আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

নাবালিকা বধূ

অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক


বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রমে বলা হয়েছে, ‘১৩ বছরের কম বয়সী স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে নাবালিকা বধূর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক।

বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের আইনে প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ইচ্ছার বিরদ্ধে যৌন সম্পর্ক ধর্ষণের শামিল হলেও আমাদের দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

বাল্য বিবাহ প্রশ্নে তিন পক্ষই সমান অপরাধী
ক) ‘বাল্য বিবাহ’ বলতে ওই বিবাহকে বুঝাবে যাতে পক্ষদ্বয়ের যে কোন একজন ‘শিশু’ বা নাবালক হবে।
খ) ‘শিশু’ বা নাবালক বলতে ওই ব্যক্তিকে বুঝাবে যার বয়স পুরুষ হলে ‘একুশ’ বৎসরের নিচে এবং স্ত্রী হলে ‘আঠারো’ বৎসরের নিচে হবে;
গ) ‘বিবাহের পক্ষ’ বলতে যে দুই জনের মধ্যে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে, অথবা হতে চলেছে এমন যে কোন একজনকে বুঝাবে;
 বিয়ে মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুখকর অনুভূতি ও প্রজন্ম বিস্তারের একমাত্র উপায় হলেও কখনও কখনও তা অভিশাপ রূপে দেখা দেয়। বিশেষ করে যখন সেটি বাল্যবিবাহের পর্যায়ে পড়ে। এটি আইনত নিষিদ্ধ হলেও হরহামেশাই হচ্ছে। যার পরিণতিতে কিশোরী মায়েরা পড়ছে নানারকম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও।

বিশ্বের যে ক`টি দেশে বাল্যবিবাহের হার বেশি, এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাল্যবিবাহের প্রচলন খুব বেশি। কারণ গ্রামের দরিদ্র মানুষরা তাদের দারিদ্র্য থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ কাজের লোকের অভাব পূরণের জন্য অল্প বয়সের ছেলেকে বিয়ে করান। এ রকম আরও অনেক কারণে গ্রামে বাল্যবিবাহের বিস্তার ঘটে। সরকার অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা, উপবৃত্তি ইত্যাদি ব্যবস্থা করার পরও এর হার কমছে না। বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ৬৬ শতাংশ মেয়েদের বিয়ে দেয়া হয় এবং গত দুই দশক এর হার প্রায় একইভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইউএনএফপি`র গবেষণা মতে, উন্নয়নশীল দেশে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৮ কোটি ২০ লাখ কন্যাশিশুর বিয়ে হয় প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে। আর এরাই মানসিক, শারীরিক ও যৌন জীবন ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বাল্যবিবাহের কারণে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে এবং এর ফলে সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ কমছে।

বিয়ের পর স্বামীর সংসারে কায়িক পরিশ্রমের কারণে প্রায় ৫৫ শতাংশ কন্যাশিশু মাধ্যমিকে ঝরে পড়ে। তাদের গবেষণায় আরও দেখা যায়, কন্যাশিশুকে সামাজিক নিরাপত্তা না দিতে পারা, বিয়ের প্রস্তাব বা কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসিড সন্ত্রাসের শিকার হওয়ার ভয়েও বাল্যবিবাহ দেয়া হয়।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়ছে যখন দেখা যাচ্ছে, ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে বরের বয়স ১৮ বছরের নিচে এবং ২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে কনের বয়স ১৩ বছরের মধ্যে।

বাল্য বিবাহের শাস্তি
এক মাস মেয়াদ পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড কিংবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকারের দণ্ডই হতে পারে। এ শাস্তি বাল্য বিবাহকারীর, বিবাহ সম্পন্নকারীর এবং অভিভাবকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ বিবাহ আয়োজনকারী, যারা  বিবাহ আয়োজনে জড়িত থাকবে তাদের ক্ষেত্রেও এই শাস্তি প্রযোজ্য। এ আইনে সংঘটিত কোন অপরাধ সম্পূর্ণরূপেই ফৌজদারী অপরাধ। সুতরাং নিঃসন্দেহে এর বিচার পদ্ধতি ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের আওতাভুক্ত।

ফৌজদারী কার্যবিধির ২৬০(এফ) (ক) ধারার অধীন অনূর্ধ্ব ছয় মাস মেয়াদের কারাদন্ডযোগ্য অপরাধগুলির বিষয় সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের কোন অপরাধ সংঘটিত হলে এর বিচার ফৌজদারী কার্য বিধি আইনের ২৬০(ক) ধারার আওতাভূক্ত হবে।

বাল্য বিবাহ নিরোধ কল্পে নিকাহ রেজিষ্ট্রার বা কাজী সাহেবের দায়-দায়িত্ব
১. নিকাহ রেজিষ্ট্রার বা কাজী বা পুরোহিত বিবাহ সম্পন্ন করার পূর্বে ছেলে ও মেয়ের বয়স সম্পর্কে যুক্তিসংগত অনুসন্ধান করবে এবং এই মর্মে পরিতুষ্ট হবে যে, বর বা কনের কেউ শিশু বা নাবালক নয়।  
২. বর ও কনের বয়স সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাজী সাহেব বিয়ে রেজিষ্ট্রি করবে না। এ ব্যাপারে কাজী সাহেব, ইমাম সাহেবদের বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিবে।
৩. কাজী সাহেব বয়স নিশ্চিত হবার জন্য বর ও কনে উভয়েরই বয়সের সার্টিফিকেট চেতে পারে। অর্থাৎ  বয়স নিশ্চিত হবার জন্য কাজী সাহেব যে কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে। প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী অর্থাৎ ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রেশন আইনানুযায়ী কাজী সাহেবকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
৪. কাজী সহেব বাল্য বিবাহের আইনগতদিক তুলে ধরে জনগণের মধ্যে সচেতনতার সৃষ্টি করবে। বাল্য বিবাহের ফলে ব্যক্তি এবং সমাজ জীবনে কি কি খারাপ প্রভাব পড়ে সে ব্যাপারে কাজী এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেবসহ সমাজের সবাই সচেতন ব্যক্তিগণ সচেতনতা সৃষ্টি করবে।

লেখক: সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী জজ কোর্ট, কুষ্টিয়া।

28 Sep 2012   02:17:59 AM   Friday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান