আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

উচ্চশিক্ষা বিতর্ক-সুযোগ নাকি অধিকার?

ফারহান তাম্বীরুল হক


উন্নত ও পরিশুদ্ধ জীবনবোধের মাধ্যমে শিক্ষা  মানুষকে অন্ধকারের বৃত্ত থেকে  আলোর জগতে পদার্পণ করায় । শিক্ষা মানুষের মনকে পরিশীলিত করে, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গাথুনিতে জীবন সাজানোর নির্দেশনা দেয় । জ্ঞান বিজ্ঞানে যারা যত অগ্রসর তারাই পারে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে, যার ফলশ্রুতিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় একটি মানুষ, একটি সমাজ, একটি দেশ এবং একটি জাতি । আর এজন্যই বলা হয় শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড ।

শিক্ষার নানাবিধ ধাপ রয়েছে ।  তার মাঝে উচ্চশিক্ষা হল আনুষ্ঠানিকতাবে যে কোন মানদণ্ডে পড়াশোনা, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রগতিশীলতার সবোচ্চ মাধ্যম । এই  উচ্চশিক্ষা কি অধিকার না সুযোগ  সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ।

UN International Covenant on Economic, Social and Cultural Rights- এর মতে ‘শিক্ষার অধিকার’ বলতে বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা, সহজলভ্য মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ এবং ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরীর বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয় । বাংলাদেশ এই সনদে সাক্ষরকারী দেশসমূহের অন্যতম ।

এছাড়াও Universal Declaration of Human Rights , UNESCO Convention against Discrimination in Education এবং Convention for Elimination of  All forms of Discrimination Against Women ও  শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করার কথা বলে।

European Convention on Human Rights (ECHR)) এর Article 2 সনদে সাক্ষরকারী সকল দেশকে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করে ।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ”(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য, (খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য, (গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”।

জাতীয় শিক্ষানীতির উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত অধ্যায়ে কৌশল সম্পর্কে বলা হয়েছে, ” বিভিন্ন ধারার মাধ্যমিক শিক্ষা সফলভাবে সমাপ্ত করার পর মেধা, আগ্রহ ও প্রবণতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ লাভ করবে” ।

তাহলে দেখা যাচ্ছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক  সনদসমূহে শিক্ষার অধিকারের কথা জোর গলায় উচ্চারিত হলেও উচ্চশিক্ষার বিষয়টিকে ন্যায়পরায়ণতা, মেধা, আগ্রহ, প্রবণতা,আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর প্রভৃতি শব্দের মারপ্যাচে ফেলা হয়েছে ।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, সিংহভাগ ছাএছাএীর দৃষ্টি হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে । প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ের কথা সকলেরই জানা । কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষনীয় । ২০০২ সালে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ইউজিসি উচ্চশিক্ষার ২০ বছর মেয়াদী একটি কৌশলপএ প্রণয়ন করেছে । অভিযোগ রয়েছে, এই কৌশলপএের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেএে ভর্তুকি কমানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে । আর এ কারণেই জগন্নাথ, রোকেয়া, কাজী নজরুলসহ নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য  লিখিত আইন করা হয়েছে ১০ বা ১৫ বছরের মধ্যে সকল ভর্তুকি প্রত্যাহারের । পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়ানোর নামে ফি বৃদ্ধি , নাইট শিফট , অবকাঠামো ভাড়া দেওয়া প্রভৃতির প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষনীয় ।

শুধু বাংলাদেশ নয় , সারা  বিশ্বেই উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন, বিক্ষোভ অব্যাহত আছে । উন্নত দেশসমূহে উচ্চ শিক্ষা  অত্যন্ত ব্যয়বহুল । সে তুলনায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে , বিশেষত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে  ব্যয় এখনও অনেক কম ।কিন্তু উন্নত দেশসমূহের সাথে তুলনা করার সময় একটি বিষয় মনে রাখা দরকার আর তা হল আর্থসামাজিক অবস্থা । বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ  এখনও দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে । যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাদের পক্ষে উচ্চশিক্ষার বিপুল ব্যয় বহণ করা সম্ভব নয় ।

অনেকে যুক্তি দেখান, সরকারের হাতে এত অর্থ নেই যা দিয়ে উচ্চশিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানো যাবে । কিন্তু বাস্তবতা হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০কোটি টাকার বাজেট মঞ্জুর করতে সরকার গড়িমসি করে যেখানে ৬৪০ কোটি টাকার কর মওকুফ করা হয় মন্ত্রী এমপিদের গাড়ী আমদানীর জন্য ।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করা, দক্ষ করে তোলা, সুনাগরিক তৈরীর উপর নির্ভর করছে রাষ্ট্রের ভবিষৎ । আর তাই  মানবিকতা, বাস্তবতা, উদারতা ও ন্যায়ানুগতার সমন্বয়ে  সবার জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার অবারিত রাখা  এখন সময়ের দাবী।

লেখক শিক্ষার্থী আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

26 Apr 2012   05:57:48 PM   Thursday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান