| |||||||||||||
বই পরিচিতিত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়: ব্যারিস্টার হালিম The Thirteenth Amendment Judgment নামে ব্যারিষ্টার মোঃ আব্দুল হালিমের নতুন একটি বই বাজারে এসেছে। ব্যারিষ্টার আব্দুল হালিম সহজ ভাষায় আইনের বই লেখায় এক দশক ধরে খুবই পরিচিত একটি নাম। ব্যারিষ্টার হালিমের সহজবোধ্য বিভিন্ন আইনের বই ছাড়াও কতিপয় গবেষনাধর্মী বই রয়েছে যার মধ্যে সংবিধান, সাংবিধানিক আইন ও রাজনীতি (সর্বশেষ সংস্করন ২০০৮), Making the Constitution of Bangladesh (2011)এবং Amendments of the Constitution of Bangladesh: Legislative versus Judicial (2012) অন্যতম। আলোচ্য 13th Amendment Judgment নামক বইটি ও নিঃসন্দেহে একটি গবেষনাধর্মী রেফারেন্স বই। বইটিতে স্থান পেয়েছে ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চের রায়, আপীল বিভাগের পূণাঙ্গ রায় এবং বইটির তৃতীয় ভাগে স্থান পেয়েছে আপীল বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের উপর লেখকের বিশ্লেষণধর্মী মতামত।
১৯৯৯ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একজন আইনজীবি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০০৪ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ বলে রায় দেয়। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায়ের মূলনীতি ছিল যে, ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানের কোন মৌলনীতিকে আহতত করেই নাই; বরং ইহা গণতন্ত্র নামক মৌলনীতিকে শক্তিশালী করেছে। পরবতীকালে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আপীল দায়ের করা হয় এবং আপীল বিভাগ ২০১১ সালের ১০ইং মে তারিখে সংক্ষিপ্ত আদেশের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। এরপর দীর্ঘ ১৬ মাস পরে ২০১২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বরে ৭৭৪ পৃষ্ঠার পূণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। উক্ত রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক বৃন্দের পক্ষে রায় লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জনাব খায়রুল হক। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ৯০ দিন বা কিছু সময়ের জন্য হলেও গণতন্ত্রে শূন্যতা তৈরী করেছে। সুতরাং তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ। সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে অবশ্য মতামত রাখা হয়েছে যে, পরবর্তী দু’টি জাতীয় নিবার্চন তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত করা যাবে তবে উক্ত তত্বাবধায়ক সরকারে কোন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নেয়া যাবে না; এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে উহা গঠিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের এই মতামতটি সাংঘর্ষিক ও বিতর্কিত বলে মনে করেন লেখক ব্যারিষ্টার আব্দুল হালিম। তার মতে পরবর্তী দু’টি নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে করতে হলে তত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে থাকতে হবে। ব্যারিষ্টার হালিম তার মূল্যায়ন অংশে একাধিকভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, কী কী ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের এই রায় প্রশ্নবিদ্ধ এবং প্রতিষ্ঠিত বিচার বিভাগীয় বিভিন্ন নীতির সাথে বিরোধপূর্ণ। লেখক আরও বলেন যে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে যেসব আমেরিকান ও যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক নজিরের উপর নির্ভর করা হয়েছে তার বেশীর ভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের ক্ষেত্রে সম্পর্কিত নয়। উদাহারণস্বরপ, সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বার বার Marbury v. Madison, Baker v. Carr, Dennis v. USA, USA v. Yale Todd ইত্যাদি মামলার রায়কে অনুসরণ করা হয়েছে। কিন্তু এইগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীমকোর্ট কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের কোন সংশোধনী বাতিল করে দেয়নি। সংবিধানের মৌলনীতি (basic structure) ধারনাটি কেবলমাত্র ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট গ্রহণ করে এবং কতিপয় সংবিধান সংশোধনীকে বাতিল করে দেয়। কিন্তু ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট যে কয়টি মামলায় basic structure-এর দোহাই দিয়ে সংবিধানের সংশোধনীকে বাতিল করে দেয়, তার প্রত্যেকটি মামলায় একটি বিষয় সাধারন ছিল এবং তা ছিল যে, সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিদের কোন না কোন মৌলিক অধিকারকে আহত বা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কোন্্ মৌলিক অধিকারকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে অনুপস্থিত। 19 Oct 2012 11:23:23 PM Friday
|
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com সর্বশেষ ২৪
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর
|
||||||||||||
| |||||||||||||
| |||||||||||||