| |||||||||||||
বন্ধকী কৃষি জমি উদ্ধারে বাধা দিলে মামলা করে প্রতিকার পাওয়া যায়অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক আমাদের অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে টাকার দরকার হয়। হাতে নগদ টাকা না থাকলে আত্মীয়-স্বজনের কাছে ধার করার চেষ্টা করি। যদিও ধার বা কর্জ করা ভাল কাজ না। এতেও যদি টাকা যোগাড় করতে না পারি তবে জমি বন্ধক রেখে টাকা নেয়া যায়। এজন্য বন্ধক গ্রহীতাকে বন্ধক দলিল করে দিতে হয়। ১০০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি দাম দলিলে উল্লেখ করলে বন্ধক দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়।বন্ধক বেশ কয়েক রকমের আছে। এক ধরনের বন্ধকে ব্যক্তিগত দায়িত্বে টাকা ধার নিয়ে টাকা পরিশোধ না করতে পারলে বন্ধকী জমি বিক্রি করে টাকা আদায় করা হয়। এক্ষেত্রে জমির দখল বন্ধকদাতাকে দেয়া হয় না। আদালতের মাধ্যম ছাড়া জমি বিক্রি করে টাকা আদায় করা যায় না। আর এক রকমের বন্ধক আছে যেক্ষেত্রে জমি বিক্রির শর্তে বন্ধক দেয়া হয়। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে টাকা শোধ করতে পারলে জমি ফেরত দেয়া হয়। টাকা শোধ করতে না পারলে জমি বিক্রি বলে গণ্য হয়। এছাড়া জমির দলিল জমা রেখে টাকা ধার নেয়া যায়। এছাড়াও খাই খালাসি বন্ধক আছে। কৃষি জমি খাই খালাসি ছাড়া অন্য কোন বন্ধক হয় না। বন্ধক দেয়া কৃষি জমি সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত বন্ধক থাকে। বন্ধক দলিলে সাত বছরের বেশি লেখা হলেও কিছু আসে যায় না। সাত বছর খাওয়ার পর আপনাকে জমি ফেরত দিতে হবে এ জন্য কোন টাকা ফেরত দিতে হবে না। জমি ভোগ করার জন্য বন্ধকের টাকা শোধ হয়ে যায়। এই জন্য এই বন্ধককে খাই খালাসি বন্ধক বলে। সাত বছরের বেশি সময়ের জন্য বন্ধক দেয়া হলে সাত বছর পর জমি ফেরত পাওয়া যাবে। অর্থাৎ খাই খালাসি বন্ধক সর্বোচ্চ সাত বছর হয়। সাত বছরের আগেও হারাহারি টাকা ফেরত দিয়ে বন্ধক দেয়া জমি ছাড়িয়ে নেয়া যায়। অনেকে লেখাপড়া না জানার জন্য বন্ধক দলিল মনে করে বিক্রয় দলিল করে দেয়। যিনি বন্ধক নেন তিনি দাবি করেন যে তার কাছে জমি বিক্রি করা হয়েছে তাই জমি ফেরত পাবে না। ভুল বুঝিয়ে বন্ধকের কথা বলে জমির বিক্রি দলিল করে নিলে মামলা করে সেই জমি ফেরত পাওয়া যেতে পারে তবে সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়। আমরা কেন অহেতুক বিপদে পড়ব? বন্ধক দেওয়ার সময় বন্ধক দলিল দেখে, পড়ে ও বুঝে সই করব। খাই খালাসি বন্ধক দেয়া জমি সাত বছর পর ফেরত না দিলে আপনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে দরখাস্ত করে জমি ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন করতে পারেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বন্ধক গ্রহীতাকে নোটিশ দিয়ে জবাব দিতে বলে থাকেন। জবাব পাওয়ার পর শুনানি করেন। শুনানি করার পর খাই খালাসি বন্ধক হলে জমি ফেরত দেয়ার আদেশ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঠিক আদেশ না দিলে আপনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে আপিল করতে পারেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনার অফিসে অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব)-এর কাছে আপিল করা যায়। অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব)-এর আদেশের বিরুদ্ধে ভূমি আপিল বোর্ডে আপিল করা যায়। কৃষি জমি খাই খলাসি বন্ধক ছাড়া অন্য কোন প্রকার বন্ধক হয় না। লেখক: সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী জজ কোর্ট, কুষ্টিয়া। 30 Oct 2012 09:28:06 PM Tuesday
|
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com সর্বশেষ ২৪
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবর
|
||||||||||||
| |||||||||||||
| |||||||||||||