banglanews24.com home page Independence Day of Bangladesh | 26th March, 1971
banglanews24.com home page প্রচ্ছদ

প্রচ্ছদ » ফিচার

কেউ কথা রাখেনি

৪১ বছরেও ঠিকানাবিহীন কাপাসিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা

শেখ সফিউদ্দিন আহম্মদ জিন্নাহ্, কাপাসিয়া প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের জন্মস্থান গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা কোন ঠিকানা পায়নি। তাদেরকে কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেনি। সবাই মুক্তিযোদ্ধাদের কথা দিয়ে গেল।
কাপাসিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিজস্ব কার্যালয়, মুক্তিযুদ্ধের ও স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও দুঃস্থ, অসহায় গরিব মুক্তিযোদ্ধাদের আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির সহযোগিতা--  কিছুই পায়নি তারা স্বাধীনতার এত বছরেও। আগের সব ক্ষমতাসীন সরকার শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তার ওপর গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন (প্রায় সমাপ্ত) ৬০টি দোকান ভেঙ্গে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আয়ের একটি উৎসকে বন্ধ করে দিয়েছে।
জানা যায়, কাপাসিয়া থানার দক্ষিণ পাশে বানারহাওলা মৌজায় ১৯৭৯ সালে জেলা পরিষদের ২৮ শতাংশের একটি মজা পুকুর এবং সরকারি প্রায় ৩০ শতাংশ খাস জমি লিজ নিয়ে সেখানে একটি টিনশেড অফিসঘর নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। পরবর্তী সময়ে ওই কম্পাইন্ডে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে সরকারিভাবে ৯৯ টন চাল বরাদ্দ দিয়ে ওই মজা পুকুর ভরাটের ব্যবস্থা করা হয়। তখন থেকে স্থানটি শত শত বীর মুক্তিযোদ্ধার মিলনকেন্দ্র হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানে প্রতি বছর মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে মেলাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। পুকুরটি ভরাটের পর ওই চত্বরে মাল্টি পারপাস মার্কেট নির্মাণের লক্ষ্যে ভিত্তিপস্তর স্থাপন করা হয়। পরে গত ১/১১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মাণাধীন মার্কেটটি ভেঙে ফেলে। স্থানটি বর্তমানে আবর্জনার স্তুপ ও টেম্পোস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে নেই কোন স্মৃতিস্তম্ভ। যা-ও একটা ছিল তা এখন ভেঙে অযত্নে পড়ে আছে এবং ওই স্মৃতিস্তম্ভটিকে পেছনে ফেলে একটি চায়ের দোকান দেয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা অসম্মান বোধ করছেন।

কাপাসিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বজলুর রশিদ মোল্লা বলেন, অসহায় ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মস্থান ও আয় বৃদ্ধির জন্য মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যকে ৩০ হাজার টাকা করে দিয়ে চত্বরের উত্তর পাশে মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন। ২০০৭ সালে শুরু করে ৬০টি দোকান প্রায় সমাপ্ত করা হয়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মার্কেটের জমির লিজ নবায়ন না করার কারণ দেখিয়ে মার্কেট উচ্ছেদ করে সবগুলো দোকান ভেঙ্গে দেওয়া হয় এবং জমিটুকু জেলা পরিষদ দখলে নেয়। আমরা আমাদের একটি ঠিকানা হিসেবে জায়গাটুকু ফেরৎ চাই।

ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বারিষাব ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. নূর মোহাম্মদ বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও কাপাসিয়ার মত এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো ঠিকানা হলো না। অথচ এখানে স্বাধীন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জন্ম নিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর।

এ প্রসঙ্গে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমি যতদুর জানি, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবিকৃত জমির কিছু অংশ খাস, কিছু অংশ জেলা পরিষদের, কিছু অংশ ভিপি। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো জমি নাই। মুক্তিযোদ্ধারা এক সময়ে এই জমিগুলো লিজ নেয়। পরে লিজ বাতিল হয়ে যায়। আর সরকারি খাস জমি সরকার যে কোনো সময় লিজ বাতিল করে নিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবিকৃত জমির সমাধানে আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. সহিদ খান ও গাজীপুর জেলা প্রশাসক আক্তারুজ্জামানসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এখানে একটি অডিটরিয়াম হবে এবং কিছু দোকান করা হবে। দোকান ও অডিটরিয়াম থেকে লভ্যাংশের ২৫ ভাগ মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু কী কারণে মুক্তিযোদ্ধারা তা মানেনি জানিনা।

এসকল কাজ বাস্তবায়নের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪০ ঘণ্টা, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২
একে

 

বিজয় দিবসের এই বিশেষ আয়োজনের সমন্বয় করেছেন- আহ্‌সান কবীর,আরিফুল ইসলাম আরমান, হাসিবুল হাসান
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: events.bn24@gmail.com, events@banglanews24.com    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান