[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জুলাই ২০১৮

bangla news

কলকাতায় কান্তজীর মন্দিরের আদলে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৭-০৬ ৮:৩৯:৫৫ পিএম
কলকাতায় পর্যটন মেলা/ছবি: বাংলানিউজ

কলকাতায় পর্যটন মেলা/ছবি: বাংলানিউজ

কলকাতা: কলকাতায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ৩০তম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম (টিটিএফ) মেলা। শুক্রবার থেকে (৬ জুলাই) সকালে কলকাতার নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়াম ও ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে এ মেলা শুরু হয়। এটি কলকাতার সবচেয়ে বড় মাপের পর্যটন মেলা হিসেবে ধরা হয়। 

এবারের মেলায় ৪৩০টি স্টলে ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং ১৩টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। বিদেশি দেশগুলির মধ্যে একটু আকর্ষণীয় করে প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়াও রয়েছে নেপাল, থাইল্যান্ড, ইউএই, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ভুটান, চীন, ফিনল্যান্ড, মায়ানমার এবং সিঙ্গাপুর প্যাভিলিয়ন।
 
কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, অর্থাৎ গোটা ভারতে মোট ২৮টি রাজ্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। হিমাচল প্রদেশ, পশ্চিমবাংলা, রাজস্থান, উড়িষ্যা, গোয়া, গুজরাট, কেরল এসব রাজ্য প্যাভিলিয়ন সাজিয়ে নিয়ে বসেছে। এছাড়া ছোট ছোট স্টল নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কাশ্মীর, তামিলনাড়ু, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা।
 
এবারের মেলার যে দেশগুলো অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্যে নজর কেড়েছে বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ন। প্যাভিলিয়ন সাজানো হয়েছে দিনাজপুরের বিখ্যাত কান্তজীর মন্দিরের আদলে। এ প্যাভিলিয়নে ১৫টি বেসরকারি স্টল ছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের ট্যুরিজম বোর্ড ও একটি সরকারি ট্যুরিজম করপোরেশনসহ ১৭টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে।
 
স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ সব সব দেশের প্রতিনিধিরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর একটি প্রেস বিবৃতি দেন প্রতিনিধিরা।

একমাত্র বাংলাদেশ সেখানে একটি ছোট তথ্যচিত্র প্রদর্শন করে। পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল ও বাংলাদেশ সরকারের মেলার মূল উদ্যোক্তা নিখিল রঞ্জন রায় সাংবাদিকদের সামনে সবিস্তারে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে গেলে একজন পর্যটপক কি দেখবেন এবং কেন যাবেন তা জানানো হয় উপস্থিত অতিথিদের।
 
উদ্বোধনে উপস্থিত থাকার আগে পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বেকার হোস্টেল পরিদর্শন করেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রোমন্থন করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু না থাকলে আমরা আমাদের জাতীয় পতাকা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারতাম না। তার যোগ্যকন্যা আমাদের দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রাবস্থায় যে ঘরটিতে শেখ মুজিবুর রহমান থাকতেন সেই ঘর সুন্দরভাবে পরিপাটি রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন ও বর্তমান সরকারকে।
 
মেলা উদ্বোধনের পর তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব থেকে প্রতি বছর ছয় লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য আসেন। তারমধ্যে প্রতি বছরে ভারত থেকে আসেন প্রায় দুই লাখ চল্লিশ হাজার মানুষ। আবার এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসেন ১ লাখের অধিক। 

তথ্য বলছে, শুধুমাত্র কলকাতা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭শ থেকে ৮শ ভিসা প্রদান করা হয়। তার মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকে ট্যুরিস্ট ভিসা। বাংলাদেশে পশ্চিমবাংলার মানুষ সব থেকে বেশি যায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে।     
 
বছরের অন্যান্য সময়ের থেকে এ মেলাতে কিছু বিশেষ আকর্ষণীয় প্যাকেজ দেওয়া হয়ে থাকে কলকাতাবাসীকে। আর এ মেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন কলকাতার ভ্রমণ পিপাসুরা। যেমন বাংলাদেশ স্টলে ‘ওয়েলকাম বাংলাদেশ’ নামে একটি ট্যুর কোম্পানি বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছে। ১৮ হাজার রুপিতে চার রাত পাঁচ দিন কক্সবাজারসহ সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম ভ্রমণ। কোম্পানির সিইও জাহিরুল ইসলাম বলেন, এ ছাড় ভারত তথা বিশেষ করে কলকাতাবসীর জন্য। শুক্রবার কলকাতায় কর্মব্যস্ত দিন। তাই আজ বিক্ষিপ্ত জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। কাল-পরশু খাওয়া-দাওয়ার সময় পাওয়া যাবে না। প্রতিবারই আমরা এ ধরনের ভিড় পাই।
 
৩০তম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম (টিটিএফ) মেলা চলবে ৬ থেকে ৮ জুলাই প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শুধু বিদেশ নয় এরকমই আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিয়ে থাকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও।
 
বাংলাদেশ সময়: ২০৩৫ ঘণ্টা, ৬ জুন, ২০১৮
ভিএস/এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa