| |||||||||||||
মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার সংরক্ষণনাজিম মৃধা প্রায় দুইশ বছর আগে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের রাজত্ব কায়েম করার জন্য, তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সে সময় তারা বেশীর ভাগ আইন-কানুন তাদের অনুকুলে প্রণয়ন করেছিল সে বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য আজ একবিংশ্বশতাব্দীতে এসেও আমরা তাদের সেলুকাস আইনকে শতভাগ অনুসরণ করছি। উপেক্ষিত হচ্ছে তাই সময়ের সাথে প্রয়োজনের তাগিদে আইন সংস্কারের দাবি। ব্রিটিশদের শাসনতান্ত্রিক আইন মানতে গিয়ে আমরা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করছি, মানবাধিকারকে অস্বীকার করছি, অনেকাংশে দেশের সংবিধানকে লংঘন করছি। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে মুক্ত জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে প্রতিটি নাগরিকের। কিন্তু এ দায়বদ্ধতা কতটুকু রক্ষা করতে পারছে আমাদের সংবিধান? ৫৪ ধারায় ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারের ক্ষমতা যথেচ্ছভাবে প্রয়োগ হয়ে আসছে। মৌলিক অধিকার বিষয়ে সংবিধানের বিধানের সঙ্গে এটি অসঙ্গতিপূর্ণ, সাংঘর্ষিক। ১৮৯৮ সালে প্রণীত ইংরেজদের এই শাসনতান্ত্রিক ও নির্যাতনমূলক আইন স্বাধীন দেশে কারো কাম্য কি? ব্রিটিশরা তৎকালীন সময়ে তাদের অধীনস্থদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য এ আইন প্রণয়ন করেছিল। যা গণতন্ত্র ও স্বাধীন ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক। তাই ৫৪ ধারাটি আজ প্রশ্ববিদ্ধ। কারণ এ ধারাটির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। আবার উপেক্ষিত হচ্ছে মানবিক দিক ও মৌলিক অধিকার। গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-রিকশা সংঘর্ষে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হন রত্না খন্দকার। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক স্বামী রিপন খন্দকারকে দেখতে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল পুত্র রিফাত ও কন্যা রৌশনী। দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয় রত্নার আর ভেঙে চুরমার হয়ে যায় একটি পরিবারের সপ্ন। রতা খন্দকারের স্বামী রিপন খন্দকার বারিধারার একটি হোটেলের ম্যানেজার। ৯ ডিসেম্বর অবরোধের দিন কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বিএনপি অফিসের সামনে থেকে সন্দেহবশত তাকে আটক করা হয়। পরে ৫৪ ধারায় যথারীতি চালান দেয়া হয় তাকে। রিপন খন্দকারের জায়গা হয় কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেদিন কারাগারে স্বামীকে দেখতে যাচ্ছিলেন রতা। বাবাকে দেখতে যাচ্ছিল রোশনী আর রিফাত। তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। দুর্ঘটনায় রতা চলে গেছেন না ফেরার দেশে। রোশনী-রিফাতের জায়গা হয়েছে হাসপাতালে। রত্নার জানাজায় যোগ দিতে পারেননি স্বামী রিপন। কারণ ৫৪ ধারা শিকার রিপনকে প্যারোলেও মুক্তি দেয়া হয়নি । এদেশে রাজনৈতিক প্রভাবে ফাসির আসামী বেখেসুর খালাস পায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জেল থেকে বেরিয়ে আসে কিন্তু স্ত্রীকে শেষ দেখার স্বাধ মিটে না রিপনের মত সাধারণদের। যদি রাজনৈতিক দুর্নীতিপুষ্ট নেতারা এমনকি মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে বিচারাধীন আসামিরা প্যারোলে মুক্তি পায় তাহলে রিপনের অপরাধ কি দেশদ্রোহিতার চেয়েও জঘন্য? বড় বিচিত্র এ দেশ ! রাষ্ট্র আইন তৈরী করে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু আইনের ফাক-ফোকরে নিরীহ মানুষ সাজা পেয়ে যাবে তা কখনই কাম্য নয়। আইনের যথেচ্ছা ব্যবহার রোধ করতে, যাতে করে এ আইনের অজুহাতে প্রকৃত অপরাধীদের বাদ দিয়ে নিরপরাধ মানুষ ব্যক্তিগত রোষাণলে পড়ে শাস্তি না পায় তাই ৫৪ ধারার সংস্কার অতি জরুরী। আর সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক সকল আইন এবং আইনে যাতে মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবিক দিকটি উপেক্ষিত না হয় সেজন্য ব্রিটিশদের প্রণীত আইনকে সম্পূর্ণ অনুসরণ না করে তা সময়োপুযোগী করে সৃজন করার সময় এসেছে। লেখক শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইমেইল: nazimlawru@gmail.com 05 Jan 2013 07:02:49 PM Saturday
|
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com সর্বশেষ ২৪
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর
|
||||||||||||
| |||||||||||||
| |||||||||||||