আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

নিরাপত্তা হেফাজত!

হেফাজতের নামে ভিকটিমকে কি কারাগারে রাখা যায়?

অ্যাডভোকেট এ.এম. জিয়া হাবীব আহসান


‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর সহায়তায় ও মানবাধিকার সংগঠন ‘ইলমা’র উদ্যোগে গত ২৩ জানুয়ারী ২০১৩ইং, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘‘নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রঃ নারী, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের চিরস্থায়ী বাসস্থান নয়’’ শীর্ষক এক মত বিনিময় সভা। উক্ত অনুষ্ঠানে ‘নিরাপদ আবাসন’ সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মানিত সভাপতি, সেক্রেটারী, জেলা পি.পি, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিচার ব্যবস্থার সাথে জড়িত অন্যান্যরা।

ইলমা’র নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা হেফাজত সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত ধারণা ও সুপারিশের ভিত্তিতে এ প্রবন্ধের অবতারণা করেছি।

বিভিন্ন ফৌজদারী মামলার ভিকটিম এবং কুড়িয়ে পাওয়া নারী-শিশু ও কিশোরীরা মামলার আসামী না হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে অনেক সময় নিরাপত্তা হেফাজতের নামে কারাগারে আসামীদের সাথে বসবাস করতে হয়। অথচ তারা তাদের অভিভাবকদের কাছে ফিরে যাবে, অন্যথায় নিরাপদ আবাসনে তাদের রাখার সু-ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে নিরাপদ আবাসন তাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা নয়। অভিভাবকের কাছে ফিরে যাওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত Transit Period এর জন্য তারা সেখানে থাকবে। আমাদের বিচার ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত যারা তারা হলেন বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউটর, আদালত কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিক, এনজিওকর্মীসহ অন্যান্যদের সঠিক সময়োপযোগী পদক্ষেপের অভাবে একজন নারী বা শিশু ভিকটিম এর জীবনে করুণ দুর্দশা নেমে আসতে পারে।

১৯৯৬ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার পুলিশ হেফাজতে নির্যাতিতা পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে নিহত গার্মেন্টস কর্মী সীমা চৌধুরীর ঘটনা এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

ভিকটিম সীমা চৌধুরী মামলার আসামী না হওয়া সত্ত্বেও তাকে নিরাপত্তা হেফাজতের নামে কারাগারে আসামীদের সাথে রাখা হয়। মামলায় তাকে বাদী না করে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলায় পুলিশকে বাদী এবং সাক্ষী করা হয়, ফলে আসামীরা খালাস পায়। সীমার মা এবং ভাইকে খবর না দিয়ে তার লাশ পুঁড়ে ফেলা হয়। আর কোন ভিকটিম যাতে সীমার পরিনতি ভোগ করতে না হয় তার জন্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামে নিরাপদ আবাসনে মামলার নারী ও শিশু ভিকটিম সহ অসহায় নারী ও শিশুদের হস্তান্তর করে তাদের আইনী সহায়তা প্রদান, পুনর্বাসন, কাউন্সিলিং, স্বাস্থ্য সেবা প্রভৃতি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে ‘‘ইলমা’’ (Ensure legal support through local movementy and action)।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘ইলমা’ পরিচালনা করছে ‘বিদ্যমান সেফ হোম সমূহে কার্যকর, মানসম্মত ও দীর্ঘ মেয়াদী সেবা নিশ্চিতকরণ প্রকল্প’। ২০০৮ জুন থেকে ২০১১ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম ধাপ সাফল্যের সাথে শেষ হওয়ায় তা ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ নবায়ন ও বর্ধিত করা হয়েছে।

নিবাসীদের কাউন্সিলিং সেবা প্রদান, দীর্ঘদিন ও অযথা নিবাসীরা যাতে সেফ হোমে আটকা পড়ে না থাকে এবং দ্রুততম সময়ে পরিবারে ফিরে যেতে পারে মূলত এসব বিষয়ে কাজ করার জন্যই মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

সেফ হোমে যে সব সেবা সমূহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন‍ঃ

স্বাস্থ্য সেবা, আইনগত সহায়তা, দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ, কাউন্সিলিং ও পারিবারিক পূনর্বাসন, অভিভাবক সচেতনতাকরণ, প্রকল্পের কর্মর্সচীর মধ্যে রয়েছে সেফ হোমে নারী দিবস ও জাতীয় দিবস সমূহ উৎযাপন করা। সেফ হোম নিবাসীদের পরিবারে ফেরার সুবিধার্থে পত্রিকায় খবর প্রচার করা। নিবাসীদের শরীর চর্চা সহ সাংস্কৃতিক সর্মকান্ডে অংশ গ্রহণে উৎসাহিত করা। সেফ হোম নিবাসীদের আয়বর্ধক কর্মসূচীতে প্রশিক্ষণ প্রদান।

মানবাধিকার আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর, পুলিশ, বিচারকদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নিবাসীদের আইনী সহায়তা নিশ্চিত করা। সরকারের জেলা আইন সহায়তা কমিটির মাধ্যমে আইনী সহায়তা পাওয়ার সু-বন্দোবস্ত করা। নিরাপদ আবাসনে ব্যবস্থাপনার গুণগত মান নিশ্চিত করণের প্রশিক্ষণ, পরিবীক্ষণ ও ডকুমেন্টেশনে সহায়তা প্রদান। নিবাসীদের প্রকৃত অভিভাবকের কাছে হস্তগত ও পুনর্বাসন করা। মানসিক প্রতিবন্ধিদের মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। সাংবাদিকদের মাধ্যমে কুড়িয়ে পাওয়া নারী ও শিশুদের সংবাদ প্রকাশ করে অভিভাবকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। বাকপ্রতিবন্ধি শিশু ও মহিলাদের ছবি ও খবর প্রকাশ করা। লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা। গর্ভকালীন চিকিৎসা সেবা ও নিরাপদ সন্তান প্রসবে সহায়তা করা। অভিভাবকদের ঠিকানায় পৌঁছে দেয়া। এভাবে সরকারী ও বেসরকারী সংগঠনের সহযোগিতায় সেফ হোমকে কার্যকরীভাবে চালানো সম্ভব। অসহায় নারী ও শিশু ভিকটিমদের নিরাপদ আবাসনে পাঠানো যেনো কারো লক্ষ্য না হয়।

সর্ব প্রথম লক্ষ্য হবে তাকে তার ঘরে ফিরে যেতে সাহায্য করা। তা সম্ভব না হলে যতক্ষণ সম্ভব হবে না ততদিনের জন্য তাকে নিরাপদ আবাসনে রাখার ব্যবস্থা করা। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে প্রণীত আইন ও সিডো সনদে নারী অধিকার এবং ১৯৭৪ সালের শিশু আইন শিশুদের যে অধিকার দিয়েছে তা থেকে কোন নারী শিশু যেন বঞ্চিত না হয় সেদিকেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। নারী ও শিশু ভিকটিমদের অত্যন্ত সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতে হবে।

নিরাপত্তা হেফাজতের নামে কোন নারী, শিশু কিংবা কিশোরী যেন কারাগারে প্রেরিত না হয়, যা মানবাধিকারের চরম লংঘন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের যুপপৎ ভূমিকা রাখতে হবে। ‘ইলমা’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালিত ফরহাদাবাদ মহিলা ও কিশোরী নিরাপদ আবাসন সহ বিভিন্ন নিরাপদ আবাসনে কুঁড়িয়ে পাওয়া নারী শিশু কিশোরী সহ মামলায় ভিকটিমদের প্রেরণ, জিম্মায় গ্রহণ ও তাদের অভিভাবকের নিকট পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে থাকে।

চট্টগ্রামে অবস্থিত বিভিন্ন্ নিরাপদ আবাসন এর তালিকা‍ঃ (তথ্য সূত্র বিএইচআরএফ)

  • ১.ছোটমনি নিবাস
  • ২. মহিলা ও কিশোরী নিরাপদ আবাসন
  • ৩. ড্রপ ইন সেন্টার (বালক)
  • ৪. পিকার(বালিকা) 
  • ৫. মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান
  • ৬. প্রশান্তি-২
  • ৭. এস ও এস শিশু পল্ল¬ী
  • ৮শিশু সদন (বালিকা)
  • ৯. শিশু সদন (বালক)
  • ১০. নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল
  • ১১. কর্ণফুলী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (মহিলা)

আইনের কথা ঃ

আইনের বিধাননুযায়ী ট্রাইব্যুনাল কোন নারী বা শিশুকে কারাগারের বাইরে সরকারি হেফাজতে অন্যত্র বা সরকার অনুমোদিত কোন সংস্থা বা ব্যক্তি নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার আদেশ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে উক্ত নারী বা শিশুর মতামত বিবেচনা করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৩১ ধারায় বলা হয়েছে ‘‘এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার চলাকালে যদি ট্রাইব্যুনাল মনে করে, কোন নারী বা শিশুকে নিরাপত্তামূলক হেফাজতে রাখা প্রয়োজন, তাহলে ট্রাইব্যুনাল উক্ত নারী বা শিশুকে কারাগারের বাইরে ও সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্থানে সরকারি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে বা ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় যথাযথ অন্য কোন ব্যক্তি বা সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিতে পারেন।’’

শিশু আইন, ১৯৭৪ এ দুঃস্থ ও অবহেলিত শিশুদের তত্ত্বাবধান ও পালনের রক্ষণের কর্মপন্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

এ আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে ‘‘যে সকল শিশুকে গৃহহীন, দুঃস্থ ইত্যাদি অবস্থায় পাওয়া যায়- (১) কোন প্রবেশন অফিসার কিংবা কমপক্ষে সাব-ইন্সপেক্টরের পদমর্যাদাসম্পন্ন পুলিশ অফিসার অথবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রদত্ত অন্য কোন ব্যক্তি শিশু আদালত বা ৪ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রদত্ত আদালতে, তার মতে শিশু এবং নিম্নবর্ণিত অবস্থার সম্মুখীন বলে বিবেচিত যে কোন ব্যক্তিকে হাজির করতে পারবেন এবং এরূপ যে কোন ব্যক্তিকে হাজির করতে পারবেন যিনি বা যাহাকে-

(ক) যাহার কোন গৃহ, নির্দিষ্ট কোন বাসস্থান অথবা জীবনধারণের কোন দৃশ্য উপায় নেই অথবা এরূপ কোন পিতা-মাতা বা অভিভাবক নেই যিনি নিয়মিত ও যথাযথভাবে অভিভাবকের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন; অথবা

(খ) যাকে ভিক্ষা করতে দেখা যায় অথবা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোন কাজ এরূপ অবস্থাধীন করতে দেকা যায় যা উক্ত শিশুর মঙ্গলের পরিপন্থী;

(গ) যাকে দুস্থ অবস্থায় নিপতিত দেখা যায় অথবা যার পিতা-মাতা বা অভিভাক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা কারাদণ্ড ভোগ করতেছে; অথবা

(ঘ) যিনি এরূপ পিতা-মাতা অথবা অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেনে, যিনি প্রায়ই স্বভাবতঃ শিশুটিকে অবহেলা করে অথবা তার সাথে নিষ্ঠুর ব্যবহার করে; অথবা,

(ঙ) যাকে সাধারণত কোন কুখ্যাত অপরাধী অথবা তার পিতা-মাতা কিংবা অভিভাবক নহে এরূপ পতিতার সঙ্গদোষে দুষ্ট অবস্থায় পাওয়া যায়; অথবা

(চ) যিনি অবস্থান করছেন অথবা প্রায়ই যাতায়াত করছেন এরূপ কোন বাড়িতে যা পতিতা বৃত্তিতে নিয়োজিত কোন পতিতার ব্যবহারের অধীনে রয়েছে এবং যিনি উক্ত পতিতার শিশু নন; অথবা

(ছ) যিনি প্রকারান্তরে কোন অসৎ সঙ্গে পতিত হতে পারে অথবা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হতে পারে অথবা অপরাধের জীবনে প্রবেশ করতে পারে।

(২) (১) উপ-ধারায় উল্লেখিত কোন শিশুকে যে আদালতে হাজির করা হয়ে সে আদালত তথ্যাদি পরীক্ষা করবেন এবং এরূপ পরীক্ষার সারমর্ম লিপিবদ্ধ করবেন, এবং যদি মনে করেন যে, আরও তদন্ত করার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে তবে তদুদ্দেশ্যে তারিখ ধার্য করবেন।

(৩) (২) উপ-ধারার অধীনে তদন্তের জন্য ধার্য দিবসে অথবা অন্য কোন পরবর্তী তারিখ যে পর্যন্ত কার্যধারা মূলতবী থাকে সেই তারিখে আদালত এই আইনের অধীনে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে এর পক্ষে এবং বিপক্ষে যে সকল প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য প্রদত্ত হতে পারে তা শুনবেন এবং লিপিবদ্ধ করবেন বেং যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ পুনরায় তদন্ত করতে পারেন।

(৪) এরূপ তদন্ত করে আদালত যদি সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত ব্যক্তি (১) উপ-ধারায় বর্ণিত একটি শিশু এবং তদনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন তা হলে আদালত তাকে কোন প্রত্যায়িত ইনস্টিটিউটে অথবা অনুমোদিত আবাসে প্রেরণের আদেশ দিতে পারেন অথবা তাকে কোন আত্মীয় কিংবা আদালত কর্তৃক উল্লেখিত এবং শিশুটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা কোন সংক্ষিপ্ততর সময়ের জন্য তত্ত্বাবধান করতে ইচ্ছুক অন্য কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সোপর্দ করার আদেশ দিতে পারবেন।

(৫) যে আদালত শিশুকে কোন আত্মীয় অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে প্রেরণের আদশে দেন সে আদালত এরূপ আদেশ প্রদানকালে এরূপ আত্মীয় অথবা অন্য ব্যক্তিকে জামিনসহ অথবা বিনা জামিনে এই মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদনের নির্দেশ দিবেন যে, তিনি শিশুটির সদাচরণের জন্য এবং অন্যান্য যে সকল শর্ত আদালত শিশুটির সৎ এবং পরিশ্রমী জীবন যাপনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য আরোপ করতে পারেন সেই সকল শর্ত পালনের জন্য দায়ী থাকবেন।

(৬) যে আদালত শিশুটিকে আত্মীয় অথবা অন্য উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দের জন্য এই ধারার অধীনে আদেশ প্রদান করেন সেই আদালত অতিরিক্ত আদেশ প্রদান করতে পারেন যে, শিশুকে প্রবেশন অফিসার অথবা আদালত কর্তৃক উল্লেখিত অন্য ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে রাখা যেতে পারে।’’


ঐদিনের আলোচনা সভায় যে সব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশমালা উঠে আসে সেগুলো হলো ঃ সরকারী সেফ হোমের নিবাসীদের ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা। কেননা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকাতে নিবাসীদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী সহায়তা দেয়া সহজ হয় না।

সেফ হোম নিবাসীদের দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়। প্রতিবন্দিরা সেফ হোমে অবহেলিতই থেকে যায়। নিরাপদ আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগ দেয়া। সেফ হোম থেকে আদালতে যাওয়া আসার জন্য উন্নমানের যান বাহনের ব্যবস্থা করা। তাদের পাবলিক পরিবহনে না নেয়া। যাতে আসামী পক্ষ আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে হাত করে নিবাসীদের পক্ষে নিতে প্রলুব্ধ করতে না পারে। জেলা আইন সহায়তা কমিটি সহ সংশ্লিষ্ট সকল মানবাধিকার সংগঠনের সাথে সমন্বয় সাধনের ব্যবস্থা করা। নিবাসীদের সঠিক বয়স নির্ধারণে প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্টের ব্যবস্থা করা।

পুলিশ ফরোয়ার্ডিং এ ভিকটিমের বয়স বাড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা করা। আদালতে ভিকটিমদের জবানবন্দি গ্রহণে ও সাক্ষ্য প্রদানের সময় ক্যামেরা ট্রায়াল (বিচারকের খাস খামরায়) এর ব্যবস্থা করা। আবাসনে স্বাস্থ্য সেবা, কাউন্সিলিং ও দক্ষতা বৃদ্ধি মূলক সেবা সমূহ কার্যকরীভাবে চালু করা। নিবাসীদের সাথে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দিনে সাক্ষাত প্রদানের সুযোগ রাখা। আসামীর লোকজন যাতে বাবা-মা সেজে নিবাসীর সাথে সাক্ষাত করে তাকে প্রলুব্ধ করে সুবিচারকে বাধাগ্রস্থ করতে না পারে তার জন্য সাক্ষাত প্রার্থীদের ভোটার আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

প্রয়োজনের তুলনায় সেফ হোমের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রত্যেক জেলায় কমপক্ষে ২/৩টি করে সেফ হোমের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। মহিলা মা নিবাসীদের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ও মায়ের বিশেষ যতেœর ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত প্রবেশন অফিসারদের সংখ্যা ও তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। নিরাপদ আবাসনে অবস্থানরত নারী শিশু ও কিশোরীদের তালিকা মানবাধিকার সংগঠন, জেলা আইন সহায়তা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট এনজিও দের অবহিত করলে তাদের মুক্তির ব্যাপারে আইন সহায়তা কার্যক্রম আরো জোরদার হবে। পরিবহন কিংবা লোকবল সংকটের অযুহাতে কোন ভিকটিম নারী ও কিশোরী কিংবা শিশু যাতে নিরাপত্তা হেফাজতের নামে কারাগারে আসামীদের সাথে বসবাস করতে না হয় সে ব্যাপারে বিচারক, আইনজীবী, কারাকর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। নিরক্ষরদের অক্ষর দান করতে হবে।

বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ যেমন- ব্লক বা বুটিক, সুঁচি শিল্প, হেয়ারকাটিং বা পার্লার ট্রেনিং, বাঁশ ও বেতের কাজ, কাপড়ের ফুল তৈরী ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান। এধরণের মত বিনিময় সভা বিচারক, সরকারী আইনজীবী, মানবাধিকার আইনজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা, এনজিও কর্মী, প্রবেশন অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্যাতন মুক্ত একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করতে সহায়ক হবে মনে করছি। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব। যার জন্য ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ ও ‘ইলমা’ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

লেখক আইনজীবী, কলামিস্ট, সুশাসন ও মানবাধিকার কর্মী।

28 Jan 2013   07:23:01 AM   Monday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান