...লিখেছেন অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ " />

আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ

তরুণ প্রজন্মের দাবি-যুদ্ধাপরাধের বিচার

অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ


দাবি একটাই, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই` । এ দাবীতে মুখরিত রাজধানীর শাহবাগ চত্বর। একই দাবিতে সারাদেশ উত্তাল। সারাদেশেও চলছে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি। বিশ্ববাসীর কাছেও পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের এই বার্তা। এ এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ।

ছাত্র-জনতা, মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক-শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, কেরানি, আমলা, কবি-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করছেন প্রজন্মের এই দাবির প্রতি।

স্বাধীনতা অর্জনের চার দশকেরও বেশি সময় পর মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনায় জাতির এ নবজাগরণ কলংক মোচনের জন্য গৃহীত সব রকম ব্যবস্থার পথকে আরো প্রশস্ত করবে-এ প্রত্যাশা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সবার।

দীর্ঘদিনের গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিলম্বে হলেও যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়। শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।

ইতিমধ্যে এ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর দুই আসামির বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রথম রায়টি ঘোষিত হওয়ার পর সারাদেশে দীর্ঘদিন প্রতীক্ষায় থাকা মানুষের মধ্যে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হয় তা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় বাঁধভাঙা জোয়ারে।

কিন্তু দ্বিতীয় রায়টি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গণমানুষের বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সারাদেশ উত্তাল করে তোলে, যার সূচনা বলা যায় অনেকটাই হয়েছে রাজধানীর শাহবাগ থেকে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের মুক্তি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাতিল ও ঘোষিত রায় বাতিলের দাবিতে সারাদেশে জামায়াত-শিবির যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে, এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুর এবং মানুষ পুড়িয়ে মারার যেসব মর্মন্তুদ ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটেছে এর জন্য কঠোর আইনি প্রতিকার ভিন্ন গত্যন্তর নেই।

রাজধানীর শাহবাগ চত্বর এখন প্রতিবাদের আগ্নেয়গিরি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিটিই যেখানে মুখ্য। জঘন্য, নির্মম, নৃশংস অপরাধের দায়ে যখন জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাবাসের রায় ঘোষণার পর থেকেই তীব্র ক্রোধ সঞ্চারিত হতে থাকে দেশপ্রেমিক নাগরিকের মনে।

নতুন প্রজন্ম এ রায়কে কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। আমজনতার এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে শাহবাগ চত্বরে। মোমবাতি, মশাল জ্বেলে, ফুল ছিটিয়ে অহিংস বিক্ষোভে মিলিত হয়েছেন সবাই। বিক্ষুব্ধ মানুষ বোধ হয় এমন একটা প্ল্যাটফর্মের খোঁজে ছিল। তা না হলে প্রথমে শত শত, তারপর হাজারে হাজারে, সবশেষে লাখো মানুষের কেন উপস্থিতি ঘটবে শাহবাগ চত্বরে।

প্রত্যেকের কণ্ঠে ক্রোধ-ধিক্কার। আর সেই প্রতিবাদী ঢেউ লহমায় ছড়িয়ে গেছে সবখানে। দেশব্যাপী শুরু হয়েছে এ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ।

সুতরাং এ দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় জনগণ যে সরকার বা বিরোধী দল কারোর ওপরই আর আস্থা রাখতে পারছেন না, তাদের ক্ষোভ উদ্গীরণে এ কথাটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা ছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। সেটা যথাযথ আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং রায়ে জনগণের দাবির প্রতিফলন ঘটবে এমনটি সবার প্রত্যাশা।

অসন্তোষ আমলে নিতে হবে। এছাড়া ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের যে দাবিটি ছিল সেটিও অযৌক্তিক নয়। জামায়াত-শিবির তাদের আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী, এমন কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সহিংস হামলা চালাচ্ছে।

বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। এমনকি সমাবেশ করে গৃহযুদ্ধের হুমকিও দিচ্ছে। জামায়াতের এ গৃহযুদ্ধের হুমকি ও সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি আদালত অবমাননার সামিল।

আদালতে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও কেন সর্বোচ্চ শাস্তি থেকে তিনি বেঁচে গেলেন এ এক বিস্ময়কর আর অমীমাংসিত প্রশ্ন বটে। কাদের মোল্লা নিজেও ভাবেননি মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি হতে পারে।

যে কারণে রায় শুনে আঙুল উঁচিয়ে `ভি` চিহ্ন দেখিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। তার এই উচ্ছ্বাস হাজার হাজার শহীদ পরিবার আর লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার জন্য চরম অপমান এবং লাঞ্ছনার।

প্রতিবাদমুখর প্রজন্মের আবেগের বিষয় নিয়ে আর যা-ই হোক, কোনো রকম শৈথিল্য বা কূটচাল কাম্য নয়। সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা যদি আগামী নির্বাচনের হিসাব মেলাতে গিয়ে সব কিছু গুলিয়ে ফেলেন, তাহলে জনগনের তাদের কোনদিনই ক্ষমা করবে না।

লেখকঃ মানবাধিকার কর্মী, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ইয়ার্স ফোরাম। ইমেইলঃ advssahmed@yahoo.com

11 Feb 2013   07:15:07 AM   Monday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান