আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিল ও প্রাসঙ্গিক কথা

অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক


হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ নিবন্ধনের বিধান ঐচ্ছিক রেখে ‘হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিল-২০১২’ সংসদে পাস হয়েছে। এ আইন কার্যকর হওয়ার আগে হিন্দু ধর্মমতে অনুষ্ঠিত বিয়ে এ আইনের অধীনে নিবন্ধন করা যাবে বলেও বিধান রাখা হয়েছে।

সুখের সংবাদ যে হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ রাখা ও  বিবাহ সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে হিন্দু নারীদের রক্ষা করতে এ বিল পাস ইতোমধ্যে সুধী সমাজে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ তাদের শাস্ত্রমতে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর কোনো দালিলিক প্রমাণ থাকে না। দালিলিক প্রমাণ না থাকার কারণে বিবাহ পরবর্তী বিবাহ সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয় মৌখিক সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিবাহের যে কোনো পক্ষ বিশেষত: হিন্দু নারীরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাদের সহজে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয় না।

বর্তমানে বিদেশ ভ্রমণ, অভিবাসন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধন সম্পর্কিত দালিলিক প্রমাণ একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে সময় সময় নির্ধারিত এলাকা এবং সিটি করপোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ দেবে।

বিলের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, ২১ বছরের কম বয়স্ক কোনো হিন্দু পুরুষ বা ১৮ বছরের কম বয়স্ক কোনো হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তা এ আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হবে না।

প্রস্তাবিত আইনের ৬ ধারায় বিবাহ নিবন্ধনের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্ম, রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠান অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর ওই বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে যে কোনো পক্ষের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবাহ নিবন্ধন করবেন।

উল্লেখ্য, ভারতে ১৯৫৫ সালে ‘হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট’ প্রণীত হয়েছে।

আমাদের সংবিধানে বলা হয়েছে ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী এবং রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।’ সেই সাথে ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ ভেদে অথবা জন্মস্থানের কারণে কারো প্রতি বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংবিধানের ২৭ ধারায় উল্লেখ রয়েছে সব নাগরিক সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী, তবে সংবিধানে বর্ণিত এই সমান অধিকার বা সমান আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার শুধু সংবিধানের কাগুজে-কলমে সীমাবদ্ধ, বাস্তবতায় রয়েছে ভিন্নতা।

কুষ্টিয়ার মেয়ে পূজা বিশ্বাসের সাথে ঢাকার অপূর্ব বিশ্বাসের হিন্দু শাস্ত্রমতে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নিয়ম ও প্রথা মেনে পূজার বাবা হিরন্ময় বিশ্বাস মেয়ের সুখের জন্য নগদ টাকা, ব্যবহার্য আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার যৌতুক হিসেবে ছেলেকে প্রদান করেন।

কিন্তু বিধিবাম! কয়েক বছর যেতে না যেতেই অপূর্ব বিশ্বাস প্রথম স্ত্রী পূজা বিশ্বাসকে কোনো কিছু না জানিয়ে কিংবা তার অনুমতি ব্যতিরেকে আরেকটি বিয়ে করেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী রুপালী বিশ্বাসকে নিয়ে সুখে বসবাস শুরু করেন। এদিকে পূজা বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর আদর, স্নেহ, ভালবাসা ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হয়ে নিদারুন কষ্টে জীবন যাপন করতে থাকেন।

কিন্তু হিন্দু ধর্মের বিধান মতে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিষ্কার বিধান না থাকায় তাকে যে তাদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হচ্ছে।

হিন্দু আইনে তালাক দেওয়ার কোনো প্রকার বিধান না থাকায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পূজা বিশ্বাসকে অপূর্ব বিশ্বাসের স্ত্রী হয়েই বেঁচে থাকতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পূজা বিশ্বাসের ভরণপোষণ দেবে কে? কীভাবে কাটবে তার বাকি জীবন। যদি তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে তবে কেন পূজা বিশ্বাস পারবে না। এটি একটি মানবিক প্রশ্ন।

বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে হিন্দু নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কারন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী, নারীদের বিবাহবিচ্ছেদের যেমন অধিকার আছে (কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরের শর্ত সাপেক্ষে), হিন্দুদের বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো আইন নাই। অথচ হিন্দু আইনে একজন পুরুষ যত ইচ্ছে বিয়ে করতে পারেন কিন্তু স্ত্রী চাইলেও বিবাহবিচ্ছেদ চাইতে পারেন না। ভরণপোষণের ক্ষেত্রে অবশ্য দুই ধর্মেই ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন রয়েছে।

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে রয়েছে বৈষম্যমূলক আইন। মুসলিম আইনে নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর করার অধিকার তাঁদের রয়েছে। কিন্তু হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারী হলেও ক্ষেত্র খুবই সীমিত।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রচলিত দায়ভাগ মতবাদে হিন্দু নারীরা জীবনস্বত্বে এবং স্ত্রীর মালিকানাধীন এ দুভাবে উত্তরাধিকারী হতে পারেন। জীবনস্বত্বের ক্ষেত্রে এ সম্পত্তি কোনো নারী বেঁচে থাকা পর্যন্ত ভোগদখলের এখতিয়ার লাভ করেন।

কিন্তু আইনগত কারণ ছাড়া এ সম্পত্তি তিনি হস্তান্তর করতে পারেন না। তাঁর মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তি তাঁর উত্তরাধিকারীর ওপর না বর্তিয়ে যাঁর কাছ থেকে এটি পেয়েছিলেন তাঁর নিকটবর্তী উত্তরাধিকারীর কাছে চলে যায়। তবে স্ত্রীর নিজস্ব কোনো সম্পত্তি হলে তা তাঁর উত্তরাধিকারীর মধ্যে বর্তাতে পারে।

ভারতে ১৯৫৬ সালে হিন্দু উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আইন পাস হওয়ার পর পিতার  মৃত্যুর পর পুত্র ও কন্যা সমান অংশ লাভ করে।

মুসলিম আইনে সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে পিতাই সন্তানের আইনানুগ অভিভাবক। তবে মা সন্তানের নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত দেখাশোনা করতে পারেন। হিন্দু আইনে বাবার পর মা সন্তানের অভিভাবক হতে কোনো বাধা নেই।

তবে কোনো বিবাহিত হিন্দু নারীর যদি স্বামী মারা যায় তা হলে ওই বিধবা নারী ১৮৬৫ সালের হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন অনুযায়ী আবার বিয়ে করতে পারবেন এবং এ বিয়ের ফলে যদি কোনো সন্তান জন্মলাভ করে তবে সে সন্তান বৈধ সন্তান বলে বিবেচিত হবে। তবে বিধবার আবার বিয়ে হলে সে তার আগের স্বামীর কাছে আইনের দৃষ্টিতে মৃত বলে গণ্য হন এবং সে কারণে পুনর্বিবাহের ফলে তার সাবেক স্বামীর সম্পত্তির ওপর থেকে তিনি অধিকার হারান।

মূলত এ জাতীয় সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের জন্য দরকার সার্বজনীন পারিবারিক আইন। কারন প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যে, ফৌজদারি কোনো অপরাধ যেমন- চুরি, মারামারি কিংবা খুনের জন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র ভেদে কোনোরকম বৈষম্য প্রদর্শণ করা না হয় তবে কেন বিয়ের ক্ষেত্রে এ জাতীয় বৈষম্য মেয়েদের মেনে নিতে হবে।

পাশাপাশি হিন্দু বিয়েতে এতদিন রেজিস্ট্রেশনে কোনো বিধান না থাকায় বিয়ে তালাক কিংবা একই স্বামীর একাধিক স্ত্রী গ্রহণের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি সহায়তা পেতেন না হিন্দু নারীরা।

সার্বজনীন পারিবারিক আইন ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড হচ্ছে নারী-পুরুষের সমঅধিকার রক্ষার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের একটি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। আমাদের দেশে পারিবারিক ও দাম্পত্যবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা ও বিরোধের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করা হয় এবং উল্লিখিত আইনগুলো মূলত ধর্মীয় বিধান মতে রচিত হওয়ায় এ দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান ও খ্রিস্টানদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন আইন প্রচলিত রয়েছে, যার ফলে ধর্মভেদে নারীদের বৈষম্য পোহাতে হয়।

তাই বাংলাদেশের নারীদের অধিকার রক্ষার জন্য সর্বজনীন পারিবারিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ বৈষম্য দূর করা যেতে পারে।

অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্ম মতে, বিয়ে সামাজিক বন্ধন। যার মাধ্যমে নারী-পুরুষ তাদের বংশ বিস্তার করতে পারে। পাশাপাশি হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম মতে বিয়ে একটি ধর্মীয় বিষয়।

এ ছাড়া মুসলিম বিয়েতে স্ত্রীরা স্বামীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা পায় এবং বিবাহবিচ্ছেদ হলে তিন মাসের খোরপোষ (ভরণপোষণ) পায়; কিন্তু অন্য ধর্মে এ জাতীয় কোনো বিধান নেই। মুসলিম বিয়ে একটি চুক্তি হিসেবে গণ্য হওয়ায় বিয়ের কাবিননামা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হয়।

কিন্তু অন্য ধর্মের অনুসারী স্বামী যদি বিয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে তবে স্ত্রীর বিয়ে প্রমাণের কোনো উপায় থাকে না। তাই পারিবারিক বৈষম্য বন্ধে এখনই উপযুুক্ত সময় একটি ‘ইউনিফরম ফ্যামিলি কোড’ প্রণয়নের।

বর্তমান সরকার হিন্দু নারী-পুরুষের বিবাহবন্ধনকে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংসদের গত অধিবেশনে বিষয়টি বিল আকারে উত্থাপন করেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো আইন সরকার করবে না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের মাধ্যমে হিন্দুদের বিবাহ বিচ্ছেদ করা যেতে পারে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে ১০০ টাকার মাধ্যমে ‘ডিক্লারেশন অব গিফট’ আইন পাস করা হবে। এর ফলে হিন্দুরা তাদের মেয়েদের কোনো ধরনের জিনিস দিতে চাইলে মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে একটি দলিল করতে পারবে।

প্রয়োজনে হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার বিষয়ে আইন প্রণয়নে পৃথক কমিশন গঠন করা হবে বলে তিনি জানান। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০১ সালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে। এখন যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হবে। অবশেষে হিন্দু বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন আইন ২০১২ গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদে ঐচ্ছিক হিসেবে পাশ হয়েছে।

বর্তমান সরকার নারীর অধিকারের সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বিবেচনায় রেখে একটি ইউনির্ফম ফ্যামিলি কোড প্রণয়ন করার উদ্যোগ নিলে তা নারী বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। শুধু নারী নির্যাতন বন্ধ কিংবা নারী-পুরুষের সমানাধিকার বুলি ফোটালে হবে না, পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে অভিন্ন পারিবারিক আইন গ্রহণের এ উদ্যোগকে আরও সক্রিয় করতে হবে। তবেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, নারীর অধিকার হবে সমুন্নত।

লেখকঃ সাপ্তাহিক ‘সময়ের দিগন্ত’ পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক ও আইনজীবী জজ কোর্ট, কুষ্টিয়া।

20 Sep 2012   08:48:00 AM   Thursday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান