আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

পারিবারিক সহিংসতা

আইন প্রণয়নের ২ বছর পরও গেজেট নোটিফিকেশন হয়নি

অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান


পারিবারিক সহিংসতা হতে নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১০ সালে প্রনীত হয় “পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন“ (২০১০ সনের ৫৮ নং আইন )। জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত আইনটি ১১ই অক্টোবর ২০১০ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে। কিন্তু অদ্যাবধি দীর্ঘ ২ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও আইনটির গেজেট নোটিফিকেশন এবং বিধি রচনা না হওয়ায় নির্যাতিতরা এই আইনের কোন সুফল পাচ্ছেন না।

সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট্স ফাউন্ডেশন-বিএইচআরএফ, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার কর্তৃক আয়োজিত “পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে মানবাধিকার কর্মীদের ভূমিকা” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তাগণ এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন ২০১০ এর ১নং ধারার ২ উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “সরকার, সরকারি গেজেট, প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সে তারিখ হইতে এই আইন কার্যকর হইবে”। কিন্তু আইন পাশের দীর্ঘ ২ বছরেও উক্ত গেজেট নোটিফিকেশন বা প্রজ্ঞাপন জারী হয়নি। ফলে আইনটি অকার্যকর, অচল ও অরক্ষণীয় হয়ে পড়েছে।

একই আইনের ৫নং উপধারায় উল্লেখ আছে ‘‘প্রয়োগকারী কর্মকর্তা নিয়োগ-১) সরকার,সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ক্ষেত্রমত, প্রত্যেক উপজেলা, থানা, জেলা বা মেট্টোপলিটন এলাকার জন্য বা একাধিক প্রয়োগকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য তাহাদের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।

২)প্রয়োগকারী কর্মকর্তার নিয়োগ পদ্ধতি এবং চাকুরীর শর্তাবলী বিধিদ্বারা নির্ধারিত হইবে।

উক্ত আইনের বিধান মোতাবেক কোন বিধিও অদ্যাবধি প্রনীত হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অবিলম্বে গেজেট নোটিফিকেশন জারী এবং বিধি প্রণয়নের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানানো হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ ব্যাপারে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় একবারে নিশ্চুপ।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে প্রায় ১৫ টি মামলা উক্ত আইনে ঝুলে আছে। আসামী পক্ষ উক্ত কারণে মামলা খারিজেরও আবেদন করছেন।

বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পক্ষদ্বয়কে আপোষের পরামর্শ দিয়েছেন। পারিবারিক আদালত, নারীও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আদালত সহ যৌতুক নিরোধ আইনে যেসব বিষয়ে বিভিন্ন কারণে নির্যাতিতরা সুফল পাচ্ছেন না, তাদের জন্যই এ চমৎকার আইনটি (পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন) প্রবর্তিত হয়।

আইনটিতে ৭টি অধ্যায় এবং ৩৭ টি ধারা রয়েছে। আইনটিতে পারিবারিক সহিংসতার শিকার যেকোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে প্রতিপক্ষের হয়রানি থেকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আদেশ (ধারা-১৩/১৪) জারীর ব্যবস্থা রয়েছে।

ফলে যেকোন ধরণের আসন্ন সহিংসতা থেকে সংশ্লিষ্টদের রক্ষা করা যায় এ আইনে। ১৬ ধারার অধীনে আদালত ক্ষতিগ্রস্থ বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি হলে বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করবেন সেরূপ আর্থিক ক্ষতিপূরণ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে প্রদানের জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারেন।

সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এবং তার সন্তানদের ভরণ পোষনের আদেশও আদালত দিতে পারবেন এ আইনে। শারীরিক, মানসিক, যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ, আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ে এই আইনের তুলনা নেই।

মামলাটি  নোটিশ জারীর দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে (ব্যতিক্রম ছাড়া) নিস্পত্তিযোগ্য হয়।

নিভৃত কক্ষে বিচার কার্যক্রমের সুযোগ থাকায় প্রকাশ্যে জন সমক্ষে সংক্ষুব্ধ বা প্রতিপক্ষের অপমান অপদস্থ হওয়ার ভয় থাকেনা।

তাছাড়া মামলার ধারা সমুহে আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং আপোষযোগ্য এ আইনে সুরক্ষা আদেশ লংঘনের শাস্তি অনধিক ৬মাসের কার‍াদণ্ড বা অনধিক ১০(দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড এবং অপরাধ পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে তিনি অনধিক ২(দুই বছর) কারাদণ্ড বা অনধিক ১(এক) এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিকল্পে ৩১ ধারায় আদালত প্রতিপক্ষকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সমাজকল্যাণমুলক কাজে সেবা প্রদানের আদেশ দিতে পারেন। কারো ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে এ আইনের অপব্যবহারের শাস্তি অনধিক ১(এক) বৎসর কারাদণ্ড বা ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

৩৬ ধারায় এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এটি প্রণয়ন করতে পারে।

এই চমৎকার আইনটি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের কর্মী বা সরকারের নিকট জোর দাবী জানিয়ে আসছিলেন, কিন্তু আইন প্রবর্তনের দীর্ঘ ২(দুই) বছরেও গেজেট নোটিফিকেশন ও বিধি রচনা না হওয়ায় আইনটির সুফল থেকে পারিবারিক সহিংসতার শিকার দেশের হাজার হাজার নারী, শিশু ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা বঞ্চিত রয়েছে।

আশা করি সরকার বিষয়টির প্রতি গুরত্ব দেবেন, নজর দেবেন।

লেখক‍ঃ কলামিষ্ট, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী।

04 Dec 2012   08:05:08 PM   Tuesday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান