...লিখেছেন অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ " />

আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

নাগরিক অধিকার

নাগরিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের

অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ


কোথায় যাচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি? প্রতিদিনই বাড়ছে অপমৃত্যুর সংখ্যা। অপহরণ হচ্ছে, মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। গুপ্তঘাতক যেন ছায়ার মতো ঘুরছে আশপাশে।

মানুষের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান প্রদত্ত প্রত্যেকটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যে কোনও গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান কাজ।

দেশের আইন- শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা, সন্ত্রাস ও সমাজ বিরোধী তৎপরতা দমন করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে সরকারকে সহায়তা করা হচ্ছে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অভিযুক্ত অপরাধীদের আইনের হাতে সোপর্দ করা, বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতকে সাহায্য করা তাদের অন্যতম কাজ।

আমাদের দেশে দিন দিন বেড়েই চলছে হত্যা, গুম ও অপহরনের ঘটনা। গুমের ঘটনাগুলির কারণে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এখন চিন্তিত। দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। আর তাই নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য দেশে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বাহিনী রয়েছে।

এছাড়া অপরাধ তদন্তের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। বাংলাদেশের গুম অপহরণ ঘটনাগুলোর বিষয়ে দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি। দেশজুড়ে দখলদারিও চলছে। রোধ করা যাচ্ছে না সন্ত্রাস। চাঁদাবাজি, খুনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে দেশের কোথাও না কোথাও।

আমরা দেখেছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই অতীতের সরকারগুলোকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আয়ত্তে আছে, এমন কথা বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার কোনো অবকাশ নেই। প্রতিদিন একের পর এক লাশ পড়বে। খুন হবে মেধাবী ছাত্র, সাংবাদিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ আর পুলিশ জনগণের বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টায় অনলাইনে অভিযোগ নিলেও কোনো লাভ হবে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এ সরকারকেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হতে পারে। সার্বিক অবস্থার অবনতির নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আগেই সরকারের উচিত লাগাম টেনে ধরা। এ ব্যাপারে যাদের যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেই সংস্থার দায়িত্বশীলতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক চেষ্টা কাম্য।

শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না, বরং উত্তরোত্তর আরো অবনতি হচ্ছে।

সন্ত্রাস আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ্ডি ছাড়িয়ে তা হানা দিচ্ছে স্কুলগুলোতেও। তার দৃষ্টান্ত চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র সৌমেন বিশ্বাস অনীক। চলতি বছর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারই সমবয়সী কিছু স্কুলছাত্র।

আমরা জানি, শিশুরা যা দেখে তাই শিখে। অর্থাৎ তার পরিবেশ বা পারিপাশ্বর্কিতা থেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা নিয়েই তৈরি হয় তার মানস ও চরিত্র। আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে অহরহ ঘটছে হানাহানি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, ধর্ষণের মতো ঘটনা।

এসব শিশুমনেও প্রভাব ফেলছে। এগুলো যদি এভাবে প্রতিকারহীন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়, তার প্রভাব কিশোরদের ওপর পড়বেই।

সম্প্রতি অপহরণের তিন দিন পর গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় কেরানীগঞ্জের আটির নয়াবাজার স্কুলের সামনে থেকে শিশু পরাগকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারীরা রবিবার প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে অপহরণ করে। এ সময় পরাগের মা লিপি মণ্ডল অপহরণকারীদের গুলিতে আহত হন। পরাগ ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান।

তাদের জমিজমার ওপর চোখ পড়েছিল ভূমিদস্যুদের। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওই এলাকার জমিজমার ওপর দস্যুদের লোলুপ দৃষ্টি ছিল দীর্ঘদিন ধরে। পরাগদের জমি অপদখলের চেষ্টাও চালায় তারা। এ বিষয়ে র‌্যাবের মধ্যস্থতায় মীমাংসাও হয়। তার পরপরই ঘটে পরাগ অপহরণের ঘটনা। নয়াবাজার স্কুলের সামনে থেকে গভীর রাতে পরাগকে উদ্ধার করা হলেও এ বাবদ ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে তার অভিভাবকদের কাছ থেকে।

পুত্রের জীবন রক্ষায় তারা অপহরণকারীদের দাবির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা হতশ্রী হয়ে উঠেছে রাজধানীর উপকণ্ঠে প্রকাশ্য দিবালোকে শিশু পরাগের অপহরণের ঘটনা তারই প্রমাণ। এ ঘটনা কেরানীগঞ্জের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীন অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সরকার পরাগের অপহরণকারী এবং তাদের নেপথ্যজনদের খুঁজে বের করে প্রাপ্য শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তাহীন অবস্থার অবসান হবে বলে মনে হয় না।

কেরানীগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তারও অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংস্থাগুলোকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে বলে আমি মনে করি। আমরা শান্তিপ্রিয় জনতা তাই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না।

লেখক‍ঃ অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও সভাপতি সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম, ইমেইলঃ advssahmed@yahoo.com

16 Feb 2013   12:32:35 AM   Saturday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান