| |||||||||||||
শুধুই নীরবতা, প্রতারণা নয় সাধারণভাবে আইনানুযায়ী নীরবতা প্রতারণা নয়। চুক্তি করতে গেলে সব পক্ষকেই সবসময় সব তথ্য সম্পর্কে অপরকে অবহিত করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা যদি তার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে তা অপর পক্ষকে জানাতে হবে। তা না হলে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে ও সে ক্ষেত্রে উক্ত চুক্তিটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। আইনে চুক্তির একপক্ষ অন্যপক্ষের কাছে সব কথা তুলে ধরার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এতে অনেক সময়েই চুক্তির বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন একজন ব্যবসায়ী তার বিক্রয়ের সামগ্রীতে পরিবর্তনের কথা নাও বলতে পারেন। কেউ তার একটি অসুস্থ ঘোড়া বিক্রির সময় সে সম্পর্কে কিছুই বলনেন না। কিন্তু তা না বললেও এক্ষেত্রে প্রতারণা বলা যাবেনা । কারণ ক্রেতাকে যাচাই করেই ঘোড়া কিনতে হবে। ঘোড়া সম্পর্কে যাচাই বাছাই করে কেনা ক্রেতার দায়িত্ব। কাজেই চুক্তিতে অংশ গ্রহণকারী পক্ষের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে এ প্রকার কোনো তথ্য সম্পর্কে কেবল নীরবতা প্রতারণা বলে গণ্য হবে না। এ প্রসঙ্গে চুক্তি আইনের ১৭ ধারাটি উল্লেখ্য। ১৭ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো নীরব ব্যক্তির কথা বলা কর্তব্য না হয় অথবা যদি তার নীরবতা কথা বলার সমতুল্য না হয়, তাহলে চুক্তিতে অংশগ্রহণ করতে কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে-এ শ্রেণীর কোন তথ্য সম্পর্কে কেবল নীরবতা প্রতারণা নয়। সাধারণত মনে করা হয় যে চুক্তির পক্ষসমূহ সমান সমান দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং নিজ নিজ বিচার-বুদ্ধিতে আস্থাশীল। এ অর্থে কোন সাধারণ তথ্য সম্পর্কে প্রতিপক্ষের কাছে কোন কিছু প্রকাশ না করা দোষণীয় নয় এবং প্রতারণাপূর্ণ নয় যদি না অনুরূপ কোন তথ্য প্রকাশ করা কোন পক্ষের আইনগত কর্তব্য হয়। এ প্রসঙ্গে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের শ্রী কৃষাণ বনাম কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় (এআইআর ১৯৭৬, সুপ্রীম কোর্ট ৩৭৬) মামলাটি উল্লেখযোগ্য। ঘটনাটি ছিল, একজন পরীক্ষার্থী ভালভাবেই জানতো যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় হাজিরার চেয়ে তার হাজিরা কম আছে। কিন্তু সে তা পরীক্ষার ফরমে সে কথা উল্লেখ করেনি। মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী প্রতারণা করেনি। কারণ এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কর্তব্য ছিল পরীক্ষার ফরম বাছাই করা এবং সেক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ দেখা দিলে তা যাচাই করা। সূত্র: চুক্তি আইন, সৈয়দ হাসান জামিল 14 Nov 2012 06:15:46 AM Wednesday
|
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com সর্বশেষ ২৪
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর
|
||||||||||||
| |||||||||||||
| |||||||||||||