আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

পারিবারিক আইন

বিবাহ ও ভরণপোষণ

অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক


হিন্দু আইনে বিবাহ একটি পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রথা দ্বারা স্বীকৃত না হলে কোন হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটতে পারে না। তাই বাংলাদেশে হিন্দুদের বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করার কোন অবকাশ নেই। তবে পৃথক বসবাস করার অধিকার আছে এবং স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ করতে বাধ্য থাকবে।

হিন্দু বিবাহের সমাপ্তি ঘটতে পারে কেবল স্বামী বা স্ত্রীর ধর্মান্তর গ্রহণের কারণে। কলকাতা হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী কোন হিন্দু মহিলা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তার ওপর হিন্দু আইনের কর্তৃত্ব থাকে না, ফলে হিন্দু স্বামী এবং তার স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কও শেষ হয়ে যায়।

 

 

ভরণপোষণের দায়িত্ব
ভরণপোষণের ব্যাপারে বাধ্যতামূলক দায় দু’রকম-
১. ব্যক্তিগত দায় এবং

২. সীমাবদ্ধ দায়।

ব্যক্তিগগত দায়:

নিকট আত্মীয় কয়েক ধরনের ব্যক্তিকে ভরণপোষণ দেয়ার দায়কে ব্যক্তিগত দায় বলে। এসব ব্যক্তিকে ভরণপোষণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। তারা পৈতৃক সম্পত্তি পাক বা না পাক। নিকট সম্বন্ধীয় ভরণপোষণ পাওয়ার ব্যক্তিরা হচ্ছে:-
১. স্ত্রী,

২. নাবালক পুত্র

৩. অবিবাহিতা কন্যা এবং

৪. বৃদ্ধ পিতা-মাতা

সীমাবদ্ধ দায়:

সীমাবদ্ধ দায়কে দু’ভাগে ভাগ করা যায়।
ক. কর্তার দায় এবং

খ. উত্তরাধিকারীদের দায়।

কর্তার দায়:

যৌথ পরিবারে সদস্যদের ভরণপোষণের দায় দায়িত্ব কর্তার।

উত্তরাধিকারীদের দায়:

মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী বা মৃত ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীলদের ভরণপোষণ নির্ভর করবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাপের উপর।

ভরণপোষণ কে কে পেতে পারে
হিন্দু আইনে নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ তাদের অভিভাবক এবং নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে শর্ত সাপেক্ষে ভরণপোষণ লাভের অধিকারী।
১। পুত্র

২। অবিবাহিতা কন্যা

৩। পিতা-মাতা

৪। অবৈধ পুত্র সন্তান

৫। স্ত্রী

৬। দাসী-পতœী(অবরুদ্ধ স্ত্রী)

৭। বিধবা

৮। অযোগ্য উত্তরাধিকারী

৯। বোন

১০। বিমাতা

কোন হিন্দু স্বামী তার স্ত্রীকে আজীবন খোরপোষণ দানে বাধ্য। এমনকি যে রীতিনীতি অনুযায়ী তার পত্নী প্রতিপালিত হয়েছে, সেই রীতিনীতি অনুসারে তাকে প্রতিপালন করা স্বামীর কর্তব্য। তবে অসতী স্ত্রী স্বামীগৃহ ত্যাগ করে ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অন্য কোথাও চলে গেলে তিনি আদৌ ভরণপোষণ দাবী করতে পারে না।

কতিপয় বিশেষ ক্ষেত্রে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা করেও হিন্দু স্ত্রী ভরণপোষণ পেতে পারে।

১৯৫৬ সনের বিবাহিতা হিন্দু মহিলার পৃথক বাস ও ভরণপোষণের অধিকার আইন এর ১৯ ধারা অনুযায়ী স্বামীর সম্পত্তি থেকে স্ত্রী কতিপয় ক্ষেত্রে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী।

বিধানগুলো হচ্ছে
১। স্বামী যদি দুরারোগ্য কোন ন্যাক্কারজনক ব্যাধিতে দীর্ঘকাল আক্রান্ত থাকে।
২। স্বামী যদি তার প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং স্বামী গৃহে তার জীবনাশংকার সম্ভাবনা থাকে।
৩। স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তাকে বর্জন করার ফন্দি আঁটে।
৪। স্বামী যদি অন্য ধর্ম গ্রহণ করে।
৫। স্বামী যদি স্ব-গৃহে রক্ষিতা রাখে বা রক্ষিতার সাথেই রাত্রি যাপন করে।
৬। স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে আবার বিয়ে করে।
৭। এ ধরণের অন্য কোন যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।

তবে বিবাহিতা হিন্দু মহিলার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার এসব অধিকার আবার কতিপয় কারণে নষ্ট হয়ে যায়।

কারণগুলো হচ্ছে
১। স্ত্রী অসতী বা ব্যভিচারিনী হলে।
২। স্ত্রী অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে।
৩। আইন সঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর সাথে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হলে।

স্বামীর সম্পত্তি থেকে বিধবার ভরণপোষণের দাবী
হিন্দু বিধবা স্বামীর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার হয় না। স্বামীর পৃথকার্জিত সম্পত্তি এবং স্বামী যে সম্পত্তির সহ-উত্তরাধিকারী ছিল সে সম্পত্তি থেকে বিধবা ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। এমনকি উক্ত বিধবা যদি স্বামীর জীবদ্দশায় তার সঙ্গে বসবাস না করে পৃথক বসবাস করে থাকে সে ক্ষেত্রেও তার অধিকার নষ্ট হয় না।

ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ
২ ধারা মোতাবেক পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণের অধিকার মঞ্জুর করার সময় আদালত পক্ষগণের  সামজিক অবস্থান ও স্বামীর সামর্থ্য এবং দাবীর পরিসর বিবেচনা করে স্বামী কর্র্তৃক প্রদেয় ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবে।

বিধবা বিবাহ
কোনো বিবাহিত হিন্দু নারীর যদি স্বামী মারা যায় তা হলে ওই বিধবা নারী ১৮৬৫ সালের হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন অনুযায়ী আবার বিয়ে করতে পারবেন এবং এ বিয়ের ফলে যদি কোনো সন্তান জন্মলাভ করে তবে সে সন্তান বৈধ সন্তান বলে বিবেচিত হবে।

তবে বিধবার আবার বিয়ে হলে সে তার আগের স্বামীর কাছে আইনের দৃষ্টিতে মৃত বলে গণ্য হন এবং সে কারণে পুনর্বিবাহরে ফলে তার সাবেক স্বামীর সম্পত্তির ওপর থেকে তিনি অধিকার হারান।

লেখক: সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী জজ কোর্ট, কুষ্টিয়া। ইমেইল: seraj.pramanik@gmail.com

31 Jan 2013   05:42:22 AM   Thursday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান