আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

শিশু অধিকার

শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আইন আছে, প্রয়োগ নেই

অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক


আমাদের দেশে শিশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। বাড়ি, অফিস, কল-কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠুর আচরণের শিকার হচ্ছে কোনো না কোনো শিশু। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও শিশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে, যা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

এক শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ী মাদক বিক্রি বা মাদক পাচারে শিশুদের কাজে লাগাচ্ছে। গাঁজা বহন করার সময় কিংবা অস্ত্র বহন করার সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে কোনো শিশু-খবরের কাগজে প্রতিনিয়ত এরকম খবর প্রকাশ পাচ্ছে। শিশুদের বিপদে ঠেলে দেওয়া শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা। শুধু মাদক কিংবা অস্ত্র পাচার নয়, বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে শিশুদের নিয়োগ করছে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো।

শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে শিশুদের অপরাধপ্রবণ হতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব কাজ আইনের চোখে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ হিসেবে গণ্য হবে ।

এবার দেখা যাক শিশু আইন, ১৯৭৪-এ শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বা শিশুদের অপরাধ করতে বা অনৈতিক কাজে ব্যবহার করার শাস্তি কী রয়েছে। এ আইনে ৩৪-৪৫ ধারায় শিশু সম্পর্কিত বিশেষ অপরাধ ও শাস্তির বর্ণনা করা হয়েছে।

১. শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার দণ্ড

১৯৭৪সালের শিশু আইন অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়স্ক ব্যক্তি শিশু। ১৬ বছরের বেশী বয়স্ক ব্যক্তি যদি কোনো শিশুকে আক্রমন, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন অথবা অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ করে অথবা করায় এবং এ ধরনের কাজের ফলে শিশুটির অহেতুক দুর্ভোগ হয়, তাহলে এটা হবে শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা। দুর্ভোগের কারণে যদি শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি ক্ষতি হয়, তার দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয় বা মানসিক বিকৃতি ঘটে তাহলে নিষ্ঠুর আচরণকারী ব্যক্তি শিশু আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদ- অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দ- দ-িত হতে পারে।

২. শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগ

কোন শিশুকে কোন ব্যক্তি যদি ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগ করে অথবা কোন শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করায় অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান ও দেখাশোনার জন্য দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তি যদি ভিক্ষার উদ্দেশ্যে শিশুকে আলামত হিসেবে ব্যবহার করে তাহলে ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী ওই ব্যক্তি এক বছর পর্যন্ত কারাদ- ও ৩০০ টাকা জরিমানা হতে পারে অথবা উভয় দ- হতে পারে।

৩. শিশুর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মদ পান

শিশু আইনের ৩৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোন শিশুর লালন-পালনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি প্রকাশ্যে মদ পান করে মাতলামি করলে তাকে ১০০ টাকা জরিমানা করা যাবে। যতবার মদ পান করে মাতলামি করবে ততবারই তাকে অর্থদ-ে দ-িত করা যাবে।

৪. শিশুকে মাদক বা বিপজ্জনক ওষুধ দেওয়া যাবে না

কোন শিশুকে অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন নেশা জাতীয় সুরা বা বিপজ্জনক ওষুধ দেওয়া হয় বা দিতে বাধ্য করা হয় তাহলে শিশু আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী যে ব্যক্তি সুরা বা ওষুধ দিবে বা দিতে বাধ্য করবে, তার এক বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদ- হতে পারে।

৫. সুরা বা বিপজ্জনক ওষুধ বিক্রির স্থানে প্রবেশ

সুরা বা বিপজ্জনক ওষুধ বিক্রির স্থানে কোন শিশুকে নিয়ে গেলে বা সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে বা কোন শিশুকে সেখানে যাওয়ার কারণ ঘটালে দায়ী ব্যক্তিকে শিশু আইনের ৩৮ ধারা মোতাবেক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে।

৬. বাজি ধরা বা ঋণ গ্রহণে উস্কানি দেওয়া

শিশু আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোন শিশুকে কোন বাজি ধরতে বা এ ধরনের কোন লেনদেন করতে বাধ্য করা হলে বা উস্কানি দেওয়া হলে বা উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করলে বা কোন শিশুকে ঋণ গ্রহণ করতে উস্কানি দেওয়া হলে দায়ী ব্যক্তিকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদ- দেওয়া যাবে।

৭. শিশুর থেকে কিছু কেনা

কোনো শিশুর কাছ থেকে কোনো দ্রব্য কেনা বা বন্ধক নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশু আইনের ৪০ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি শিশুর কাছ থেকে কিছু কিনবে বা বন্ধক রাখবে তাকে এক বছর পর্যন্ত কারাদ- দেওয়া যাবে। জরিমানাও করা যাবে।

৮. পতিতালয়ে থাকার অনুমতি

চার বছরের বেশি বয়স্ক শিশুকে পতিতালয়ে বাস করতে বা প্রায়ই যাতায়াত করতে কেউ সুযোগ বা অনুমতি দিলে তার দুই বছর পর্যন্ত বা যে কোনো মেয়াদের কারাদ- হতে পারে। শিশু আইনের ৪১ ধারা অনুযায়ী এই শাস্তি দেওয়া যাবে।

৯. অসৎ পথে পরিচালনা

শিশু বালিকাকে অসৎ পথে পরিচালনা করলে বা পতিতাবৃত্তিতে উৎসাহ দেওয়া হলে বা স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলন করায় বা মিলনে উৎসাহ দেওয়া হলে দায়ী ব্যক্তিকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদ- দেওয়া যাবে (শিশু আইনের ৪২ ধারা)।

১০. শিশু কর্মচারীকে শোষণ

যদি কেউ কোনো শিশুকে ভৃত্যের চাকরি অথবা কারখানা কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের কাজে নিয়োগ দেওয়ার ভান করে নিজ স্বার্থে শোষণ করে বা কাজে লাগায়, আটক রাখে বা শিশুর উপার্জন নিজে নেয় তবে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা দ-ে দ-িত করা যাবে। যদি কেউ একই উদ্দেশ্যে শিশুকে নিয়োগ দিয়ে তাকে অসৎপথে পরিচালিত করে, যৌনকর্মে লিপ্ত করে বা এমন কাজের ঝুঁকির সম্মুখীন করে তবে তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদ- দেওয়া যাবে বলে শিশু আইনের ৪৪ ধারায় বলা হয়েছে।

১১. পলায়নে সহায়তা

সরকারি কোনো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে শিশু আটক থাকলে তাকে পলায়নে কেউ সহায়তা করলে বা সহায়তা করতে উৎসাহ দিলে ওই ব্যক্তির দুই মাস পর্যন্ত কারাদ- হতে পারে বলে শিশু আইনের ৪৫ ধারায় বলা হয়েছে। শিশুর প্রতি এই ধরনের নিষ্ঠুরতা চোখে পড়লে আপনিও জানাতে পারেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। আবার দেশে যে সব মানবাধিকার সংগঠন রয়েছে, সেসব সংগঠনের মানবাধিকার কর্মীদেরকেও খবর দিতে পারেন।

লেখক: সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী জজ কোর্ট, কুষ্টিয়া।

04 Nov 2012   01:33:31 AM   Sunday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান