সুখকর একটি দিন বিসিবিতে

ঢাকা: রিচার্ড পাইবাসের কাছ থেকে সুখবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী মোবইলফোনে সবাইকে জানাচ্ছিলেন। মধ্যদুপুরে আরেকটি খবর হাওয়ায় ভাসতে থাকে, সাহারা মাতৃভূমি জাতীয় দলের স্পন্সর হতে চলেছে। বিকেলে বিসিবি সভাপতি সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, চার বছরের জন্য রেকর্ড ৯৪ লাখ ডলারে জাতীয় দলের স্পন্সর হতে ইচ্ছে পোষণ করেছে ভারতের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানটি।

একদিনে বড় দুটি খবর। বলতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র জন্য বুধবার দিনটি ছিলো পয়া। কর্মকর্তাদের মুখে লেগেছিলো তৃপ্তির হাসি। বিসিবি কর্তাব্যক্তিদের খুশি হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ যেটি তা হলো আগামী চার বছরে বিভিন্ন স্পন্সর থেকে ১১০ কোটি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিলো, তার প্রায় সবগুলো বিজ্ঞাপন পেয়ে গেছে।

বিসিবির এফডিআর দেড়’শ কোটি টাকা। সেখানে বিজ্ঞাপন থেকে চার বছরে যোগ হবে আরও ১১০ কোটি টাকা। যদিও বড় দুটি আয়ের ক্ষেত্র আছে ক্রিকেট বোর্ডের হাতে, একটি জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক খেলা সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি, দ্বিতীয়টি বিপিএল। জুনে টিভি সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। সেখান থেকে চার বছরে তিন চার’শ কোটি টাকা আয়ের একটা সম্ভাবনা আছে। আর বিপিএল থেকে প্রতিবছর ৩০-৩২ কোটি টাকা আসবে। বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল আশা করছেন এক বছরের মধ্যে তাদের এফডিআর হবে তিনশ কোটি টাকা। সত্যিই আর্থিক ভাবে অন্য এক উচ্চাতায় চলে যাচ্ছে বিসিবি।

ইন্ডিয়ান ক্রিকেটের বড় বিজ্ঞাপন সাহারা গ্রুপ। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাদের অন্তর্ভুক্তি দেশের মানুষের জন্য সুখকর। তার মানে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিসিবি। ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক বাজারেই বিক্রি হওয়ার দ্বার উন্মোচিত হলো সাহারা মাতৃভূমির মাধ্যমে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তারা অগ্রগণ্য হয়েই থাকবে।

আগে জাতীয় দলের স্পন্সর ছিলো গ্রামীনফোন। টানা আট বছর দেশের ক্রিকেটের সেবা করেছে মোবাইলফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর চুক্তি করেছে। শেষ দুই বছর ১০ কোটি টাকায় জাতীয় দলের স্পন্সর ছিলো জিপি। এবারও তাদেরকেই অনুরোধ করা হয়েছিলো স্পন্সর হওয়ার জন্য। ৩২ লাখ ডলারে চার বছরের জন্য স্পন্সর হওয়ার প্রস্তাব করে জিপি। কিন্তু দরপত্র খোলার পর দেখা যায় ভিন্ন চিত্র, মোবাইল সেবাদানকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠান রবি, গ্রামীনফোনের চেয়ে ৮ লাখ ডলার বেশিতে জাতীয় দলের স্পন্সর হতে চেয়েছে। কিন্তু সাহারা এত বেশি অর্থ দিতে আগ্রহী দেশের কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মজার বিষয় হলো বিসিবি এখন যা চাচ্ছে তার সবই বিক্রি হচ্ছে। হুবার কাভারেরও বিজ্ঞপন পাওয়া গেছে। ১০টি বিষয়ে বিজ্ঞাপন পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে। আরও কিছু বিষয়ে বিজ্ঞাপন আহ্বান করা হবে। সেগুলো বিক্রি হলে আয়ের খাত বেড়ে যাবে।

জাতীয় দলের নতুন কোচ জুনের প্রথম সপ্তাহে কাজে যোগ দেবেন। অনেক বড় মাপের একজন আন্তর্জাতিক কোচ পেয়েছে বিসিবি। স্টুয়ার্ট ল চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার পর কোচের সন্ধানে লেগে পড়ে বিসিবি। অনেকে বাংলাদেশের কোচ হতে আগ্রহ দেখায়। তাদের মধ্যে পাইবাসকেই সেরা মনে হয় ক্রিকেট বোর্ডের।

অনেক বিদেশি কোচ বাংলাদেশে কাজ করে গেছেন। এডি বার্লোর এবং গর্ডন গ্রিনিজের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ডেভ হোয়াটমোরের মতো সফল কোচও কাজ করেছেন। জেমি সিডন্স এবং স্টুয়ার্ট ল’ও অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রগতিতে। ইংলিশ কোচ পাইবাস দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিশ্চিয়ই একটা উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

বাংলাদেশ সময়: ০৯০৫ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১২
এসএ