আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

মানবাধিকার ডেস্ক


প্রত্যেক রাষ্ট্র কিছু মূলনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থ‍াকে। রাষ্ট্রের সকল কার্ক্রমে এ নীতিগুলো ‍অনুসৃত হয়। এগুলো না থাকলে রাষ্ট্র কার্যত অচল রাষ্ট্রে পরিনত হয়। রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাজে এনীতিগুলো দিক নির্দেশক হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে।

রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আইন প্রণয়ন ও সংবিধান ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও এ নীতিগুলো পথ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদিও বলা হয়ে থাকে যে রাষ্ট্রপরিচালনার এ নীতিগুলো আদালত দ্বারা বলবৎ যোগ্য নয়, কিন্তু এগুলোর আইনগত তা‍ৎপর্য কোনো অংশেই কম নয়।

কোন মূলনীতি বাস্তবায়ন করার জন্য সংসদ কোনো আইন প্রণয়ন করলে সে আইন মৌলিক অধিকারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হলেও আদালত উক্ত ‌আইন বাতিল করতে পারে না। যেহেতু এ মূলনীতিগুলো সংবিধানের অংশ এবং সংবিধানের পরিপন্থি কোন আইন করলে তা বাতিল বলে বিবেচিত হয়, তাই এ মূলনীতির পরিপন্থি কোন আইন করলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে। কাজেই, আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারনে এ মূলনীতিগুলোর ভূমিকা ব্যাপক। 

২০০৫ সালে হাইকোর্ট পুরান ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানী শেষে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। পরে প্রধান বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের  আপিল বিভাগ কিছু পরিমার্জন ও সংশোধন সাপেক্ষে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল ‍রাখেন।

এ রায়ের আলোকেই সংসদ কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করা হয়। এই সংশোধনী অনুযায়ী আমাদের মূলনীতি সমূহ সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে সংযোজিত হয়েছে:

জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এ নীতিগুলো এবং এ নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত বা সম্পর্কিত অন্য সকল নীতিও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে পরিগণিত। ‍কাজেই কেবল ওই চারটি নীতিই নয়, ওই নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নীতসমূহও মূলনীতির আওতাভুক্ত। এবং এগুলোর পরিপন্থি কোন আইন বলবৎযোগ্য হবে না।

এনীতিগুলো রাষ্ট্রপরিচালনার মূলসূত্র ও আইন প্রণয়নকালে রাষ্ট্র এগুলো প্রয়োগ করে থাকে।

সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে এনীতিগুলো পথনির্দেশক এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সকল কার্যক্রমের ভিত্তি। তবে এই সকল নীতিগুলো আ‍দালতের মাধ্যমে বলবৎ যোগ্য নয়।

রাষ্ট্রপরিচলার মূলনীতি জাতীয় আদর্শের পরিস্ফুটন মাত্র। এনীতিগুলো রাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতিরও পথ নির্দেশক। একটি দেশের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক ও ‌আর্থ-সামাজিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে রচিত হয় সে দেশের ‘রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি’।

আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো যেমন গড়ে উঠেছে আমাদের দীর্ঘ স্বাধীকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে, তেমনি আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিকাশের ইতিহাসও বর্তমান রাষ্ট্রনীতি গঠনের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

27 Jul 2012   02:24:33 PM   Friday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান