আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

শ্রদ্ধার্ঘ্য

মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান

অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ


মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু কোনো কোনো মৃত্যু জাতীয় জীবনে এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি করে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তেমনি এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. জিল্লুর রহমান।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অগ্রণী সৈনিক মো. জিল্লুর রহমান। দেশের সব সংকটকালে তিনি পালন করেছেন অভিভাবকের ভূমিকা। তিনি অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন থেকেই। চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই তিনি গত ২০ মার্চ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গদিনসীন একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির স্বাভাবিক মৃত্যু এই প্রথম প্রত্যক্ষ করল দেশ। রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে আমরা শুধু একজন রাষ্ট্রপতিকে হারালাম না; আমরা হারালাম একজন একনিষ্ঠ রাজনীতিক রাষ্ট্রপতিকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর বাংলাদেশের ৪২ বছরের ইতিহাসে মোঃ জিল্লুর রহমান ছিলেন সত্যিকারের রাজনীতিক রাষ্ট্রপতি, যিনি ছাত্রাবস্থা থেকে ধাপে ধাপে উত্তরণের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও রাজনীতির সর্বোচ্চ পদে আসীন হন। এ সাফল্য কেবল একজন সার্থক রাজনীতিবিদের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে মোঃ জিল্লুর রহমান নিজ যোগ্যতায় সরকারি ও দলীয় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্জন করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বহু বছর।

এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দুবার ও শেখ হাসিনার সঙ্গে দুবার এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের আর কোনো রাজনীতিবিদের বেলায় এমনটা আমরা দেখি না।

জিল্লুর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৭০ সালে।

স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি পাঁচবার নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য পদে। পালন করেছেন সংসদ উপনেতার দায়িত্ব। দলের ক্রান্তিকালে সভাপতির দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

তার এই সাফল্য আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি দেশে অনাগত অগণতান্ত্রিক শক্তির যাত্রা প্রতিহত করতে ভূমিকা রাখে।

আমরা স্মরণ করতে পারি এক-এগারোর পর ২০০৭ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের পরের সময়টুকুর কথা। কী সাহসের সঙ্গেই না তিনি মোকাবিলা করেছেন দল ও দেশের হতাশাজনক এক অধ্যায়ের।

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়েই দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন পদে অধিষ্ঠিত হন। 

মো. জিল্লুর রহমানের জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জের ভৈরবের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। মহান ভাষা আন্দোলন ৬২ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে বিশিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন এই সহকর্মী।

১৯৭০ সালে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য হন। ২০০৮ সালে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৯ সালে ১৯তম রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউর গ্রেনেড হামলায় তার স্ত্রী আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান নিহত হন। তারপর থেকে তিনি একাকীত্বের কষ্টকর জীবনযাপন করছিলেন।

ভগ্নস্বাস্থ্য ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা সত্ত্বেও ওয়ান-ইলেভেনের বিতর্কিত শাসকদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রবাসী সরকার গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনসহ ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০১-এর জাতীয় নির্বাচনে তিনি তাঁর এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মো. জিল্লুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন।

দলের প্রয়োজনে সব সময় সামনের সারিতে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক সংকটে পালন করেছেন কাণ্ডারির ভূমিকা। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হলে তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ এই সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিকের মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে দেশ যখন আজ এক রাজনৈতিক সংকটের মুখে, তখন তাঁর মতো বিচক্ষণ রাজনীতিকের প্রয়োজন ছিল।

তাঁর মতো নির্মোহ রাজনীতিকের খুব প্রয়োজন আজ দেশে। এই সংকটকালে তিনিই যথার্থ অভিভাবকের ভূমিকা নিতে পারতেন। এই সংকট থেকে উত্তরণে দেশ ও জাতিকে তিনি দেখাতে পারতেন সঠিক পথের দিশা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি চার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর নিয়তির কাছে পরাজয় বরণ করে চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে চলে যান।

প্রয়াত জননেতা রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ছিলেন ভদ্র, নম্র ও মার্জিত রুচির সুকুমার মনের একজন মানুষ। তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে কখনো আক্রমণাত্মক ও অশালীন মন্তব্য করতেন না। তিনি মৃদুভাষী ছিলেন। জ্বালাময়ী বক্তৃতাও তিনি কখনো দিতেন না।

তিনি সকল মানুষকে মূল্যায়ন করতেন; যে কারণে সবাই তাকে পছন্দ করতেন। আর তাই তিনি ছিলেন অজাতশত্রু। এমন একজন দরদি আপন মানুষকে হারি আমরা আজ ব্যথিত, মর্মাহত।

লেখক‍ঃ মানবাধিকার কর্মী ও কলামিস্ট। অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম, ইমেইলঃ advssahmed@yahoo.com

27 Mar 2013   04:16:42 AM   Wednesday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান