাই, লারি ও উঠান। মাত্র ছয় মাসে কত্থক নৃত্যের এ ধাপগুলো শেষ করেছেন তারা। তবে এ অল্প সময়ে পরিপক্কতাও অর্জন করেছেন বেশ। তাইতো শিক্ষার্থীদের তাল আর গতির উত্তাপে সে বন্দনা শেষে করতালির আওয়াজ ওঠে হলজুড়ে।

ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের কত্থক নৃত্য-শিক্ষার্থীরা সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে পরিবেশনায় অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের চমৎকার নৃত্যশৈলীতে মুগ্ধ হন মিলনায়তনভর্তি দর্শকরা। সে সঙ্গে ছিল তাদের শিক্ষক মুনমুন আহমেদের একক পরিবেশনাও।

সন্ধ্যার চমৎকার এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের কত্থকের শিক্ষক মুনমুন আহমেদ।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ভাষা নয়, সংস্কৃতির বন্ধনই মানুষকে একীভূত করতে পারে। সংস্কৃতির ভিন্নতার মধ্যেই ঐক্য গড়ে ওঠে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটা দিয়ে তরুণদের বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করা যাবে না। তরুণদের সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করার মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করতে হবে।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, সংস্কৃতি সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। কুসংস্কারকে সংস্কৃতির শক্তি দিয়ে পরাজিত করা যায়। ১৯৭১ সালে সংস্কৃতি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এ দেশের মানুষেরা। সংস্কৃতি সেখানে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

মুনমুন আহমেদ বলেন, এই কত্থক নৃত্য সন্ধ্যাটি আমার জন্য পরীক্ষার। কারণ, ছয় মাসের প্রশিক্ষণে তারা যা শিখেছে তা আজকে সবাই তা দেখতে পাবেন।

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় কত্থক পরিবেশনা। শুরুতেই মুনমুন আহমেদের পরিচালনায় ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কত্থকের শিক্ষার্থীরা পরিবেশনায় অংশ নেয়। প্রধমে তারা পরিবেশন করেন ‘গুরুবন্দনা’। এরপর নিবেদন করেন তিন তালে টুকরা, পারান্থ, তিহাই, লারি ও উঠান।

শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার পর ছিল মুনমুন আহমেদের একক পরিবেশনা। তিনি পরিবেশন করেন তিন তালে ঠুমরি। এরপর তিনি গীতের আশ্রয়ে নাও, ময়ূরের ছন্দ নৃত্যের তাল তুলে ধরেন। সবশেষে তিনি ‘মোরে গাগারিয়া কাহে সাতায়ে’ গানের সঙ্গে ঠুমরি পরিবেশন করেন। যাতে তিনি রাধা-কৃষ্ণের মান-অভিমানের গল্প বর্ণনা করেন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশনায় অংশ নেয়- শুভার্থী দে, মালিহা তাবাসুসম প্রিয়া, তানশা আরোরা, আঁখি নূর বিনতে আলী, জেসিয়া তাহজিদা, অদিতি শ্রী, রনবীর সাহা, আসিমা কামাল মৌমি, মাসুম রেজা, প্রাজ্ঞন ইয়েনিগালা, শ্রিবালা আলম প্রিয়া, চন্দ্র রোজারিও, দ্যোতনা ভট্টাচার্য, অনামিকা বিশ্বাস সুর্বনা, ফারিবা সিনা, তানিশা তাসমিম সিনথিয়া, জামিল হোসেন, জাকোয়ান সালোয়া, প্রিয়তা সরকার, শ্রেয়া হালদার, নার্গিস সুলতানা, নীলাদ্রি পাল ও পৃথ্বি মেহজাবীন। 

অনুষ্ঠানে তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৫ ঘণ্টা; জানুয়ারি ২৯, ২০১৯
এইচএমএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa