| |||||||||||||
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের দক্ষতা ও মানসিকতার পরিবর্তন জরুরিঅ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক ইদানীং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই খবরের কাগজগুলোয় ভেসে ওঠে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের খবর। মর্মান্তিকভাবে ঘটছে এসব সড়ক দুর্ঘটনা। মূলত চালক ও কন্ডাক্টরদের অদক্ষতা ও অসাবধানতা, ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন গাড়ির কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলালে প্রতিদিনই কোনো না কোনো সড়ক দুর্ঘটনার খবর চোখে পড়ে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইন রয়েছে। রয়েছে শাস্তির বিধানও। কিন্তু তারপরও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না এসব আইনের। দন্ডবিধির ২৭৯ ধারায় বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি কোনো রাজপথে বেপরোয়াভাবে বা তাচ্ছিল্যের সাথে কোনো যান চালায় বা অশ্বারোহণ করে যাতে মনুষ্য জীবন বিপন্ন হতে পারে, অন্য কোনো ব্যক্তিকে আহত বা জখম করার সম্ভাবনা থাকে, সে ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ড যার পরিমাণ ন্যূনপক্ষে এক হাজার এবং সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।” এছাড়া ৩০৪ক ধারায় অবহেলার ফলে সংঘটিত মৃত্যুর শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে “যে ব্যক্তি দণ্ডনীয় নরহত্যা বলে গণ্য নয় এইরূপ কোনো বেপরোয়া বা তাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজ করিয়া কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়, সে ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে।” ৩০৪খ ধারায় বেপরোয়া যান বা অশ্ব চালনার দ্বারা মৃত্যু ঘটানো সম্পর্কে বলা হয়েছে “যে ব্যক্তি বেপরোয়াভাবে তাচ্ছিল্যের সাথে জনপথে যান বা অশ্ব চালায়ে দণ্ডনীয় নরহত্যা নয় এমন মৃত্যু ঘটায়, সে ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।” লাইসেন্সধারী ব্যক্তি বাংলাদেশের সর্বত্র গাড়ি চালানোর অধিকার রাখে। গাড়ির চালক যতোখানি সম্ভব রাস্তার বামদিক ঘেঁষে গাড়ি চালাবেন এবং বিপরীত দিক থেকে আসা সব যানবাহনকে ডানদিক দিয়ে যেতে দেবেন। চালক একইদিকে চলাচলকারী সব গাড়ির ডানদিক দিয়ে পথ অতিক্রম করবেন। চালক কোনো মিছিল কিংবা একদল সৈন্য বা ওই রাস্তায় কার্যরত পুলিশের সম্মুখীন হলে কিংবা রাস্তা মেরামতে নিয়োজিত শ্রমিকদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘণ্টায় ১৫ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি চালাবেন না। মোটরযান নিবন্ধিত না হয়ে থাকলে এবং নিবন্ধন চিহ্ন যথাযথভাবে গাড়িতে লাগানো না থাকলে ওই মোটরযানে যাত্রী বা মাল পরিবহন বা অপর কোনো স্থানে চালানো যাবে না। সর্বোচ্চ গতিসীমার চেয়ে অধিক গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। অধিক গতিতে গাড়ি চালালে প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক তিনশত টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং তৎপরবর্তী অনুরূপ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং অনধিক এক মাসের জন্য লাইসেন্স স্থগিত হবে। চালক এমনভাবে গাড়ি চালাবে যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দু’টি গাড়ি অতিক্রম করার সময় কোনো কারণ ছাড়া একটি অপরটির বডি স্পর্শ করলে সেক্ষেত্রে অবহেলা স্পষ্ট। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এলাকা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় চালককে সবদিকে নজর রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিসীমায় গাড়ি চালানো যাবে না। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত স্থান ব্যতীত গাড়ি কোনো স্থানে অনির্দিষ্টকালের জন্য থামাবে না এবং যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না। নিষিদ্ধ এলাকা ছাড়া গাড়ি দাঁড় করালে ১৫ টাকা জরিমানা এবং নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য স্থান থেকে যাত্রী ওঠালে ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ৫০ টাকা এবং টাইম-টেবল প্রদর্শন না করে গাড়ি চালালে ৩০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। চালককে বাধ্যতামূলক ট্রাফিক সঙ্কেত মেনে চলতে হবে। রাস্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার চাওয়ামাত্র গাড়ির চালক ও কন্ডাক্টরকে তার লাইসেন্স পরীক্ষা করতে দিতে হবে। পরীক্ষা শেষে সঠিক দেখা দিলে অবিলম্বে তা ফেরত দিতে হবে। ট্রাফিক কন্ট্রোল লাইট অমান্য করলে ৫০ টাকা এবং ট্রাফিক আইল্যান্ডের ‘অফ সাইড’ দিয়ে গাড়ি চালালে ৩০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। রাস্তায় পথচারী পারাপারের জন্য নির্ধারিত সীমানার ওপর দিয়ে পথচারী পারাপারের সময় চালককে যথোপযুক্ত লাইন বরাবর অবশ্যই গাড়ি থামাতে হবে। গাড়ির চালককে গাড়ি ডান কিংবা বামদিকে ফেরাতে বা থামাতে হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত নির্ধারিত যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক ডিভাইসের সাহায্যে সঙ্কেত দিতে হবে। ডিভাইসগুলো ঠিকমতো কাজ না করলে হাত দিয়ে সঙ্কেত দিতে হবে।রাস্তার বিপজ্জনক অবস্থায় যেমন- ঢালু জায়গায় গাড়ি না থামাতে ড্রাইভারদের ওপর দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। যাত্রী আহরণ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে গাড়ির চালক বা কন্ডাক্টর চলন্ত গাড়িতে কিংবা গাড়ির বাম্পার বা ছাদে কিংবা গাড়ির ভেতর ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে কোনো ব্যক্তিকে আরোহণ করতে দিতে পারবে না এবং অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী নিতে পারবে না। উক্ত বিধান লঙ্ঘনের ফলে প্রথমবারের জন্য সর্বোচ্চ তিনমাস কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ডে দন্ডনীয় এবং পরবর্তী সময়ে একই অপরাধের জন্য সর্বাধিক ৬ মাস কারাদন্ড অথবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয়দন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার ওই যাত্রীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেবেন ও তিনি কোনো ভাড়া দিয়ে থাকলে তা ফেরত পাবেন। চালক কোনো যাত্রীকে এমনভাবে দাঁড়াতে বা বসতে কিংবা জিনিসপত্র রাখার অনুমতি দেবেন না যাতে গাড়ি স্বীয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালকের অসুবিধা হয়। 12 Jan 2013 12:08:38 AM Saturday
|
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com সর্বশেষ ২৪
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর
|
||||||||||||
| |||||||||||||
| |||||||||||||