banglanews24.com lifestyle logo
 
 

দেশি সাজে খাবার টেবিল

শারমীনা ইসলাম

সময় বদলে গেছে কিন্তু আমরা আজও মনে-প্রাণে বাঙালি।তবে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই হারাতে বসেছে। কৃষাণ মাঠে কাজ করছে আর তার মিষ্টি বউ গামছায় খাবার বেঁধে এনে মাটির পাত্রে স্বামীকে খাওয়াচ্ছে। একবার ভাবুন তো কি সুন্দর দৃশ্য! যারা শহরে বড় হয়েছেন গ্রামীণ জীবন থেকে দূরে থেকেছেন তাদের এই দৃশ্য হয়তো মনে হবে কোনো নাটক বা চলচিত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু না বন্ধুরা এটাই আমাদের বাংলার চিরায়ত রূপ।

কংক্রিটের শহরে ব্যস্ত জীবনে খাবার টেবিলে একটু দেশীয় ছোঁয়া আনতে পারি আমরাও। অপূর্ব নকশার মাটির, কাঠ, বাঁস-বেত বা কাঁসার পাত্রে একদিন রাতের খাবার পরিবেশন করে চমকে দিন পরিবারের সবাইকে।

কোথায় পাবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিভিন্নরকম দেশীয় উপাদানে তৈরি তৈজসপত্রের খোঁজখবর

বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর বিপরীতে, কলাবাগানের ফুটপাতে, ঢাকা কলেজের সামনের ফুটপাতে, আসাদ গেট এলাকায়। এছাড়া আমাদের বেশকিছু দেশীয় ফ্যাশন হাউসের রয়েছে মনকাড়া মাটির, কাঁসা বা বেতের সামগ্রী। এর মধ্যে আড়ং, যাত্রা, ক্লে-ইমেজ হ্যান্ডমেইড সানরাইজ প্লাজার সিরমিক, মিরপুরের শিল্পচর্চা, মোহাম্মদপুরের আইডিয়া ক্রাফটস, শাহবাগ আজিজ মার্কেটে আইডিয়াস কর্নারসহ বেশকিছু দোকান রয়েছে যেগুলোতে মাটি বা কাঁসার জিনিসপত্র পাবেন।

এছাড়াও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বেশকিছু জায়গায় পেয়ে যাবেন পছন্দের পণ্যটি। নকশা শিল্পীদের মনমাতানো উপস্থাপনের বহি:প্রকাশ পাবেন এসব সামগ্রীতে। আড়ংয়ে আপনি পাবেন রকমারি ডিজাইনের মাটির মগ, গ্লাসের দাম পড়বে ৩০-৫০ টাকা, জগ ১০০-১২০ টাকা, মাটির চমৎকার থালা ৭০-১২৫ টাকায়, পান্তা খাবার সানকিগুলো পাবেন ৫০ টাকার মধ্যেই ছোট পিরিচের দাম পড়বে ২৫-৪০ টাকা, ঢাকনাসহ কবি ডিশ পাবেন ৫০-১২০ টাকায়। মাটির কাপ-পিরিচ ২০-৪০ টাকা, বিভিন্ন সাইজের মাটির বাটি পাওয়া যাবে ৩০-১২০ টাকায়।

এছাড়া কাঠের প্লেট পাবেন ২০০-৫০০, ট্রে ৩৫০-৭৫০, চামচ ১০০-২৫০, বাটি ১৯০, বোল ২৫৫।

নারকেলের খোলের তৈরি চামচ ২০- থেকে ১০০ টাকা, চা সেট ৪৫০।

বেতের ট্রে ১৫০-৪৫০, কাঠের ট্রে ১৫০-৬৫০, বেতের ঝুড়ি ৫০, বেতের ট্রে ১৯৮।

কাঁসার প্লেট ২০০-৫৫০, বাটি ২২৫-৩০০, কাঁসার জগ-৩০০, গ্লাস-২০০।

বাঁশ-বেতের ল্যাম্প ৩৫০-৭৫০, টেবিল কভার তাঁতের ৫৫০-৮৫০, টেবিল কভার হাতের কাজ ১০৫০-১৫০০, মাটির ফুলদানি ২৫-৭০ ও বাঁশের ফুলদানি ৬৫-১৫০ টাকায় পাওয়া যাবে।

উত্তরা থেকে কলাবাগানে মাটির পাত্র কিনছিলেন, সানজিদা চৌধুরী, মাটির তৈজসপত্র নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ঘরে বাঙালি আমেজ আর সংস্কৃতি ধরে রাখতেই মাটির পাত্র কিনছি।

আসুন বন্ধুরা একটু দেখে বুঝে প্রয়োজনীয় নান্দনিক রুচিশীল এসব পাত্র কিনে ব্যবহার করি। আর নিজের দেশীয় ঐতিহ্যকে আরও জনপ্রিয় করে তুলি।

comments powered by Disqus
Bookmark and Share
 
© 2014, All right ® reserve by banglanews24.com