banglanews24.com home page Independence Day of Bangladesh | 26th March, 1971
banglanews24.com home page প্রচ্ছদ

প্রচ্ছদ » ফিচার

ফিচার

স্বাধীনতা যুদ্ধে ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে আনসার-ভিডিপি’র অবদান

গোলাম মোস্তফা (রাঙ্গা), আনসার সদস্য
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় আনসার বাহিনীর সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ও ব্যাপক তৎপরতায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই বাহিনীকে বিদ্রোহী বাহিনী আখ্যায়িত করে এর বিলুপ্তি ঘোষণা করেছিল। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল আনসার বাহিনীর জন্য চরম পরীক্ষা এবং অস্তিত্বের লড়াই। দেশ আজ স্বাধীন হয়েছে বলেই আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নামক সংগঠনটি দেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন হিসেবে বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে ব্যাপকভাবে সারাদেশের সর্বত্রই কাজ করে যাচ্ছে। যদি দেশ স্বাধীন না হতো তবে এই বাহিনীর অস্তিত্ব তো থাকতোই না, সেই সাথে এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে অসম্ভব রকমের নির্যাতনের শিকার হতে হতো। অথচ এসব অনিশ্চিতয়তার কথা কখনোই মাথায় নেয়নি এ বাহিনীর নির্ভীক সদস্যরা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর আনসার সদস্যরা প্রায় চল্লিশ হাজার রাইফেল ও গোলা বারুদ নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে বৈদ্যনাথতলায় এ বাহিনীর পিসি ইয়াদ আলীর নেতৃত্বে ১২ জন সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার অস্থায়ী মুজিব নগর সরকারকে সর্বপ্রথম গার্ড অব অনার প্রদান করার গৌরব অর্জন করে।

অনেক জায়গায় তারা সম্মুখ যুদ্ধ ও আক্রমণ শুরু করে। হাজার হাজার আনসার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর শিবির স্থাপন করে যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করে। দেশের ভেতর অনেক আনসার গেরিলা যুদ্ধ চালাতে থাকে। দেশপ্রেমিক আনসারদের এ ধরনের বিপ্লবী তৎপরতায় পাকিস্তান সরকার এ বাহিনীকে বিদ্রোহী বাহিনী আখ্যায়িত করে এর বিলুপ্তি ঘোষণা করে। এ সত্ত্বেও হাজার হাজার আনসার সদস্য প্রচণ্ড সাহস ও মনোবল নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বাধীনতা যুদ্ধ চালিয়ে যান। নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বাহিনীর ৯ জন অফিসার, ৩ জন কর্মচারী এবং ৬৩৫ জন কনস্টেবল শাহাদৎ বরণ করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক চাঁদপুরের আনসার কমান্ডার এলাহী বক্স পাটোয়ারীকে ‘বীর বিক্রম’ এবং মাগুরার আনসার কমান্ডার গোলাম এয়াকুবকে ‘বীর প্রতীক’ উপাধিতে ভূষিত করে। আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে আনসার বাহিনীর নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

স্বাধীনতা-উত্তর আনসার বাহিনীর কর্মতৎপরতাও ব্যাপক হারে শহর-বন্দর ও গ্রাম-গঞ্জে বিস্তার লাভ করে। স্বাধীনতার ২৩ বছর পূর্বে ১৯৪৮ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি আনসার বাহিনী গঠিত হয়। যার লক্ষ্য হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা বিধান আর্থ-সামাজিক অবস্থা পূনর্গঠন তথা জাতি গঠনমূলক যাবতীয় কাজে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ। অতঃপর একই বছরের ১৭ জুন আনসার ‘অ্যাক্ট-১৯৪৮’  অনুযায়ী আনসার সংগঠন একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।

প্রায় ছয় দশক ধরে দেশের আইন শৃংখলা রক্ষাসহ রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা বিধান, আর্থ-সামাজিক অবস্থা পুনর্গঠন তথা যাবতীয় জাতি গঠনমূলক কাজে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি পুরুষ আনসার প্লাটুন (৩২জন), প্রতিটি উপজেলায় ১টি মহিলা আনসার প্লাটুন (৩২জন) এবং একটি পুরুষ আনসার কোম্পানি (১০০ জন) সাংগঠনিকভাবে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো) যেমন— বিমানবন্দর, শিল্প-কারখানা, রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা, লঞ্চ, ট্রেন, বাসসহ প্রায় ২২৩২টি সরকারি/বেসরকারি/বৈদেশিক সংস্থায় নিরাপত্তা বিধান এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সাথে অপারেশনাল কার্যক্রম, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও বিবিধ কার্যক্রমে প্রায় ৩০ হাজার সাধারণ আনসার অঙ্গীভূত আনসার হিসাবে দেশের সর্বত্র জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আইন-শৃংখলা রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানের সু-মহান দায়িত্ব পালন করছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে আনসার বাহিনীর প্রায় ৩,৩০,০০০ সদস্য রয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, ১৯৯৫ সালে প্রণীত আইন (১৯৯৫ সানের ৩ নং আইন) এর মাধ্যমে আনসার বাহিনীকে সংবিধানের ১৫২ নং অনুচ্ছেদ-এ বর্ণিত সংজ্ঞার আলোকে ‘শৃংখলা বাহিনী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। উক্ত আইনের মাধ্যমে এ বাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য তথা জননিরাপত্তা বিধান, আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং সর্বোপরি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আইন-শৃংখলা রক্ষা ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস, পুলিশ বাহিনী এবং ব্যাটালিয়ন আনসারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে অতিগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

এ বাহিনীর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দফতর সমূহের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য পেশাভিত্তিক বহুমুখী প্রশিক্ষণগুলো হচ্ছে মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ, ইলেকট্রিশিয়ান কোর্স, অমৌসুমী সবজি চাষ প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তিতে নার্সারি স্থাপন প্রশিক্ষণ, আধুনিক ফলচাষ প্রশিক্ষণ, উন্নত মানের আম চারা উৎপাদন প্রশিক্ষণ, স্ট্রবেরি চাষ ও উৎপাদন প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি চিকিৎসা ও পালন কোর্স, দেশীয় পদ্ধতিতে হাঁস মুরগির বাচ্চা স্ফূটন ও পালন প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ, নারকেলের মালা থেকে বোতাম তৈরি প্রশিক্ষণ, পাদুকা শিল্প উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, খাবার প্রস্তুতি ও আর্থিক উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, নকশি কাঁথা কোর্স, ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালন প্রশিক্ষণ, উন্নত আলু চাষ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, গবাদি পশু পালন কোর্স, ফ্রিজ ও এয়ার কনডিশনার মেরামত কোর্স, বিদেশে নারী জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে নারীদের প্রশিক্ষণ, আইন-শৃঙ্খলা বিশেষ প্রশিক্ষণ, গঠনমূলক চিত্র প্রদর্শনী বিশেষ প্রশিক্ষণ, গণসংস্কৃতি বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ধরণের কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ।

এই প্রশিক্ষণগুলো অত্যন্ত যতœ সহকারে আনসার ও ভিডিপির জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গাজীপুর, কলাকোপা ও সফিপুর আনসার একাডেমীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয়ে থাকে। কেবল আনসার ও ভিডিপি সংগঠণের সদস্যরাই সরকারি খরচে এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ পেয়ে থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরকে বাস্তবমুখী কাজে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতাও করে থাকে আনসার ও ভিডিপি সংগঠন। এমনকি আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ এবং আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদান করা হয়।

আজ এই যুব সমাজ সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে অন্ধকার পথে ধাবিত হচ্ছে। তারা আজ লক্ষ্যবিহীন পথ চলছে। অনেকেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের চেষ্টা না করে দিনের পর দিন সামান্য বেতনের একটি চাকরির আশায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ধর্না দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের অনেকেই জানে না আনসার ও ভিডিপি সংগঠনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নানান ধরনের আত্মকর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আবার অনেকেই জানার অজ্ঞতার কারণে এই সুযোগ গ্রহণ করছে না। কারণ এই বাহিনীর কর্মকাণ্ড দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করলেও তা কেবল হত দরিদ্র অশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত ও আধা শিক্ষিত জনসাধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর সুযোগ সুবিধাগুলো সাধারণ ও শিক্ষিত সমাজে সঠিকভাবে জানতে পারছে না। প্রসঙ্গত, দেশের হত দরিদ্র মানুষগণ বিভিন্ন সময়ে সরকার কর্তৃক ডিউটি পালন করে ভাতা বাবদ অর্থ উপার্জনের একটি ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণ ও শিক্ষিত সমাজ এই বাহিনীকে হতদরিদ্র ও অধা শিক্ষিত ব্যক্তিদের বাহিনী মনে করে। ইদানিং নগণ্য সংখ্যক উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবক এই বাহিনীর সুযোগ সুবিধা ও কার্যক্রমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সদস্য হয়ে প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট পাওয়ার পরপরই নানান কারণে সক্রিয় হতে অনীহা প্রকাশ করে। আনসার ও ভিডিপি’র সদস্য-সদস্যাদের জন্য সরকার যে পরিমাণ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে রেখেছে, তা যদি কোনো শিক্ষত বেকার জানতো তাহতে আনসার ও ভিডিপি’র সদস্য হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতো।

তবে সেদিন আর বেশি দূরে নেই, যেদিন আনসার ও ভিডিপি’র জন্য সরকারের গৃহিত সুযোগ সুবিধা ও আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র এবং তা বাস্তবায়নের জন্য আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণসহ সংগঠনের নিজ ব্যয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা হাতাশাগ্রস্থ বেকার যুবকগণ জানবে। সেদিন আনসার ও ভিডিপি’র সদস্য/সদস্যা হওয়ার জন্য আনসার ও ভিডিপি’র জেলা/উপজেলা দফতরগুলোতে বেকার শিক্ষিত যুবকদের ভীড় দিনের পর দিন বাড়া ছাড়া কমবে না। সরকারি চাকরিতে আনসার ও ভিডিপি’র সদস্যদের মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পন্নদের জন্য সরকারি চাকরির শতকরা ১০ (দশ) টি পদ সংরক্ষিত থাকে।

আনসার ও ভিডিপি’র উন্নয়নমূলক ও আত্মকর্মসংস্থানের কার্যক্রম যদি ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করে তবেই এদেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের মধ্যে ব্যাপক সারা পড়বে। এই প্রচারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলো। তারা যদি আনসার ও ভিডিপি সংগঠনের আত্মকর্মসংস্থানমুলক কার্যক্রমগুলোর ওপর প্রামাণ্য চিত্র কিংবা সংবাদের সচেতনামুলক বিশেষ অংশে এই সংগঠনের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য গৃহিত পদক্ষেপগুলো প্রচার করে তাহলেই সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পরবে এবং দেশের বেকার যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের একটি সহজ উপায় বের হবে।
 
এই সংগঠনের কার্যকলাপ প্রচার করতে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে জানতে হবে কিভাবে গণমাধ্যমে সংগঠনের উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানমুলক কার্যক্রমগুলোকে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রচার করতে হয়। তবেই এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম সার্থক হবে।

মুক্তিযুদ্ধে আনসার সদ্যদের কর্মকাণ্ড
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমলাবাড়ীর নূরুল হকের ভাষ্য মতে, ১৯৭১ সালে ছিলেন তিনি ছিলেন ২৫ বছরের যুবক এবং আনসার বাহিনীতে চাকরি করতেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের তিন-চারদিন পর কুষ্টিয়া জেলা অ্যাডজু্ট্যান্ট কবিরের নির্দেশে সেই রাতেই কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পান্টি থেকে আনসার সদস্য ছমিরের নেতৃত্বে ২৭ জন আনসার ও ইপিআর সদস্য নিয়ে কুষ্টিয়ার ওয়্যারলেস অফিসে অবস্থান নেয়া পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালায়। টানা তিন দিন যুদ্ধ চালানোর পর আটজন বীর বাঙালির জীবণের বিনিময়ে পাকিস্তানি সেনাদের পরাজিত করে ওয়্যারলেস অফিস মুক্ত হয়। এরপর ওই দিনই আমরা কুষ্টিয়া আনসার ক্যাম্পে আসেন এবং সেখান থেকে ১০০ জনের একটি দলসহ আবার ছমিরের নেতৃত্বে নৌকা যোগে নগরবাড়ী যান। সেখানে ক্যাপ্টেন মনসুরের আশ্রয়ে থেকে তিন দিন যুদ্ধ করি।

এরপর নিজ গ্রাম খোকসার আমলাবাড়ীতে ফিরে আসি। তখন গ্রামের লোকজন আমাকে ভয় দেখাতে লাগল যে, তোমরা খানসেনা মেরেছ, তোমাদেরও মারা হবে, তৈরি থাকো। এ কথাশুনে আমি আমার আব্বার সঙ্গে পরামর্শ করি। ঠিক করলাম মরতে হলে যুদ্ধ করেই মরবো। তারপর নিজের অস্ত্র খোকসা থানায় জমা দিয়ে আমি আমার বড় ভাই নূর ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে ভারতের করিমপুরে যাই।

সেখানে গিয়ে দেখা পেলাম এলাকার গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল বারী, আব্দুর রউফ, প্রমুখের। সেখান থেকে নিয়োগ কর্মকর্তা বারী ভাই আমাদের দুই ভাইকে টেনিংয়ে পাঠালেন বিহারের চাকুলিয়ায়। বিহারে পৌঁছে মেজর দ্বারা সিংয়ের তত্ত্বাবধানে এক মাস প্রশিক্ষণ নেই।

এরপর দেশে ফিরি। ফেরার পথে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়ায় চাঁপাইগাছি বিলের পাশে এক অভিনব ঘটনা ঘটে। আমরা দুই ভাই সেখানে এক বাড়িতে রাতের খাবারের জন্য আশ্রয় নেই। তখন ঐ গ্রামের এক রাজাকার আমাদের অবস্থান জানিয়ে হানাদার বাহিনীকে খবর দেয়। আমরা খেতে বসেছি, এমন সময় দেখি পাকিস্তানি সেনারা ওই বাড়ির দিকে আসছে। তখন বাড়ির বৃদ্ধ মালিক আমার অসুস্থ্য ভাইকে একটি খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখেন। এরপর তিনি তাঁর মেয়ের পরামর্শে আমাকে জামাই সাজিয়ে তাঁর অবিবাহিত মেয়ের সঙ্গে একই বিছানায় শুয়ে থাকতে বলেন। ইতিমধ্যে আমি আমার অস্ত্র গোবরের গাদায় লুকিয়ে রাখি। এরপর পাকিসেনারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে ঘর তল্লাশি করে। বৃদ্ধ আমাকে তাঁর জামাই হিসাবে পরিচয় দেন। পাকিসেনারা ফিরে যায়।

গোলাম মোস্তফা রাঙ্গা: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, জেলা আনসার ও ভিডিপি দপ্তর, কুড়িগ্রাম ansarvdp.kurigram@gmail.com,gmranga1982@gmail.com

 

বিজয় দিবসের এই বিশেষ আয়োজনের সমন্বয় করেছেন- আহ্‌সান কবীর,আরিফুল ইসলাম আরমান, হাসিবুল হাসান
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: events.bn24@gmail.com, events@banglanews24.com    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান