একটাই চাওয়া মোস্তফা কামালের পদত্যাগ!
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের স্বপদে বহাল থাকার আর সুযোগ রয়েছে কী? মঙ্গলবার শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দলের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর এ কথাটিই যেন বার বার মনে হচ্ছিল।
স্কোরকার্ডে তামিম ইকবালকেই দেখানো হচ্ছিল বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাটিং রেটিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে। অথচ এই তামিমকে বাদ দিতে কি নোংরা খেলাটিই না খেলেছিলেন বিসিবি সভাপতি।
ক্রিকেটে মাঠের বাইরেও কিছু খেলা চলে সে কথা কমবেশি সবারই জানা। কিন্তু এশিয়া কাপ শুরুর আগে আ হ ম মোস্তফা কামাল যে খেলা খেললেন তার ক্ষতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগী হতে হয়।
জাতীয় দলের নির্বাচকদের থোরাই পাত্তা দিয়ে তামিম ইকবালকে বাদ দিয়ে দিলেন। প্রতিবাদে প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আকরাম খান। অনেক নাটকের পর তামিমকে এশিয়া কাপের দলে নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আকরাম খানও তার পদত্যাগ প্রত্যাহার করে কর্মস্থলে ফিরে আসেন।
জানা গেছে, বিসিবি সভাপতি মোস্তফা কামালকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধান তাকে কড়া শাসন করেছেন বলে প্রচার আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে টকঝাল ভালোই খেয়েছেন বোধ হয়।
মোস্তফা কামাল একজন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট। সফল ব্যবসায়ী। সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ক্রীড়ানুরাগী তো বটেই। সেজন্যই তিনি বিসিবি সভাপতি। আইসিসি সভাপতি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন। একজন মানুষের এতগুলো গুণ থাকার পরেও দেশের ক্রিকেট নিয়ে ছেলেখেলা করছেন। যে তামিমকে জাতীয় দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন এশিয়া কাপে তিনিই ধারাবাহিক পর পর তিন ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। কামালের হাতে ক্ষমতা ছিল তিনি তার অপব্যবহার করেছেন। তামিমের ক্ষমতা মাঠের ২২ গজে। তার প্রতিবাদের ভাষা ব্যাটে।
জানা গেছে, ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক আকরাম খানের সঙ্গে এখনও কথা বলেন না মোস্তফা কামাল। ক্রিকেট কোনো চড়ইভাতি খেলা নয়। এখানে মান-অভিমানের সুযোগ নেই।
যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে আকরাম খানকে তার পদে বহাল থাকার অনুরোধ জানিয়ে তাকে শান্ত করেছেন সেখানে বিসিবি সভাপতি প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে কথা বলবেন না এমনটা মেনে নিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট মহলেরই কেউই।
এখানেই শেষ না, ক্রিকেট বোর্ড থেকে ক্রিকেটারদের তাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছেন মোস্তফা কামাল। এশিয়া কাপের আগেই সে উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষ সাধারণ সভা করে তিনি গঠনতন্ত্র থেকে সাবেক ক্রিকেটারদের কাউন্সিলরশিপ পদ কেড়ে নিয়েছেন। খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতিকেও মানেন না তিনি। তাদের সাংগঠনিক অধিকারও হরণ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এনিয়ে সাবেক ক্রিকেটাররা একজোট হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত গড়ায়। পরে আকরাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক ১৫ জন ক্রিকেটারকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়ার। এখানেও ক্রীড়ামনস্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের বিষয়টি। আইসিসি সভাপতি হওয়ার লোভে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)’র সঙ্গে অলিখিত বিনিময় চুক্তি করেন মোস্তফা কামাল। চুক্তিটা এমন, আইসিসির সহ-সভাপতি পদের জন্য মোস্তফা কামালকে সমর্থন দিবে পিসিবি। বিসিবি তার প্রতিদান দিবে পাকিস্তানে বাংলাদেশ দল পাঠিয়ে। কি অদ্ভুত! পাকিস্তানে যেখানে নিজ দেশের মানুষ নিরাপদ না। যে দেশে মৃত্যু প্রতিনিয়ত ছায়া হয়ে থাকে। সেই পাকিস্তানে ক্রিকেটারদের পাঠাতে চান বিসিবি সভাপতি! নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি পাকিস্তান সফরেও গিয়েছিলেন। কামালের কর্মকাণ্ড দেখে সরকার বিরক্ত। আর সেজন্যই এখন তিনি পাকিস্তানে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। এনিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ দু’দিন আগে ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিসিবিকে প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছেন।
এরপরেও কি মোস্তফা কামালের বিসিবিতে থাকা উচিত? সজ্ঞানে বিসিবির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালে ভালো করবেন। তা না হলে একদিন হয়তো অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়ে সরে যেতে বাধ্য হবেন তিনি।
বাংলাদেশ সময় : ১৫৫০ ঘণ্টা, মার্চ ২১, ২০১২
এমএমকে