আইন ও মানবাধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোন রকমের বৈষম্য ছাড়াই সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদন বই পরিচিতি সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত যেকোন বিষয় নিয়ে আপনার মতামত, মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন-

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ humanrights@banglanews24.com

আপনার মতামত দিন

নাম:
ইমেইল:
মন্তব্য:

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন‍ঃ সিএসডিএফ



পুরানো কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভুতির কথা বলে একটি মহল নারী আর পুরুষের মধ্যে বৈষম্য তৈরী করছে। অথচ নারী জনসংখ্যার অর্ধেক। নারী নির্যাতন বন্ধে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও এনজিওদের নানামুখী উদ্যোগ থাকলেও এগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় না থাকা, সত্যিকার অর্থে জনসম্পৃক্ততা না থাকা এবং এখানে স্থানীয় সরকারের ভুমিকা পরিস্কার না থাকায় অনেকগুলি উদ্যোগ থেকে জনগন কাংখিত সেবা পাচ্ছে না।

তবে যে কোন উদ্যোগে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, স্থানীয় সরকার, এনজিও এবং নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে তা থেকে জনগন অবশ্যই উপকৃত হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রত্যেকটি পরিবার থেকেই সন্তানদের সচেতন করে তুলতে হবে। সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে হবে। তাদের স্বশিক্ষায় শিক্ষিত ও যোগ্য করে তুলতে হবে। সন্তানদের বুঝাতে হবে, নারী-পুরুষের মধ্যে কোন ভেদাবেদ নেই, সবাই মানুষ। তাহলে নারী নির্যাতন কমে আসবে।

বুধবার ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনগুলির মোর্চ্চা সিএসডিএফ আয়োজিত নারীর প্রতি সহিংষতা প্রতিরোধ ও সিডও সনদ শীর্ষক এক মত বিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও সিডও সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ নাগরিক সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সিএসডিএফ’র জিডিআরসি মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় বক্তারা বলেন, পারিবারিক সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে তৃনমুল পর্যায়ে সকল কর্মকান্ডে সমন্বয় সাধনে যোগ্য করে শক্তিশালি করে তুলতে হবে। সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালি করা হলে এবং এখানে নাগরিকদের সত্যিকারের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা গেলে সংশ্লিষ্টরা নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবেন। এতে নারীর প্রতি নির্যাতন ও বৈষম্য কমে আসবে।

বক্তারা আরো বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদের সেবা সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে। কোন নারী নির্যাতিত হলে, তার করণীয় সম্পর্কে নারীদের সচেতন করে তুলতে হবে। এ জন্য স্থানীয় ভাবে তথ্য কেন্দ্র, হেল্প ডেস্ক ও রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করা এবং সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা সমুহের মাঝে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।

এছাড়াও যেসব নারী ক্ষুদ্র শিল্প সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেরা সাবলম্বী হয়েছেন, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও তহবিলের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃনমূলের নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগগুলি স্থানীয় সরকারের সর্বশেষ কেন্দ্র বিন্দু ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবার কথা থাকলেও নানা কারনে ইউপি সে দায়িত্বপালনের চেয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ত্রান বিতরনে বেশী আগ্রহী। সেকারনে জাতিগঠন মুলক সংস্থা ও বিভাগের কার্যক্রমগুলিতে তাদের অংশগ্রহন কম। ফলে তৃনমুল পর্যায়ে এ সমস্ত বিভাগের কার্যক্রমগুলিতে অভিভাবক শুণ্যতা দেখা দেয়।

বক্তাগন আরো বলেন বর্তমান সরকারের আমলে নারী প্রগতি বিষয়ে অনেকগুলি ইতিবাচক অর্জন আছে বিশেষকরে, জাতীয় নারী নীতি প্রনয়ন, যৌনহয়রানি, পারিবারিক সহিংষতা প্রতিরোধসহ বিষয়ক বিভিন্ন আইন প্রনয়ণ, রাজনৈতিক অংগনে নারীর অংশগ্রহনবৃদ্ধি বিষয়ে সরকারী দৃষ্ঠিভঙ্গি। তবে সিডও সনদে ২টি ধারা থেকে সরকারের সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করা, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে ধীরগতি ও রাজনৈতিক দলের নারীর অংশগ্রহন বৃদ্ধিতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির অনাগ্রহ নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করছে।  

সিএসডিএফ’র চেয়ারপার্সন এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক সাংসদ মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, আনজুমান আরা বেগম, হাটহাজারি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা বেগম, রাঙ্গুনিয়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যডভোকেট রেহানা আক্তার, চন্দনাইশ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আক্তার চৌধুরী, হাটহাজারীর ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা বেগম, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সবিতা বড়–য়া, ক্যাব চট্টগ্রামের উপদেষ্ঠা ফজলুল গনি মাহমুদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় নেতা আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, শিক্ষক সমিতির আঞ্চলিক সাধারন সম্পাদক লকিয়ত উল্লাহ, বোয়ালখালীর সরোয়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, জেলা আইন সহায়তা সংস্থার মোঃ এরশাদুল ইসলাম, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের ডাঃ কুনচু আক্তার, ব্লাস্ট চট্টগ্রামের অ্যাডভোকেট হালিমা সমীতা বেগম, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সুলতানা তাহমিনা খানম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জাহাঙ্গাীর আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার অ্যাডভোকেট সাজিয়া সুলতানা মৌরী, এডাব চট্টগ্রামের আবু জাহের, সুফিয়া কামাল ফেলো জন্নাতুল ফেরদৌস, আবিদা আজাদ, সায়মা হক, রুকসানা আক্তারুন্নবী, ক্যাব বন্দরের হাজী ইকবাল আলী আকবর, ক্যাব বোয়ালখালীর আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, পরিষদের নেতা জানে আলম প্রমুখ। সিএসডিএফ’র সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় সভায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী নেত্রী উম্মে কুলসুম আরজু। এছাড়া সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

26 Dec 2012   09:59:36 PM   Wednesday
প্রচ্ছদ মতামত মানবাধিকার আইন-উপদেশ বিশেষ প্রতিবেদন বিচারের বানী বই পরিচিতি পাঠক ফোরাম সপ্তাহের আইন নোটিস বোর্ড
মানবাধিকার ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ইমেইল: humanrights@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম      এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
© 2014 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত      একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান