banglanews24.com home page Independence Day of Bangladesh | 26th March, 1971
banglanews24.com home page প্রচ্ছদ

প্রচ্ছদ » মতামত

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার আকুতি

‘তোরা কুনঠে বাহে’

ছবি: কাশেম হারুন/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: “৭১’র পরাজিত শক্তিরা আবার দেশটাকে খুবলে খাচ্ছে। জলিল, মাংরা, জর্জ, সন্তোষ-তোরা কুনঠে বাহে।”- যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অজিত রায়ের আকুতি এটি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করতে জামায়াতে ইসলামী যখন দেশব্যাপী নানামুখী অপতৎরতায়-ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, সে মুহূর্তে এদেরকে রুখে দিতে সহযোদ্ধাদের প্রতি এই বীর মুক্তিযোদ্ধার উদাত্ত আহ্বান।  

যুদ্ধকালীন সময়ে চার সহযোদ্ধার নাম উচ্চারণ করলেও প্রকারান্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল শক্তিকেই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জানান। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিদের প্রতিহত করার ও সেইসব ঘৃণিত নরপশুদের বিচার করার এখনই উপযুক্ত সময় বলেও মনে করেন তিনি।

দিনাজপুরের হিলির বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা অজিত রায় বিবেকের প্রচণ্ড তাড়নায় নতুন করে আবারও একাত্তরের চেতনায় জাগ্রত হয়ে নিজের এসব দাবি তুলে ধরতে রাজধানী ঢাকায় এসেছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় সেসব দাবি সম্বলিত ব্যানার হাতে জাতীয় প্রেসকাবের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।  

সারা শরীরে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর বুলেটের ক্ষত নিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত এ মুক্তিযোদ্ধা বাংলানিউজকে জানান তার আবেগের সঙ্গে। আহ্বান জানান দেশের স্বার্থে আর একবার স্বাধীনতার স্বপ্ন-শক্তিতে একত্রিত হওয়ার।  

একাত্তুরে অজিত জয়পুরহাট কলেজের আইএসসি দ্বিতীয় বর্ষেও ছাত্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চÕর ঐতিহাসিক ভাষণ আবেগে উদ্বেল করে তরুণ অজিতকে। প্রবল দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিতে মুহূর্তও বিলম্ব হয়নি তার।

মুক্তিযুদ্ধে দেশের উত্তর জনপদ হিলি, বিরামপুর, ফুলবাড়ি, দিনাজপুর, জয়পুরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ছিপছিপে তরুণ অজিত। বহু পাকিহানাদারকে খতম করতে সক্ষম হলেও ঝরে যায় নিজের দেহের তাজা রক্তও। হানাদারদের বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয় অজিতের ডান পা, গুলিবিদ্ধ তার বুক, পেটসহ শরীরের অনেক স্থান। প্রাণে বাঁচলেও যুদ্ধোত্তর ৪১টি বছর তাকে বইতে হয়েছে সেই যুদ্ধের যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত।

তাতেও দুঃখ ছিলো না অজিত রায়ের। অন্ততঃ দেশটা স্বাধীন হয়েছে? কিন্তু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেন না ৭১Õর রণাঙ্গনের এই বীরযোদ্ধা। যখন পাকিহানাদারদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো, তখন খুবই আশান্বিত হয়েছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধরাপরাধীদের বিচার কাজ ভণ্ডুল করতে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির নানামুখী অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়ে যখন আস্ফালন দেখাচ্ছে, তখন নীরব থাকিতে পারেননি ষাটোর্ধ্ব এ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধ করে কিছুই মেলেনি অজিত রায়ের ভাগ্যে। তারপরও স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিদের এমন ঔদ্ধত্য কিছুতেই মানতে পারেননি তিনি।

অজিত রায় বাংলানিউজকে বলেন,  “যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলাম মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে। বহুদিনেও কোনো সহায়তা মেলেনি। তারা বলেছে বোর্ডে বসে একটি সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো সাড়া মেলেনি|”

‘তাতেও কোনো দুঃখ নেই’-উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা যেভাবে মাথাচারা দিয়ে উঠেছে, তাতে বৃদ্ধ বয়েসেও বসে থাকতে পারলাম না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সব শক্তিকে আহ্বান জানাবো, যাতে সবাই স্বাধীনতার শত্রুদের প্রতিহত করে। তা না হলে মরেও শান্তি পাবো না।”

বাংলাদেশ সময়: ২১৫৬ ঘণ্টা, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১২
এআই/একে

 

বিজয় দিবসের এই বিশেষ আয়োজনের সমন্বয় করেছেন- আহ্‌সান কবীর,আরিফুল ইসলাম আরমান, হাসিবুল হাসান
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: events.bn24@gmail.com, events@banglanews24.com    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান