আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও রোহিঙ্গা শরণার্থী

ওলি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী


মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে বেশ চাপের মধ্যে আছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য সংসদে প্রদত্ত বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে আন্তর্জাতিক আইনে বাংলাদেশের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে উল্লেখ করেছেন। ব্যাপারটা যে সর্বাংশে সঠিক  তা নয়।

বাংলাদেশ যে-কয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষর করেছে তার বেশ কয়েকটিতেই স্বাক্ষরকারী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে কেউ আশ্রয় নিতে চাইলে তাদেরকে আশ্রয়দানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

এটা সত্যি যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শরণার্থী কনভেনশন বা এ সংক্রান্ত প্রটোকলে স্বাক্ষর করেনি। সুতরাং, কনভেনশন মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের নেই। কিন্তু বাংলাদেশ শিশু অধিকার সনদসহ কনভেনশন এগেইনস্ট টরচার এবং ইন্টারন্যাশনাল কভেনেন্ট অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস নামক তিনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র। এই তিনটি সনদে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা অনেক এবং সনদগুলোতে প্রথমে স্বাক্ষর এবং পরবর্তীতে অনুস্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের কাছে মানবাধিকার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।

কনভেনশন এগেইনস্ট টরচার যা সংক্ষেপে কেট ----- নামে পরিচিত সেই কনভেনশনে টর্চার তথা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে এমন সব দেশে জোর করে কোন মানুষকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে। টর্চার সংক্রান্ত কনভেনশনের তিন নম্বর অনুচ্ছেদে যে-দেশে টর্চারের আশংকা রয়েছে সে-দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আইসিসিপিআর ------ যা নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সনদ, তার ৭ম অনুচ্ছেদে টর্চারের মুখে কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে ঠেলে দেওয়ার ব্যাপারেও সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মানবাধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের কমিটি কর্তৃক ১৯৯২ সালে প্রদত্ত নির্দেশনায় টর্চার কিংবা নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির শিকার হতে পারেন সেরকম দেশে কাউকে জোর করে পাঠানো, বহিষ্কার বা ঠেলে দেওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিশু অধিকার সনদের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, কোন শিশু যদি শরণার্থী মর্যাদা প্রাপ্তির আবেদন করে বা দেশীয়  কিংবা আন্তর্জাতিক আইন ও কার্যপ্রণালী অনুযায়ী শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়, তার সঙ্গে তার মাতাপিতা বা অন্য কেউ থাকুক বা না-ই থাকুক, সে-শিশু এই সনদে এবং সংশ্লিষ্ট শরিক রাষ্ট্র সম্মতি দিয়েছে এমন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কিংবা মানবহিতকর দলিলে লিখিত অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা পাবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য শরিক রাষ্ট্র যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ এমনকি শিশু অধিকার কমিটিতেও নির্বাচিত সদস্য হিসেবে কাজ করেছে। ২০০৫ সালে প্রদত্ত এক নির্দেশনায় কমিটি শরণার্থী শিশুদের ব্যাপারে শিশু অধিকার সনদের ২২ ধারার অনুসরণে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করেছে।

বিশ্বের প্রথম যে ২২ টি দেশ জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুসমর্থন করেছিল, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে এই সনদের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য আবশ্যকীয় হয়েছে। অন্যান্য মানবাধিকার সনদের মতো এই সনদের অন্যতম প্রধান চেতনা হচ্ছে বৈষম্যহীনতা। অনুচ্ছেদ ২ এ বলা হয়েছে, শরিক রাষ্ট্রগুলো এই সনদে সন্নিবেশিত অধিকারগুলোকে সম্মান করবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য ব্যতিরেকে শিশুদের বা তাদের মাতাপিতার জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক বা অন্যান্য মতামত, জাতীয় উৎস, নৃগোষ্ঠীগত বা সামাজিক উৎস, সম্পত্তি, অক্ষমতা, জন্মগত বা অন্যবিধ মর্যাদা নির্বিশেষে সেসব অধিকার তাদের এখতিয়ারভুক্ত শিশুদের জন্য নিশ্চিত করবে।

ওলি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী একজন মানবাধিকারকর্মী।

25 Jun 2012   08:48:15 AM   Monday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান